সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন যে নারী

স্বপন কুমার কুন্ডু ; ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
মাহজেবিন শিরিণ পিয়া শিক্ষানুরাগী ও সমাজ উন্নয়নের একজন রূপকার। নারী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় পাবনা জেলায় ইতোমধ্যেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্র জীবনে ছাত্র লীগ থেকে তাঁর পথচলা শুরু। পাড়া-মহল্লায় যেখানেই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এলাকার জননেতা শামসুর রহমান শরীফের কণ্যা হওয়ার সুবাদে পারিবারিক ভাবেই আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সবসময়ই অগ্রগামী। অসহায় ও নির্যাতিতা নারীদের আশ্রয়দান, শালিসী ও আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থার ব্রত নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন। ২০০৪ সালে দেশ মহিলা উন্নয়ন সমিতি গঠন করে পিয়া দরিদ্র-অসহায়, নির্যাতিতা, যৌতুকের শিকার, তালাকপ্রাপ্তসহ সর্বস্তরের নারীদের সহযোগিতা করছেন। যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এছাড়া বাল্য বিবাহ বন্ধ, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানী প্রতিরোধেও পিয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ পরিবারের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাহজেবিন শিরিণ পিয়া ছাত্রত্ব শেষ করে প্রথমে পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হন। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা জেলা কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। পিয়া আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি মাষ্টার্স ডিগ্রী এবং এল এল বি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। একসময় পিয়া সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত হয়ে পড়েন। তিনি ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের একজন সম্মানিত সদস্য।
১৯৯৮ সালে প্রথম তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে বিপুল ভোট পেলেও বিজয়ী হতে পারেননি। কিন্তু বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হযেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় নারীদের নিয়ে তাঁর কর্মকান্ড আরও বিস্তৃত হয়েছে। বয়স্ক নারীদের ভাতা, বিধবা ভাতা, তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্দ্বি ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য এলাকার নারী সমাজের কাছে পিয়ার অবদানের কথা সবার মূখে মূখে। তাছাড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য সেলাই মেশিন, এমব্রয়ডারী মেশিন প্রদান এবং হস্ত ও কুঠির শিল্পের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও পিয়া অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা, ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী রোধ, শিক্ষাার্থীদের স্কুলের পোশাকসহ শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে তাঁর যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। যেকারণে তিনি পাবনা জেলায় দুইবার এবং রাজশাহী বিভাগে একবার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঈশ্বরদীর বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাথেও জড়িত।
সমাজ ও শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানসহ দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় পিয়া ২০১৫ সালে দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসীন স্বর্ণপদক, মহানায়িকা সূচীত্রা সেন পদক, উত্তম কুমার সম্মাননা পদক এবং বিশ্ব শান্তি পদক লাভ করেছেন। এছাড়া ২০১৬ সালে সমাজ সেবায় অবদানের জন্য জেনারেল ওসমানী স্বর্ণপদক এবং ড: মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ স্বর্ণ পদক অর্জন করেছেন। পিয়ার কাজের স্বীকৃতির কারণে সরকারি খরচে তিনি ইউরোপের কয়েকটি দেশও সফর করেছেন। মফস্বলে নারী উন্নয়নে পিয়ার কাজের পরিধি ও গতি বিরল দৃষ্টান্ত।

পিয়ার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, জাতির জনকের কণ্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। তাঁর কর্মকান্ড আমার প্রেরণার মূল উৎস। আসন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্ততি নিয়ে কাজ করছেন। পিয়া বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শুধু নারী সমাজের উন্নয়নই নয়, দেশ এবং সমাজের উন্নয়নে নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। তিনি আরো জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আমি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ শুরু করেছি এবং বিপুল সাড়াও পাচ্ছি। পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনি বিপুল ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *