সরকারি বিল অবৈধ দখলমুক্ত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০ ০১:০৬

সরকারি বিল অবৈধ দখলমুক্ত

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দীর্ঘ অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে বেদখল হয়ে থাকা সরকারের কড়েহা বিলটি বুধবার(১৭জুন) অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে। গৌরীপুরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার নেতৃত্বে জলমহালটি অবৈধ দখলদার মুক্ত করা হয়। উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের চল্লিশা কড়েহা ও ধেড়োয়া কড়েহা মৌজায় প্রায় ১৩ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই কড়েহা বিলটি, যার সরকারি অংশ ৬.৮৭ একর জায়গা বেদখল ছিল। স্থানীয়ভাবে বিলটি কড়েহা বিল নামে পরিচিত।
গৌরীপুরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা জানান, একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কড়েহা বিলটিতে ১নং খাস খতিয়ানের জমি রয়েছে ৬.৮৭ একর। দীর্ঘ অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারের এ জলমহালটি বেদখল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কিছু অবৈধ দখলদার কর্তৃক বিলটি দখল করে রেখেছে। এ বিষয়ে তিনি নায়েবকে প্রতিবেদন দিতে বলেন। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেখা যায় কড়েহা বিলের ৬একর ৮৭ শতাংশ ভূমি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত রয়েছে। যা মোট ১৮ জন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত জলমহালটি দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অবৈধ দখলদার ১৮ জনকে নোটিশ করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, দখল না ছাড়লে সরকারি নির্দেশ অমান্যর অভিযোগে দ-বিধি ১৮৬০ অনুযায়ী কারাদন্ডে দ-নীয় হবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের এ আদেশ পেয়ে ১৬জন দখল ছেড়ে দেয়। সার্ভেয়ার এবং নায়েব দখল বুঝে নিতে গেলে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হক ও তার ছেলে রফিক এবং আব্দুল লতিফ তাদের বাঁধা দেয় এবং সীমানা নির্ধারণ করার জন্য যে খুঁটিগুলো দেয়া হয় তা উপড়ে ফেলে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নায়েব ও সার্ভেয়ারের যৌথ স্বাক্ষরে এক প্রতিবেদন দাখিল করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে।
যেহেতু একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার আব্দুল রহিমকে বিষয়টি অবগত করা হয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হকসহ আসেন এবং ইউএনও সেঁজুতি ধর শুনানী গ্রহণ করেন। শুনানী শেষে তিনি সরকারের জলমহালটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে রাজি হন। আজ তা বুঝে নিয়ে দখল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তারপর সেটাকে খুব দ্রুতগতিতে সরকারের জলমহালের অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জলমহালটিকে সরকারের ক্যালে-ারভূক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকল জটিলতা পেরিয়ে দক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধরের সার্বিক নির্দেশনায় কড়েহা বিলটিকে উদ্ধার করে সরকারের ভূমি প্রশাসনের আওতাধীন আনা হয়েছে। সরকারের দখল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জলমহাল হিসেবে ৩ বছরের জন্য ইজারা প্রদান করা যাবে ২০২১ সাল হতে। বিলটি উদ্ধারের ফলে সরকারের প্রতি ইজারা থেকে ৩০লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে প্রতিযোগিতাপূর্ণ টেন্ডারে।

এই সংবাদটি 1,239 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •