সাংবাদিকরা এখন হুমকি’র মুখে ……..

ফারুক আহমেদ:

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার বিবেচনা না করেই ৫৭ ধারায় মামলা নেয়া হচ্ছে৷ মামলা হলেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে৷ এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায়৷ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, তা আমি বলছি না৷ তবে হয়রানির জন্য মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এই ধরনের হয়রানির ঘটনা অতীতে এত দেখা যায়নি৷ সম্প্রতি এগুলো অনেক বেড়ে গেছে৷

গত ২০ ডিসেম্বর মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক নিয়ে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী৷ তারা সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং প্রতিবেদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য্যকে হত্যার হুমকি দেয়৷ ওই গোষ্ঠীর বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের উকিল নোটিশও পাঠায়৷

তবে অভিযোগ উঠায় ছাপা হয়ে যাওয়া মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক বাতিল করে সরকার।এতে সরকারের গচ্চা অন্তত ১৫ কোটি টাকা। এর আগে জঙ্গিবাদে উসকানি এবং নারী নেতৃত্ব বিরোধী তথ্য সংবলিত মাদ্রাসার ৮টি পাঠ্যবই বাতিল করা হয়েছে। তাতেও গচ্চা গেছে বিপুল অর্থ। তাও ভালো যে বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর আগেই সেগুলো প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে। তারপরও সরকার সমর্থক ওলামা লীগ ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং প্রতিবেদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য্যর ফাঁসি দাবি করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ  করেছে৷

একই সময়ে ২০১৬ সালের একটি মানহানির মামলায় কোন প্রকার সমন না দিয়ে শ্যামল দত্ত’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাজশাহীর একটি আদালত৷জানা যায় রাজশাহীর ১৪ দলীয় জোটের টানাপোড়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। প্রতিবাদলিপি ছাপাও হয় পরের দিন। তারপরও ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ওয়ার্কার্স পার্টির দুই নেতা মানহানির মামলা দায়ের করেন আদালতে। এ মামলায় আদালত কোন প্রকার সমন জারি না করে একতরফাভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.