সাজানো হচ্ছে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি : কমিটিতে স্থান পেতে দৌড়ঝাপ দিচ্ছেন যারা

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার নতুন কমিটি আসছে। সবার দৃষ্টি বৃহত্তম এ ছাত্র সংগঠনটির শীর্ষ চার পদের জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃত্বে কারা আসছেন?

এ প্রশ্ন এখন শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নয়, জেলা-উপজেলার, থানা,ওয়ার্ড রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে কে আসছেন এ নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা। এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল ঠিক করা হয়েছে। ৪ঠা জানুয়ারী ছাত্রলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মার্চে ছাত্রলীগের সম্মেলন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১২ জানুয়ারী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় দুই দিনব্যাপী ২৯তম এ সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনের আগে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সিলেট জেলায় দলীয় কোন্দলে সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যার পর ‘শাস্তি’ হিসেবে কেন্দ্র ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও খুনাখুনির ঘটনায় গত ৭ বছরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি আরও দুই বার বিলুপ্ত হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহরিয়ার আলম সামাদ ও এম রায়হান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সিলেট জেলা কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। সিলেট মহানগর ২০১৫ সালের ৪ জুলাই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। জাকঝমক পূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে কাউন্সিল ছাড়াই শেষ হয় মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের ১৫ দিন পর ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই ১ বছরের জন্য আবদুল বাছিত রুম্মানকে সভাপতি ও আবদুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্য করে কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটির অন্য দুইজন সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন সজল দাশ অনিক ও সৈকত চন্দ্র রিমি। এ সময় কমিটিকে খুব শ্রীগ্রই পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু কমিটি ঘোষণার প্রায় তিন বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের দায়ীত্বপ্রাপ্তরা। কমিটিতে দায়িত্বশীল পদে আসতে একাধিক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কাঙ্খিত পদ পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পদ-প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারা।

আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অবলম্বন করছেন ভিন্ন ভিন্ন কৌশল। চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন বলয়ের কর্মীরা। এদিকে জেলা কমিটিতে বেশ কয়েক জন সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে জোর তদবির করে যাচ্ছেন।তাদের মধ্যে বিপ্লব কান্তি দাস, অনিরুদ্ধ মজুমদার পলাশ, কনক পাল অরুপ, নাজমুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাউদ্দিন পারভেজ, শাক্কুর আহমদ জনি, জাওয়াদ খান,মুহিবুর রহমান,দেলোয়ার হোসেন দিলাল,নুরুল হোসেন নুরু সহ কয়েক জনের নাম বেশ জোরেস্বরেই শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন সজল দাস অনিক, আমির হোসেন, এম.ছাব্বির আহমদ, হোসাইন মুহাম্মদ সাগর,রাজেশ সরকার,শাহিদ অপু, জুবায়ের আহমেদ।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান জানান, শীঘ্রই পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে তবে কবে নাগাদ কমিতির ঘোষনা আসবে এ ব্যাপারে কোন কিছু বলতে রাজি হন নি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.