সিআইপি অভ্যন্তরীন নদী ও খালগুলো অবৈধভাবে দখল হচ্ছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টো ২০২০ ০৬:১০

সিআইপি অভ্যন্তরীন নদী ও খালগুলো অবৈধভাবে দখল হচ্ছে

নূরুল ইসলাম ফরহাদ :
সিআইপি অভ্যন্তরীন বিশেষ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলার খালগুলো দিন দিন অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। সে দিকে কর্তৃপক্ষসহ কারোরেই নজর নেই। খাল দখল তথায় ভরাট হলে অশান্তি বাড়বে সর্বসাধারণের। খাল বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, ফরিদগঞ্জ বাঁচবে। আর ফরিদগঞ্জ বাঁচলে এ অঞ্চলের বসতী বাঁচবে। আস্তে আস্তে, নিরবে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। ওয়াপদা কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন ফরিদগঞ্জের কেউ নয়। তারা আজ আছে তো কাল নেই। সে অর্থে তাদের তেমন কোনো ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে না। ক্ষতির সম্মুখিন অথবা অশান্তির পুরোটাই এ অঞ্চলে বসবাসকারী এবং পরবর্তী প্রজন্মকে ভোগ করতে হবে। তার মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা হচ্ছে।
এ যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মতো,‘আমি যেনে শুনে বিষ করেছি পান’। একটু চিন্তা করলে দেখতে পাবো ঠিকই উপজেলাবাসী বিষ পান করছে। যে বিষ মানুষকে হঠাৎ না মেরে আস্তে আস্তে শেষ করে দিচ্ছে। যে বিষ মানুষকে ক্যা¯œারের মতো তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। ১০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ দ্বারা সংরক্ষিত চাঁদপুর ও লক্ষীপুর জেলার ৫৭ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়ে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বিস্তৃত। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলার অংশ ৩১,৩০০ হেক্টর। এর মধ্যে অধিকাংশই ফরিদগঞ্জ উপজেলার। ১৯৬৫ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২ ধপায় কাজ বন্ধ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে পুনরায় কাজ শুরু করে ১৯৭৮ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
একসময় ফরিদগঞ্জে জালের মতো ছড়িয়ে ছিলো বহু খাল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অবহেলায়, নজরদারীর অভাবে বহু খাল দখল হয়ে গেছে। বিগত তিন মাস সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়েও জানতে পারলাম না, এক সময় ফরিদগঞ্জে কতটি খাল ছিলো। এখন কয়টি খাল কোনোমতে বেঁচে আছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দু’য়েকটি স্থানে নদী এবং খাল দখলমুক্ত করা হলেও আবারো দখল হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে। মূলত স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব খাল দখল করছে। তারা পরিবেশ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় আনছে না। এটাও ভাবছে না যে, সবার দুর্ভোগ মানে তাদেরও দুর্ভোগ। তাই এখনই সময় দখল হয়ে যাওয়া খাল গুলো উদ্ধার করা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় সবগুলো ইউনিয়নে খাল ও নদী দখল হচ্ছে। এযেন খাল দখলের মহাউৎসব চলছে। প্রতিযোগিতা দিয়ে খাল এবং নদী দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বহুতল ভবনও করছে। এযেন জোর যার মুলুক তার। সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের সর্বোচ্ছ প্রদর্শন চলছে ফরিদগঞ্জ। কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। অথবা অসহায়। কেউ কেউ এমনও দৃষ্টতা দেখাচ্ছে যে, আগে ছিলো বাঁশ- মুলির স্থাপনা। পত্রিকা প্রকাশের পর ওয়াপদার ব্যবস্থা গ্রহণের ঠিক কয়েকদিন পরেই সেখানে স্থায়ী অর্থাৎ ইটের দালান গড়ে তুলেছে। এ সব দখলদারদের খুঁটির জোর কোথায়? উপজেলা জুড়ে সচেতন মহলের এমনই প্রশ্ন। অধিকাংশ দখলকৃত স্থানে দোকান ঘর করছে। কিছু করছে সমিতিসহ অন্যান্য অফিস। আবার কেউ কেউ খাল দখল করে নামাজের স্থানও গড়ে তুলছে। বিষয়টি কতটুকু ধর্মীয় দিক থেকে সঠিক হচ্ছে তা চিন্তা না করেই গড়ে তুলছে এসব স্থাপনা। আবার কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে নামাজের স্থান করে পরবর্তীতে পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে।
উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের চান্দ্রা বাজারের প্রবেশমুখ কলেজ রোড হয়ে পূর্ব বাজার নদীর উত্তর পাড় বেশিরভাগ দখল হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। সেকদী রাস্তার প্রবেশ মুখ খালের দক্ষিণ পাড় বেশির ভাগ দখল। ২নং বালিথুবায় বালুথুবা বাজার এবং সরখাল এলাকার কাজী বাড়ির সামনের খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৩নং সুবিদপুরে বাশারা বাজার খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। লক্ষীপুর চৌরাস্তায় এবং আনন্দ বাজারে খালের উপর দোকানপাঠ গড়ে উঠেছে। ৪নং সুবিদপুরে নদী ও খাল দখল করে কামতা বাজার গড়ে উঠেছে। কামতা বাজারের পশ্চিম মাথায় খাল এবং পূর্ব মাথায় নদী দখল হয়ে আছে দীর্ঘ বছর। ৫নং গুপ্টিতে আষ্টা বাজারের অধিকাংশ দোকান খালের উপর। গল্লাক বাজারের বেশ কিছু স্থাপনা ডাকাতিয়া নদীর পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে। ৬নং গুপ্টিতে খাজুরিয়া বাজার পূর্ব এবং পশ্চিম মাথায় খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৭নং পাইকপাড়ায় চৌরঙ্গী বাজার, পাইকপাড়া চৌরাস্তা, আমিরা বাজারের দক্ষিণ পাশে খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৮নং পাইকপাড়ায় কড়ৈতলী চৌরাস্তা থেকে কড়ৈতলী বাজারমুখী রাস্তার উত্তর পাশের অধিকাংশ দখল। এছাড়াও বটতলী ও দায়চারা এলাকায় খাল দখল করে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। ৯নং গোবিন্দপুরে উত্তর ধানুয়া ৩নং ওয়ার্ডের স্কীম, খাল ভরাটের কারণে ১৫ বছর ধরে বন্ধ। দাস বাড়ী সংলগ্ন খালও দখল হয়ে গেছে। ১০নং গোবিন্দপুরে গোয়াল ভাওর বাজারেও দখল সংস্কৃতি চালু রয়েছে। ১১নং চরদুঃখিয়ায় আলোনিয়া গুদারাঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদী দখল করে বহু স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ১২নং চরদুঃখিয়ায় ফিরোজপুর বাজার, বিরামপুর বাজার, গলাকাটা বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে খাল ও নদী দখল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণে কালিরবাজারের দক্ষিণ মাথায় নদী, রমজান আলীর হাজী বাড়ির সামনে খালের উপর, চর বড়ালী বটতলায় ও নুরু চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে খালের উপর স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ১৫নং রূপসা উত্তরে রূপসা বাজার, গাব্দেরগাঁও, বদরপুর, বারপাইকা, মালের ভাংতিসহ বহু এলাকায় খাল দখল করে রেখেছে স্থানীয়রা। চতুরা খাল থেকে পৌরসভা ১৫নং ইউনিয়ন সীমান্ত খালের দক্ষিণ গাব্দের গাঁও অংশের বেশ কিছু অংশ ভরাট করে ফেলছে স্থানীয়রা। খালের সে অংশ এখন কৃষি জমি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ১৬নং রূপসা দক্ষিণে বর্ডার বাজার, গঙ্গাজলী খাল দখল করে বহুতল ভবনও তৈরী হচ্ছে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদী, চতুরা খাল, মিরপুর খাল দখল হয়ে আছে বহু বছর ধরে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সামাধান দেখছেননা সচেতন মহল। এ বিষয় নিয়ে যারা চিন্তা করছেন, তারা ফরিদগঞ্জকে বাঁচাতে অতি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তেক্ষেপ কামনা করছেন।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •