Sun. Aug 25th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

সিলেটে জমে উঠেনি পশুর হাট : বেপরোয়া চাঁদাবাজরা, অবৈধ হাটের আশঙ্কা

1 min read

প্রতিদিন প্রতিবেদক::

 

মুসলিম ধর্মাবলম্বিদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। আর মাত্র ৫ দিন পরে ১২ জুলাই পালন করা হবে ধর্মীয় এ উৎসব। ঈদকে সামনে রেখে নগরীর প্রধান ও স্থায়ী হাট কাজিরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসানো হলেও এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি ঈদ বাজার। কাজির বাজার স্থায়ী হাট হওয়ায় সারা বছরই গরু বিক্রি করা হয়ে থাকে। কোরবানির ঈদ আসার পূর্বেই প্রস্তুতি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এসময় উত্তরবঙ্গ থেকে গরু আসে বেশি। এবার কাজির বাজারে উত্তর বঙ্গ থেকে তেমন গরু আসেনি, দেশি গরুই বিক্রি হচ্ছে।

 

সিলেট নগর ও সদরে এবার ৭টি বৈধ পশুর হাট বসছে। তার মধ্যে স্থায়ী হাট হলো কাজিরবাজার, আর লালদিঘীরপাড় ও টিলাগড় পয়েন্টে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুটি হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। আর নগরের বাইরে শাহী ঈদগাহ, লাক্কাতুড়া, শাহপরান ও টুকেরবাজার এলাকায় আরো চারটি বৈধ হাট বসছে। এই হাটগুলো ইজারা দিচ্ছে সিলেট সদর উপজেলা। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা মিলিয়ে মোট ৭টি বৈধ হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে।

 

তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারও অবৈধ হাটের ছড়াছড়ি দেখা দিতে পারে। প্রতি বছর কোরবানীর ঈদ এলেই নগরীর আনাচে কানাচে অবৈধ পশুর হাট বসে। সিলেটের প্রবেশমূখ দক্ষিন সুরমার চন্ডিপুল, শহরতলির শাহপরান গেট, টিবি গেট, মালনিছড়া বাগান, মাছিমপুর, সুবিদবাজার, বাগবাড়ী, আখালিয়া এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব হাট বসে বলে জানা যায়। এবারও পশু ব্যবসায়ীরা অবৈধ হাট বসার আশঙ্কায় আছেন। কেননা- বাজারজুড়ে পশু কেনাবেচা শুরু না হলেও ইতোমধ্যে সিলেটের রাবার বাগানে অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ হাট বসানোর জন্য নানা ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে দেখা যায়।

 

সিলেটের সর্ববৃহৎ পশুর হাট কাজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, সিলেটের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এবার গরু খুবই কম আসছে। সিলেট বিভাগের বন্যা কবলিত এলাকা সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে পশু নিয়ে আসতে পারছেন না বিক্রেতারা। তাই এবার দেশী ছোট গরুর সংখ্যা কম। বিগত বছর গুলোতে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রায় এক সপ্তাহ আগ থেকে বাজার জমে উঠতো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা এখন পযন্ত তুলনামূলক কম, ক্রেতা সাধারনের উপস্থিতি কম। তবে দাম প্রচন্ড চড়া। বিক্রেতারা আশা করছেন শেষ দু-দিনে পশুর হাট জমে উঠবে।

 

কাজিরবাজার প্রধান পশুর হাটের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এবারও সিলেটের বাইরের পাইকাররা কাজিরবাজারে গরু বোঝাই ট্রাক নিয়ে আসতে শুরু করেছেন।

বাজারে আসা এক ব্যাপারী জানান, সিলেটের বাইরে বা উত্তরবঙ্গ থেকে তারা ট্রাকযোগে পশু নিয়ে এসেছেন কাজিরবাজার হাটে। তবে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়েছে। চাঁদাবাজির কারণে তারা ট্রাকযোগে গরু নিয়ে আসতে আসতেই দাম বেশি পড়ে যায়।

 

ওই ব্যবসায়ী জানান, পথে পথে চাঁদা দিতে দিতে গরুর দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া কাজিরবাজার হাটে গরু নিয়ে আসার পর জায়গার ভাড়া বাবত ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য বাবত আরো ১৩ হাজার টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে কোরবানী ঈদে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন কাজির বাজার হাটের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন লোলন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দূরদূরান্ত থেকে গরু আসতে শুরু হয়েছে। এখন বেচা কেনা কম হলেও ঈদের আগে জমে উঠবে ঈদ বাজার।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA