সিলেটে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ শহরছাড়া!

আচরণ বিধি লঙ্ঘন হবে এমন ভয়ে, নির্বাচনী সভা-সমাবেশ শহর ছেড়ে শহরতলীর দিকে ছুটছে। পরপর দুই দিন আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই সভার আয়োজন করেছেন শহরের বাইরে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার প্রচারণা চালাতে পারবেন না প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ। সভা-সমাবেশ আয়োজনেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সেকারণেই উভয় দল সভা আয়োজন করেছেন শহর ছাড়িয়ে।

 

এর আগে শহরের ভেতরই নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম কর্মসূচী পালন করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত উভয় প্রার্থী। আবার অভিযোগও দায়ের করেছেন একে অন্যের বিরুদ্ধে।

 

বিএনপির অভিযোগ, ‘মনোনয়নপত্র জমা প্রদানের পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে তাঁর স্ত্রী-পুত্র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।’

 

আবার একই রকম অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীও। ‘সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও তার দলের লোকজন আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন’ অভিযোগ আওয়ামী লীগের।

 

এমন অবস্থায় রিটার্নিং কর্মকর্তা উভয় প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেবার কথা জানান। কিন্তু তারপরেও থামেনি দুই দলের কারোরই আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা। দুই রাজনৈতিক দলই নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজন করেছেন বিশেষ বর্ধিত সভা।

বুধবার (২ জুলাই) জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় সিলেট নগরীর বাইরে দক্ষিণ সুরমায়। একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় জেলা মহানগরের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। কেন্দ্রীয় নেতারাসহ স্থানীয় নেতারাও কথা বলেছেন শুধুই নির্বাচন নিয়েই। শহরের বাইরে কেনো? এমন প্রশ্নে কোনো রাখঢাক না রেখেই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণ বিধির প্রতি সম্মান জানিয়েই শহরের বাইরে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে। আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’

 

 

একইরকমভাবে বিএনপিও কর্মীসভার আয়োজন করেছে, তাও হয়েছে নগরীর বাইরে। কারণও একই। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) শহরতলীর খাদিম নগরে আয়োজিত কর্মীসভায়ও সব বক্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ একটাই; সিটি নির্বাচন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানালেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সভা করায় নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন নির্বাচনী বিধির জন্যই শহরের বাইরে সভা করা। আওয়ামী লীগের অভিযোগের কারণে এমনটা করেছেন কিনা জানতে চাইলে আলী আহমদ বলেন, বিএনপি সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হবে এমন কোনো কাজ আমরা করবো না।’

 

তবে মুখে যাই বলুন না কেনো, প্রচারণায় কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই, মতবিনিময়, কুশল বিনিময়, কর্মীসভার আড়ালে চলছে প্রচারণা। এটাও যে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন তা মানতে নারাজ দুপক্ষই।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের বাইরে কি করলো না করলো সেটা তাঁর দেখার ব্যাপার নয়। সিটি করপোরেশন এলাকায় হলে তারাঁ দেখবেন। সিটির বাইরে সভা করে প্রচারণা করা যায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি আবারো বলেন, সিটির বাইরে আমার দেখার বিষয় না।

 

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা স্রেফ জনগণের সাথে প্রতারণা। সিটি এলাকার বাইরে সভা করলেই সেটা বিধিসম্মত হয়ে যায়না। সভাগুলোতে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে যা সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমরা বড়দলগুলোর কাছে আরো সংযত আচরণ আশা করি।’ এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রহস্যজনকভাবে নিরব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ না পেলে কিছু করেন না আবার পত্রিকার রিপোর্ট দেখে জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ করলেন, এটা দ্বিমুখী আচরণ। এর থেকে সরে এসে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ।’

 

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম বলেন, ‘বড় দলগুলো নির্বাচনী বিধি মেনে চলছেন শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু বড় বড় সভাগুলো সিটি এলাকার বাইরে করলেও ঘরোয়া মিটিং ও ছোট ছোট গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রেও আচরণ বিধি মেনে চলা উচিৎ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.