সিলেটে হাঁস পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন আলেছা

 

জুবেল আহমদ সেকেল,সিলেট থেকে
অভাব আর অনটনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে যখন পরাজয়ের পথে ঠিক তখনই জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবার আখাংকা। দৃঢ় মনোবল এবং অদম্য চেষ্টার ফলে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছন তিনি। ২ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে হত দরিদ্র স্বামী যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিক সেই সময় হাঁস পালন করে জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়ে স্ববলম্বী হয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউপির রহমতপুর গ্রামের কৃষক রাহিদ মিয়ার স্ত্রী আলেছা বেগম(৪৫)। আলেছা বেগমের জীবন যুদ্ধে জয়ী হবার সহযাত্রী হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলো এনজিও সংস্থা মুসলিম এইড ইউকে।
এনজিও সংস্থা মুসলিম এইড ইউকে’র স্থানীয় অফিস থেকে কয়েক কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে শুরু করেন হাঁসের খামার। ভাগ্য বিপর্যয়ে চরম হতাশা অভাব অনটন আর দূর্ভোগের পরেও কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে পালন করতে থাকেন হাঁস।
ধীরে ধীরে আসতে থাকে হাঁসের খামার থেকে সফলতা। আর এক পর্যায়ে দরিদ্রকে পরাজিত করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেন আলেছা বেগম।
সরেজমিনে আলেছা বেগমের হাঁসের খামার পরিদর্শন কালে তিনি জানান, তার খামারে বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা ৬শ’ ৬০টি। শুধু দেখ ভাল করার মধ্য দিয়ে হাওরের জল-প্রকৃতিতে বেড়ে উঠছে হাঁস। বর্ষা মৌসুমে হাঁস পালন করতে বাড়তি কোনো খরচ হয় না। কারন প্রাকৃতিক জলাভূমি থেকে হাঁস খাদ্য সংগ্রহ করে খায়। জলাভূমির শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। তাই খাদ্যের জন্য চিন্তা করতে হয় না জলাভূমিতে যে কয়েক মাস পানি থাকে। শুষ্ক মৌসুমে শুধু হাঁস বাড়িতে পালন করতে হয়। আর তখন খামারে হাঁসের খাদ্য দিতে কিছুটা খরচ হয়। বর্তমানে তার খামারে হাঁস প্রতি দিন ৭০ থেকে ৯০টি ডিম দিচ্ছে। আগামী কার্তিক মাস থেকে তার হাঁস ৬ মাসে অন্তত প্রতিদিন ৫শত থেকে ৬শত ডিম দেবে। তিনি নিজের সামন্য পুজি এবং মুসলিম এইড ইউকে’র কাছ থেকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন হাঁসের খামার এভাবে চার বারে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৬শত ৬০টি হাঁস নিয়ে খামার গড়ে তুলেন। দু’বছরের মাথায় এনজিও সংস্থার ঋণ শোধ করে এখন তিনি নিজস্ব পুজির মালিক। বর্তমানে তার হাঁসের বাজার মূল্যে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। তিনি হাঁসের ডিম ও হাঁস বিক্রির একটি অংশের টাকা সঞ্চয় করছেন।
খামারের আয় থেকে ইতিমধ্যে মধ্যে পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। অন্যরা পড়া লেখার পাশাপাশি হাঁস পালনে তাকে সাহয্যে করে।
মুসলিম এইড ইউকে উপজেলার বুরুঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল করিম বলেন, আলেছা বেগম আমাদের অফিস থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০ হাজার ঠাকা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে হাঁসের খামার গড়ে এখন তিনি স্বাবলম্বী। সংস্থার টাকা শোধ করে তিনি এখন এই সংস্থাই সঞ্চয় করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.