Sun. Sep 22nd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

সূরা আল ফাতিহার গুরুত্ব ও উপকারিতা

1 min read

সূরা আল ফাতিহা পবিত্র কোরআনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূরা। প্রথমত, এই সূরা দ্বারাই পবিত্র কোরআন শুরু হয়েছে এবং এই সূরা দিয়েই আমাদের নামাজ শুরু করতে হয়।

 

অবতীর্ণ হওয়ার দিক দিয়েও পূর্ণাঙ্গরূপে এটিই প্রথম নাজিল হয়। সূরা ইকরা, সূরা মুজাম্মিল ও সূরা মুদাসসিরের কয়েকটি আয়াত অবশ্য সূরা আল ফাতিহার আগে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু পূর্ণ সূরারূপে ফাতিহাই সর্বপ্রথম।

 

অসংখ্য সাহাবি কর্তৃক বর্ণিত যে, এ সূরাই সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সূরা, আর এ কারণেই এ সূরার নাম ফাতিহাতুল কিতাব বা কোরআনের উপক্রমণিকা রাখা হয়েছে। সূরাতুল ফাতিহা মক্কায় অবতীর্ণ। এতে মোট সাতটি আয়াত আছে। এই সূরার ফায়দা ও উপকারিতা এবং বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য করে এর বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো-

 

 

 

(১) আল ফাতিহা : যেহেতু এ সূরা দিয়ে কোরআন শুরু হয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ এই সূরা দিয়ে শুরু হয়। তাই সূরার নাম সূরাতুল ফাতিহা।

 

(২) উম্মুল কিতাব : পূর্ণ কোরআনের আলোচ্য বিষয় তথা সারসংপে এই সূরার মধ্যে নিহিত বিধায় এই সূরার নাম উম্মুল কোরআন রাখা হয়েছে।

 

(৩) আস শাফিয়া : যেহেতু এ সূরা দ্বারা সব রোগের চিকিৎসা করা হয়, তাই এর একটি নাম হলো সূরাতুস শাফিয়া। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, সূরা ফাতিহা সব রোগের ওষুধ।

 

এ ছাড়াও এই সূরার আরো কিছু নাম: আল ওয়াফিয়া, আল কাফিয়া, আল আসাস, আল হামদ, আদদুয়া।

 

সূরা ফাতিহা এদিক দিয়ে সমগ্র কোরআনের সারসংক্ষেপ। এ সূরায় সমগ্র কোরআনের সারমর্ম সংপ্তিাকারে বলে দেয়া হয়েছে। কোরআনের অন্য সূরাগুলোতে প্রকারান্তরে সূরা ফাতিহারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। কারণ সমগ্র কোরআন প্রধানত ঈমান এবং নেক আমলের আলোচনাতেই কেন্দ্রীভূত। আর এ দু’টি বিষয়েই সূরা ফাতিহায় আলোচনা করা হয়েছে।

 

 

 

আর এই সূরা কোরআনুল কারিমের শুরুতে আনার আরো একটি কারণ হলো, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতকারী তার অতীতের সব ভুল ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে মহান আল্লাহর সঙ্গে কথা বলবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে যে, তিনি যেন তাকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ দান করেন। সর্বপ্রকার গোমরাহি ও ভ্রান্ত মতবাদ থেকে মুক্ত করে তার প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করেন, যা একজন মানুষের জীবনের চরম ও পরম চাওয়া।

উবাই ইবনে কাব (রা.) তিনি একবার রাসূল (সা.) এর কাছে সূরা ফাতিহা পড়লেন, যা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, ‘ওই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে তাওরাত, ইনজিল, জাবুর, এমনকি কোরআনেও এর মতো মর্যাদাশীল সূরা নেই।’ (মুসনাদে আহমদ)।

 

নামাজ আদায় করতে হলেই সূরা ফাতিহা প্রতি রাকাতে আমাদের আবশ্যিকভাবে পাঠ করতে হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজে আমরা সতেরো বার সূরা ফাতিহা পাঠ করি।

 

 

 

এখানে সূরা ফাতিহার বিবিধ গুরুত্ব থেকে সংক্ষেপে সাতটি বিষয় আলোচনা করা হলো।

 

(১) কোরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা:

হজরত আবু সাইদ আল-মুয়াল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি একবার নামাজ আদায় করছিলাম। রাসূল (সা.) তখন আমাকে ডাকলেন, কিন্তু নামাজে থাকায় আমি তার ডাকের সাড়া দিতে পারিনি। পরে আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি নামাজে ছিলাম।’

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ কী বলেননি, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের আহ্বান করেন।’ (সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪)।

 

অতপর তিনি বলেন, ‘আমি কী তোমাকে কোরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি শেখাবো না? (এটি হলো) ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’, যার সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত রয়েছে।’ (বুখারী)।

 

 

 

(২) নামাজের স্তম্ভ:

হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে তার নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ করলো না, তার নামাজ বাতিল।’ (বুখারী)।

 

(৩) কোরআনের মা:

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন সূরাটি কোরআনের মা।’ (তিরমিজি)।

 

(৪) রোগের আরোগ্য দানকারী:

একবার রাসূল (সা.) এর এক সাহাবী বিচ্ছুর দংশনে সূরা ফাতিহা পড়ে ফু দিচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তখন বললেন, ‘তুমি কীভাবে জানলে এটি রুকিয়া (আরোগ্য দানকারী)?’ (বুখারী)।

 

(৫) আকাশ থেকে প্রেরিত আলো:

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার জিবরাইল (আ.) রাসূল (সা.) এর কাছে থাকার সময় বিকট এক আওয়াজ হলো। জিবরাইল (আ.) তখন তার মাথা উপরে তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এটি আকাশের একটি দরজা কিন্তু এর আগে এটি কখনোই খোলা হয়নি।’ এরপর সেই খোলা দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা নিচে নেমে রাসূল (সা.) এর কাছে এলেন এবং বললেন, ‘আপনাকে প্রদত্ত দুইটি আলোর সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনার আগে কোনো নবীকেই দেয়া হয়নি। এই গ্রন্থের সূচনা (সূরা ফাতিহা) ও সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ। কোনো প্রকারে উপকার পাওয়া ছাড়া আপনি এগুলো থেকে একটি অক্ষরও পাঠ করবেন না।’ (মুসলিম)

 

(৬) বারবার পঠিতব্য আয়াত:

পবিত্র কোরআন কারীমে বলা হয়েছে, ‘আমি আপনাক

 

(৭) অন্তরের আরোগ্য দানকারী:

পবিত্র কোরআনের এই সূরার শেষের দিকে পথভ্রষ্টতা ও আল্লাহর অভিশাপ থেকে রক্ষার জন্য দোয়া করা হয়েছে। সচেতনভাবে কেউ তা পাঠ করলে সে তার হৃদয়কে পাপ থেকে দূরে রাখতে পারে।

 

 

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA