শরণখোলায় ধান ক্ষেতে কারেন্ট ও লেদা পোকার আক্রমন

প্রকাশিত:শনিবার, ২১ নভে ২০২০ ১২:১১

শরণখোলায় ধান ক্ষেতে কারেন্ট ও লেদা পোকার আক্রমন

 

শরণখোলা (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের শরণখোলায় হাজার হাজার একর আমনের ক্ষেত ধ্বংস করছে কারেন্ট পোকা ও লেদা পোকায়। মাঠের দিকে তাকালে মনে হবে যেনো পুড়ে গেছে সমস্ত ফসল। একের পর এক দুর্যোগ মোকাবেলা করে ফসল ফলিয়ে শেষ মুহূর্তে মাঠের এমন চিত্র দেখে আকাশ ভেঙে পড়েছে কৃষকের মাথায়। পোকার আক্রমনে বিবর্ণ হয়ে গেছে কৃষকের সব স্বপ্ন-আশা।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের অভিযোগ, মাঠের পর মাঠ আমন ফসল পোকায় ধ্বংস করলেও কৃষি বিভাগের কোনো লোক মাঠে নেই। কিভাবে ফসল রক্ষা করবে সেই পরামর্শও পাচ্ছেনা তারা। এতে আরো হতাশ হয়ে পড়ছে চাষীরা।
তবে, পোকার ব্যাপক আক্রমনের কথা শিকার করতে নারাজ কৃষি বিভাগ। তারা বলছে সামান্য কিছু এলাকায় পোকায় আক্রমন করেছে। তারা সার্বক্ষণিক মাঠ তদারকি এবং চাষীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (২১নভেম্বর) উপজেলা বিভিন্ন এলাকার আমনের মাঠ ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুরাবস্থা কথা। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সব এলাকাতেই আমনের ফসলে কারেন্ট পোকা ও লেদা পোকার আক্রমনের খবর পাওয়া গেছে।
রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রমের চাষী নজরুল ইসলাম (৪৫) জানান, গাছে শীষ আসার পর পরই ছোট ছোট পোকায় গাছের রস খেয়ে ফেলে। গোড়া পঁচে গাছ মাটিতে নুয়ে পড়ছে। এতে গাছ দুর্বল হয়ে সমস্ত ধান চিটা হয়ে গেছে। এছাড়া, ধান যখন সোনালী বর্ণ হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই আবার লেদা পোকার উপদ্রব দেখা দেয়। লেদা পোকায় সমস্ত শীষ কেটে ফেলছে।
উত্তর কদমতলা গ্রামের চাষী বাদশা আকন (৫৫) জানান, তিনি ৮বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার সমস্ত ফসলেই কারেন্ট ও লেদা পোকায় আক্রমন করেছে। সমস্ত ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে নির্ধারিত সময়ের ১৫দিন আগেই বাধ্য হয়ে এখন কাচা ধান কাটতে হচ্ছে তাকে।
আদর্শ চাষী হিসেবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কয়েকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত পশ্চিম কদমতলা গ্রামের চাষী আ. হালিম আকন (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, মাঠের সমস্ত ফসল পোকায় ধ্বংস করে ফেলছে, অথচ কৃষি বিভাগের কোনো লোক এখন পর্যন্ত খোঁজ নেয়নি। অফিসে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়না। আমরা ফসল রক্ষায় সঠিক পরামর্শ পাচ্ছি না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলা এবছর পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে উফশী জাতের এবং চার হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১৪হাজারের বেশি চাষী এই ফসল চাষাবাদ করেছেন।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসীম উদ্দিন বলেন, আমিসহ আমার মাঠ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছি। পোকা দমনে পরার্শ দেওয়ার পাশাপাশি করণীয় বিষয়ে লিফলেট ও এলাকায় মাইকিং করে চাষীদের সতর্ক করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ