সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ

ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের বয়স মাত্র ১৯ বছর। তার সমান বয়সী ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড এমবাপে। ২১ বছর বয়স ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার দুয়ে সালেতেসার ও বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি তিয়েলম্যান্সের। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৩ বছর বয়স ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবসিচ ও ফ্রান্সের গোলরক্ষক স্টিভ মান্দাদার। এ কয় ফুটবলারের বয়স আসলে প্রতীকী। চার দলই এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে। ৩২ দলের লড়াইয়ে এখন সেই তারুণ্যের জয়জয়কার রাশিয়ায়।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে টপ ফেভারিটদের তালিকায় থাকা দলগুলো এখন ঘরে ফিরে গেছে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শুরুর আগে যে চার তারকা নিয়ে বেশি আলোচনা ছিল বিশ্বজুড়ে; সেই মেসি, নেইমার, রোনালদো আর মোহাম্মেদ সালাহরা এখন শুধুই দর্শক। রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল দুনিয়াকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে- একজন নির্ভর হয়ে বেশিদূর যাওয়া যায় না। যেতে পারেনি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল আর মিসর।

 

 

 

পুরো দল হিসেবে যারা এই বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছে তারাই এখন টিকে আছে বীরদর্পে। এখনই নয়, চোখ আগামীতে- এই মন্ত্রে যারা দল গড়েছে তাদের চারটিই রয়ে গেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদার আসরের শেষ চারে। যা এখন আর ফুটবল পণ্ডিতদের বিশ্লেষণের খাতায় নয়, বাস্তবতার জমিনে।

 

ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নেয়া আছে। বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার সামনে ইতিহাসের হাতছানি। কাগজ-কলমে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখলেও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে বেলজিয়াম-ক্রোয়েশিয়া প্রমাণ করেছে তাদের সমীহ করেই নামতে হবে প্রতিপক্ষকে। সেমিফাইনালের লাইনআপটা এমন হয়েছে যে, আগে বিশ্বকাপ যেতা দুই দলের যেমন ফাইনালে ওঠার সুযোগ আছে, তেমন শঙ্কা আছে শেষ চার থেকেই বিদায় নেয়ারও।

 

আবার দুই নতুনের লড়াইয়েরও সুযোগ আছে ট্রফি জয়ের। এখন দেখার বিষয় অতীত নাকি বর্তমানের জয় হবে রাশিয়া বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেক ফুটবলবোদ্ধা অবশ্য বেলজিয়ামের নাম রেখেছিল ফেভারিটদের নিচের দিকের তালিকায়। দলটি সঠিক ট্র্যাকেই আছে। ক্রোয়েশিয়া আলোচনায় ছিল না। তারা পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় এসেছে। ফ্রান্স-ইংল্যান্ড সব সময়ই গণনার মধ্যে থাকে বিশ্বকাপে।

 

 

 

যাদের গায়ে লেগে ছিল ‘বুড়োদের দলের’ সিল। তারা বিশ্রামে চলে গেছে। ৩২ দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯.৬ বছর গড় বয়স ছিল কোস্টারিকার। দুইয়ে ছিল মেক্সিকো। যাদের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৯.৪ বছর। তিন নম্বরে থাকা মেসিরা (২৯.৩ বছর) আর ৮ নম্বরে থাকা ব্রাজিল (২৮.৬ বছর) এখন এই বিশ্বকাপের অতীত। যে চারটি দল টিকে আছে সেমিফাইনালে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম গড় বয়স ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের (২৬.০ বছর)।

 

৩২ দলের মধ্যে নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়দের সবচেয়ে কম গড় বয়স ছিল ২৫.৯ বছর। তারপর ইংল্যান্ড, ২৬.০ বছর। ফ্রান্স ফুটবল দলের গড় বয়সও তাই। বেলজিয়াম ফুটবল দলকে আগে থেকেই বলা হয়েছে সোনালি প্রজন্ম। এই দলের অনেক খেলোয়াড় আগের বিশ্বকাপের দলে থাকলেও তাদের গড় বয়স ২৭.৬ বছর। ক্রোয়েশিয়ার একটু বেশি, ২৭.৯ বছর।

 

খেলোয়াড়দের বায়োডাটার দিকে তাকালেই পরিষ্কার সেমিফাইনালে ওঠা চার দল তরুণ ফুটবলারের প্রাধান্য নিয়েই রাশিয়া এসেছে। এই সোনালি প্রজন্মের কাছে দেশের মানুষের চাওয়া ছিল আগামীতে বড় কিছু। কিন্তু তারা তারুণ্যের জয়োগানে রাশিয়াতেই বিপ্লব ঘটিয়েছে। তারুণ্যের জোয়ারে নৌকা ভাসিয়ে দেশে ট্রফি নিয়ে যাবে এই চার দলেরই একটি। যারাই জিতুক ট্রফি, সোনালি প্রজন্মেরই হয়ে থাকবে রাশিয়া বিশ্বকাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *