স্কলার্সহোম সিলেটের টিউশনন ফি পরিশোধ প্রসঙ্গে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০ ০২:০৬

স্কলার্সহোম সিলেটের টিউশনন ফি পরিশোধ প্রসঙ্গে

আজমীর আহমেদ চৌধুরী শরীফ :::আমরা সবাই এ ব্যাপারে অবগত আছি যে করণা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীতে আজ কতটুকু নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আজ নাই যা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মধ্যবিত্তরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের অবস্থা এমন যে,না পারি কইতে পারিনা সইতে। আর স্কলার্সহোম এর বেশিরভাগ অভিভাবকরাই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

পৃথিবীর সবাই যখন ক্ষতিগ্রস্থ। এমতাবস্থায় স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ একটুখানি ক্ষতিগ্রস্তদের মিছিলে সামিল হলে অসুবিধা কোথায়? সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে যার যার সাধ্যানুযায়ী একে অপরের জন্য একটুখানি ছাড় দেই, এই ছাড় দেওয়াটা অন্যের জন্য বিরাট উপকারের বিষয় হতে পারে। লকডাউন এরপর লকডাউন আসতেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্যমতে করোনা ভাইরাস এর দ্বিতীয় আঘাত আরো প্রচন্ডতর হবে। এমতাবস্থায় অনেক অভিভাবকের কাছে স্কুল থেকে ফোন আসতেছে ক্লাস ফাইভ এর বেতন পরিশোধ না করলে ফরম ফিলাপ হচ্ছে না।
আমরা যতটুকু জানি অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ১৫%-২৫% পর্যন্ত কর্তন করে বেতন পরিশোধ করতেছে। একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, যেহেতু বর্তমানে স্কুলে স্বাভাবিক ক্লাস হচ্ছেনা সেহেতু শিক্ষকদের যাতায়াত খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ অনেকখানি কম হচ্ছে। স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সাতটা ক্লাস কত, আর বর্তমানে হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে চারটি ক্লাস।
তদুপরি আমরা যদি আরো একটু গভীরে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখব কোন বাসায় ছাত্র দুইজন কিন্তু মোবাইল সেট একটা। সে ক্ষেত্রে আর একটা নতুন মোবাইল কিনতে হচ্ছে, তারপর থাকলো এমবি কিনার ব্যাপার। এ কথাগুলা বলতে হচ্ছে মধ্যবিত্তের অসহায় অবস্থার কথা বোঝানোর জন্য।
এছাড়া স্কলার্সহোম একটা ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের এই নাজুক পরিস্থিতিতে যদি মানুষের পাশে ট্রাস্ট না দাঁড়ায় তবে আর কখন দাঁড়াবে ? এমতাবস্থায় স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের সমীপে সবিনয় অনুরোধ করবো আপনারা শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের অর্ধেকটা গ্রহণ করুন।
পরিশেষে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষকে বলবো আমাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাববেন না। আমাদেরকে সাথে নিয়েই তো আপনাদের পথচলা। মানুষের জন্যই তো মানুষ। নিতান্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতির বিচার বিশ্লেষণ করে আপনার একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আপনারা যদি আমাদেরকে ফোর্স করেন তাহলে আমরা হয়তো বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য না হলে স্কুল পরিত্যাগ করতে বাধ্য।
পরিশেষে স্কলার্সহোম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যকে অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কেননা আপনাদের মত গুণীজনের উদ্যোগেই আমাদের বাচ্চারা আজ একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্মল পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ পাচ্ছে। সাথে সাথে ধন্যবাদ জানাই সকল শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যারা প্রতিনিয়ত আমাদের বাচ্চাদের উন্নতি সাধনকল্পে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
সবশেষে বলবো পরিস্থিতি এমন থাকবে না।দুর্যোগের ঘনঘটা এক দিন কাটবেই ইনশাআল্লাহ। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ।
স্কলার্সহোম দীর্ঘজীবী হোক
“আল্লাহ হাফেজ”

লেখক : কলামিষট ।

এই সংবাদটি 1,355 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ