স্বাধীনতাযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইন্দিরা গান্ধী

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৩ ডিসে ২০১৯ ০১:১২

স্বাধীনতাযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইন্দিরা গান্ধী

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ভারতের জনগণ সর্বোপরি ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অপরিসীম।

বিশ্বের সবেচেয়ে শক্তিশালী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন করা ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী নির্ভীক চিত্তে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠি নানা টালবাহানা করতে শুরু করে। উত্তপ্ত হয়ে উঠে পূর্বপাকিস্তান। শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ অত্যাসন্ন। তিনি ৭ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন। ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় চলে আসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করতে। একদিকে আলোচনা অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অবাঙালি সেনাসদস্য এনে ঢাকা সেনানিবাস ভরে ফেলে, সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্র।

এ সময় থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পূর্ব বাংলার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেদিন রাতে পিলখানা, রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানির বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। এ সংবাদ দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণের ভয়ে বহু মানুষ সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঢুকে পড়ে। ইন্দিরা গান্ধী সরকার এ সময় সীমান্ত খুলে দেয়। যাতে নিরীহ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। প্রায় দুই কোটি শরণার্থী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয়। সহায় সম্বল সব ফেলে ভারতে পাড়ি দেওয়া এসব শরণার্থীর সব দায় দায়িত্ব পড়ে ভারত সরকারের ওপর। এগিয়ে আসে সর্বশ্রেণীর মানুষ। ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করে জনমত সৃষ্টি করেন। তার ডাকে সারা দিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসেন।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •