হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান ড. জহিরুল হক শাকিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন

 

মনসুর আহমেদ :

হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. জহিরুল হক শাকিল সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। গত ২ আগস্ট অধ্যাপক পদের নির্বাচনী বোর্ডের সুপারিশ ও ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে গত ৫ আগস্ট থেকে অধ্যাপক হিসেবে তার পদোন্নতি কার্যকর হয়। তিনি ঐদিন থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে জৈষ্ঠ্যতা, আর্থিক ও অন্যান্য সুবাধাদি পাবেন। ড. জহিরুল হক শাকিল বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (সোয়াস) থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর উপর বিরল কৃতিত্বের সাথে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করায় সমাবর্তনে আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহন করে গত ২৯ জুলাই দেশে ফিরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, গত ১৭ মে লন্ডন যাবার পূর্বে তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ২ আগস্ট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও বিশেষজ্ঞ সদস্যদের উপস্থিতিতে অধ্যাপক পদের নির্বাচনী বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ড. জহিরুল হক শাকিলের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতা ও গবেষনা অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পান্ডিত্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। ৪ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা অনুমোদন করে।

ড. জহিরুল হক শাকিল তার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসমান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ১৯৯৩ সালে শহরের জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুল থেকে স্টারমার্কসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি ও ১৯৯৫ সালে বৃন্দাবন সরকারী কলেজ এর মানবিক বিভাগ থেকে হবিগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এ্যাফেয়ার্স বিভাগে। সেখানে তিনি বিরল ফলাফল করেন। যা আজ অবধি রেকর্ড হয়ে আছে। তিনি বিএসএস অনার্সে ডিস্টিংশনসহ সব্বোর্চ সিজিপিএ অর্জন করেন। তার সিজিপিএ শুধু পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এ্যাফেয়ার্স বিভাগে নয়; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ছিল। এজন্য তিনি চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল বা প্রেসিডেন্ট পদক, ভাইস- চ্যান্সেলর মেডেল ও ইউনিভার্সিটি বুক মেডেল অর্জন করেন। একই বিভাগ থেকে মাস্টার্স লেভেলেও ডিস্টিংশনসহ বিভাগ ও অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেন। এজন্য তিনি ভাইস- চ্যান্সেলর মেডেল ও ইউনিভার্সিটি বুক মেডেলে সম্মানিত হন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এওয়ার্ড লাভ করেন। বাংলাদেশে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পর্যায়ে ডিস্টিংশন অর্জন খুবই বিরল। এছাড়া জহিরুল হক শাকিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সেমিস্টার পরীক্ষায় প্রথম ব্যতিরেকে দ্বিতীয় হননি। ২০০২ সালে তিনি সিলেটের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৪ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান ও ২০০৬ সালে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১৪ সালে পদোন্নতি পান সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে। আর ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি একই বিভাগের অধ্যাপক।

জহিরুল হক শাকিল ২০০৯ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কোনো ছাত্র হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত বিশ্বের বিখ্যাত কমনওয়েলথ স্কলারশীপ লাভ করেন। এ স্কলারশীপের অধিনে ইংল্যান্ডের লিডস মেটের স্কুল অব এল্পাইড গ্লোবাল ইথিক্স এর পিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে মেরিটসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ২০১০ সালের অক্টোবরে ফিরে আসেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে ২০১২ সালে আবারো কমনওয়েলথ স্কলারশীপ অর্জন করেন পিএইচডি গবেষনা সম্পাদনের জন্য। দু’দুবার কমনওয়েলথ স্কলারশীপ লাভ করা কেবল বাংলাদেশে নয়; কমনওয়েলথের ইতিহাসে বিরল। পিএইচডি গবেষনার অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ আয়োজিত কনফারেন্সে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও ওয়ার্কশপে লেকচার প্রদান করেন।

জহিরুল হক শাকিল কেবল লেখা পড়ায় নয়; সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও ভূমিকা পালন করেন। তিনি জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুলের স্কাউট লিডার ও বৃন্দাবন সরকারী কলেজের সিনিয়র রোভার মেট ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সালে চতুর্দশ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক স্কাউট সমাবেসে জে কে এন্ড এইচ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.