হরিরামপুরে আরসিসি পিলারের উপর বাঁশের সাঁকো : ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৪ নভে ২০২০ ০৯:১১

হরিরামপুরে আরসিসি পিলারের উপর বাঁশের সাঁকো : ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

 

আবিদ হাসান, হরিরামপুর, (মানিকগঞ্জ) :

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়রা ও চালা ইউনিয়নের মাঝামাঝি যাত্রাপুর এলাকায় আরসিসি পিলারের ওপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে এলাকাবাসী। প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এ পথে। এ সাকোঁ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ৪৯ বছরের পুরনো যাত্রাপুর হাই স্কুলে যাতায়াত করে। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকের হাত-পা ভেঙেছে। সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে এক স্কুলগামী শিক্ষার্থীর দাঁতও ভেঙে গেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এই ইছামতি নদীর ওপর পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। তবে দীর্ঘদিনেও এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোতে পার হচ্ছে এলাকাবাসী। সেতুটি নির্মিত হলে হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া, চালা, বলড়া এবং সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া এই চার ইউনিয়নবাসীর জেলার সঙ্গে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে। পাশাপাশি উপজেলার যাত্রাপুর, খলিলপুর, পশ্চিম খলিলপুর, আগরাইল, লাউতা, সট্টি, খাবাশপুর, দড়িকান্দি, কাণ্ঠাপাড়া, বয়রাসহ ১০টি গ্রামের মানুষ হরিরামপুর উপজেলা সদরে সরাসরি আসা-যাওয়া করতে পারবেন। বিশেষ করে যাত্রাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীর চলাচলের সমস্যা দূর হবে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েকবছর আগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর থেকে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল কিন্তু দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তারা সেতুটি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সাত বছর আগে হরিরামপুর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইছামতি নদীর ওপর ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি পিলারের ওপর সাঁকো তৈরি করা হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সাঁকোর কাঠ নষ্ট হয়ে যায়। চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে।

পশ্চিম খলিলপুর গ্রামের হারেজ মিয়া জানান, বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে তিনি নিচে পরে যান। নিচে পরে গিয়ে তার হাত ভেঙে যায়।

আগ্রাইল গ্রামের ধীরেন রাজবংশী জানান, তিনি নিয়মিত যাত্রাপুর বাজারে মাছ বিক্রি করেন। তবে মাছ নিয়ে এ সাঁকো পার হওয়া অনেক কষ্টকর।

চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিশ্বাস এবং বয়ড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার জানান, দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে কয়েকবার আমরা পাকা ব্রিজের জন্য প্রকল্প দিয়েছিলাম তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। বড় প্রকল্প হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভুত বলেও তারা জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, পাকা ব্রিজের জন্য প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই ব্রিজ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •