Fri. Dec 6th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

হাইটেক পার্কের প্রত্যাশা পূরণ কত দূর?

1 min read

হাইটেক পার্কগুলো ঘিরে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও এর বাস্তব অগ্রগতি এখনো ধীর গতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প সংখ্যা ৬টি। এখানেই কর্মসংস্থান করবে সরকার। অবশ্য হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবল তৈরি করা হচ্ছে। হাইটেক পার্কগুলোর মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সফটওয়্যার ও সেবা রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

 

চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি সামান্য। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রাজশাহী হাই-টেক পার্ক (বরেন্দ্র সিলিকন সিটি) স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের সর্বোচ্চ অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। সর্বনিম্ন অগ্রগতি জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) প্রকল্পে ১ শতাংশ। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক)-এর উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটি)-এর প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

 

ফলে ২০২০ সালকে লক্ষ্য ধরে হাইটেক পার্কে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া শেষ হবে না বলেই জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

 

আইটি/আইটিইএস খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি পরিচালনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বোর্ড অব গর্ভনেন্স (বিওজি) রয়েছে।

 

হাইটেক পার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রকল্পের মোট ব্যয় তিন হাজার ১০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত তাদের ৩টি পার্ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেকসিটির নির্মাণকাজ চলছে।

 

সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে জাতীয় তথ্যভান্ডার বা জাতীয় ডেটা সেন্টার। এটিকে ‘হার্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাঁরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার আগামী জুন মাস নাগাদ পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে এর। তখন চাইলে বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে। সেখানে সামিট টেকনো পলিশ লিমিটেডের ৬০ হাজার বর্গফুটের শিল্প ভবনের কাজ শেষ। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোম্পানি ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যারের নির্মাণাধীন ভবনের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ টেকনো সিটির ২ লাখ বর্গ ফুটবিশিষ্ট ৮ তলা ভবনের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ২৬টি দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে তারা ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পিসি ও বিভিন্ন এক্সেসরিজ তৈরি বা সংযোজন করবে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান হবে প্রায় এক লাখ তরুণ-তরুণীর। বর্তমানে এই পার্ক থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আইটি পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে।

 

হাইটেক পার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩টি পার্ক, বঙ্গবন্ধু হাই-টেকসিটি এবং ১৩টি বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে এ পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৭৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিন হাজার ১০০ জনের প্রশিক্ষণ চলমান এবং আরও ৪৫ হাজার জনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬৬টি প্রতিষ্ঠানকে সার্টিফিকেশনের জন্য সহায়তা দিয়েছে হাইটেক পার্ক।

 

বাস্তবতা

সরকরি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ যুবক দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। সরকার প্রতি বছর নিয়ম করে কিছু চাকরির ব্যবস্থা করে। কিন্তু বিপুল চাহিদার বড় অংশই প্রত্যাশা করে বেসরকারি খাতের কাছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে চাকরি বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হাইটেক পার্ক ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এর খানিকটা চিত্র দেখা যায় ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে। ওই পার্কে সেদিন আয়োজন করা হয়েছিল চাকরি মেলার।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.