সুনামগঞ্জের হাওরে জ্বলছে শিক্ষার আলো

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১১ আগ ২০১৬ ০৮:০৮

[one_half]
[one_half_last]
[one_fourth]
[one_fourth_last]
[three_fourth]
[three_fourth_last]jamalgon sunamgonj pic-11.8.16
তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের হাওর অঞ্চলের শিক্ষার আলো জ্বলছে কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষার বাতি ঘর হিসেবে পরিচিত বিদ্যালয়টি পাকনার হাওরের পাড়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এ বছর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাইমারী স্কুল হিসেবে ভুষিত হয়েছে ।
টানা একাধারে কয়েক বছর ধরে ভালো রেজাল্ট করে আসছে। গেল বছর উপজেলার মধ্যে পিএসসিতে সর্ব্বোচ রেজাল্ট করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছে। এবছর তারা তাদের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যালয়টি শুধু পড়াশোনায় নয় খেলাধুলা,জ্ঞান চর্চা সহ সকল ক্ষেত্রে উপজেলার মধ্যে অনন্ন উদাহরন রেখে আসছে। ভালো রেজাল্ট আর ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর শতভাগ আন্তরিকতা, অভিভাবকদের চেষ্টা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কাজ করেছে। কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনে নিয়মিত ক্লাস করে আবার,সকাল,বিকেল,সন্ধ্যার পর সকলে একসাথে আবার ক্লাস রুমে পড়া আরম্ভ করে রাত একটানা দশটা পর্যন্ত পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ে ৮জন শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক সহ এলাকার মানুষের আন্তরিক চেষ্টার ফলে সন্ধ্যার পরে সকলে মিলে সন্ধ্যাকালীন ক্লাসের জন্য আলাদা ১৬ জন প্রাইভেট টিউটর রেখেছেন। সব মিলিয়ে পর পর দুবার উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্টান হয়েছেন। শুধু তাই নয় বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ার কৃতিত্বও এই বিদ্যালয়টি অর্জন করেছে। গেল বছর এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এবছরের শেষ দিকে সরকারী ভাবে ৭দিনের সফরে ইন্দোনেশিয়া যাবার কথা রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানাযায়,গেল ২০১১ সালে ৫ম শ্রেনীতে ৬৩ জন ভর্তি হয়ে সমাপনী পরিক্ষায় ৬২ জন অংশ নিয়ে ৬২ জনই কৃতকার্য হন। ২০১২ সালে ৫ম শ্রেনীতে ৭৫ জন ভর্তি হয়ে সমাপনী পরিক্ষায় ৭৫ অংশ গ্রহন করে সকলেই পাশ করে। যার মধ্যে ৯ জন এ প্লাস পেয়েছে,টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩ জন। ২০১৩ সালে ৯১ জন ভর্তি হয়ে ৮৫ জন সমাপনীতে অংশ নিয়ে ৮৪ জন কৃতকার্য হয়। এর মধ্যে ১৫ টি এ প্লাস ও ৬টি টেলেন্টপুল বৃত্তি। ২০১৪ সালে ৭৩ জন ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ৬৫ জন সমাপনীতে অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করে যার মধ্যে এ প্লাস পেয়েছে ১৩ জন,আর এক জন টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ২০১৫ সালে ৫ম শ্রেনীতে ৬৬ জন ভর্তি হয়ে সমাপনীতে ৬৪ জন অংশ করে ৬৪ জনই পাশ করে যার মধ্যে ১৫ টি এ প্লাস,১০ টি টেলেন্টপুল বৃত্তি। বর্তমানে কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী আছে। শিশু শ্রেনীতে ৪৪ জন,প্রথম শ্রেনীতে ১৭৫ জন,২য় শ্রেনীতে ১৪২ জন,৩য় শ্রেনীতে ১২৬ জন,৪র্থ শ্রেনীতে ৮৭ জন,৫ম শ্রেনীতে ৬৯ জন শিক্ষার্থী আছে। ভবনে ছাত্রছাত্রীদের সংকুলান হয়না। বিদ্যালয়ের সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য দিক খুব কম ছাত্রছাত্রীই আছেন যে বিদ্যালয় ফাকি দেয়। অভিভাবকদের চেয়ে কোমল মতি শিক্ষার্থীরা আরো বেশী সচেতন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন,আমার বাবাও সারা জীবন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সুনাম অর্জন করে গেছেন,আমিও আমার বাবার আদর্শকে কাজে লাগিয়ে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছু করতে চাচ্ছি।
কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জানান,আমি যতীন্দ্রপুরে ছিলাম সেখানেও ক্লাসের পরে সন্ধ্যাকালীন প্যারা শিক্ষক দিয়ে ফলাফল ভালো করেছি,সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি ও আমার সকল শিক্ষক সহ এলাকাবাসী মিলে কাশীপুরের ভালো রেজাল্ট করতে পারছি। ছাত্রছাত্রীর অনুপাতে ক্লাস রুমে জায়গা কম থাকায় আমাদের আরেকটি ভবন নির্মান জরুরী।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূরুল আলম ভুইয়া জানান,পর পর দুবার জামালগঞ্জে কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম হয়েছে। এবার জেলার মধ্যেও শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় মনোনীত হয়েছে।

[one_half_last]
[one_third][/one_third]

[is_guest][/is_guest]

[is_guest][/is_guest]

    [five_sixth_last]

    এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

    সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •