হুমকির মুখে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাধ

প্রকাশিত: ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

হুমকির মুখে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাধ

মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা (নীলফামারী) ঃ
হটাৎ উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অসময়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে সেচ্ছাশ্রমে তৈরী ২ হাজার মিটার বাধটি। নীলফামারীর ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে তিস্তার উজানে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে সেচ্ছাশ্রমে ২হাজার মিটার যৌথ বাঁধ নির্মান করা হয়েছে ২০১৭ সালের শেষের দিকে।
বাঁধটি নির্মানে ওই এলাকার লোকজন বাঁশ, বালুর বস্তা, নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। এবং সেচ্ছাশ্রমে দিনরাত কাজ করে বাধটি নির্মান করেন। নির্মানকালে নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম ১ লক্ষ টাকা, সমাজ সেবক রফিকুল ইসলাম ঠিকাদার ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত অনুদান প্রদান করেন। এবং গত বছরে এলজিএসপি’র বরাদ্দ দেয়া ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে বাধের কিছু অংশ জিও টেক্রটাইল দিয়ে স্পার করা হয়। বাঁধটি নির্মানে মোট ব্যয় দাড়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। বাঁধটি নির্মানের ফলে ডিমলা উপজেলার ৯নং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চড় খড়িবাড়ী গ্রামে গত বছরের বন্যায় কয়েক হাজার পরিবারের লোকজন তিস্তার বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। বাধটি নির্মিত হলেও অর্থাভাবে ও পাউবো’র পক্ষ হতে টেকসইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জিও টেক্রটাইল ব্যবহার ও সিসি ব্লক বসানো হয়নি।
তৎকালীন পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী আতিক হোসেন বাঁধটি রক্ষার জন্য জিও টেক্রটাইল ও সিসি ব্লকের বরাদ্দ দিয়ে বাঁধটি রক্ষার আশ্বাস দিলেও। তিনি হটাৎ বদলি হয়ে চট্রগ্রাম বিভাগের এডিজি’র দায়িত্ব নেয়ায়। বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, হটাৎ করে মঙ্গলবার থেকে তিস্তায় উজানের পানি বেড়ে যাওয়ায় বাধ ভেঙ্গে নদী ফসলী জমিতে প্রবেশ করায় একের পর এক ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার কারনে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। এবং এই মুহুর্তে বাধ ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অত্র এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পরে ভিটেমাটি বিলিন হওয়ার আশু সম্ভাবনা রয়েছে। বাধ ভাঙ্গনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখায় অবহিত করা হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, বাধ ভাঙ্গনের বিষয়টি জেনেছি। বাধটি পাউবোর নির্মিত কোন অবকাঠামো নয় সম্পুর্ন সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত তাই জরুরী ভিত্তিতে পাউবোর পক্ষে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব নয়। তবে আগামী ৫ এপ্রিল উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে ডিজাইন পাঠিয়ে বাধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •