২৫ হাজার বাঙালির পদচারণায় টরন্টোর রাজপথ মুখরিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৮ আগ ২০১৯ ০৭:০৮

২৫ হাজার বাঙালির পদচারণায় টরন্টোর রাজপথ মুখরিত

উত্তর আমেরিকায় এতো বড় বাঙালি সমাবেশ কখনও কেউ দেখেনি। তবে কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেছিলেন বটে! সেই স্বপ্ন সার্থক রূপ নিলো গত ৫ আগষ্ট। নগরীর ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সিবলি পর্যন্ত ড্যানফোর্থ এভিনিউ লোকে লোকারণ্য। কানাডায় বসবাসরত অন্যান্য ভাষাভাষীর মানুষেরা দেখলো বাঙালির গণজোয়ার। ইতালী, গ্রীক, হিসপানিকদের ষ্ট্রিট ফ্যাষ্টিভ্যালের সাথে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম, বাঙালিদের নাম- ‘টেষ্ট অব বাংলাদেশ’। এ এক বিরাট অর্জণ। এ ফ্যাষ্টিভ্যাল বহুজাতিক কানাডিয় সংস্কৃতিতে আরেকটি মাত্রা যোগ হলো। যাদের জন্য কানাডায় বাঙালিদের নতুন এ ইতিহাস স্থাপিত হলো তারা হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ শামসুল আলম (প্রধান উপদেষ্টা), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শক্তি দেব (চেয়ারম্যান), বিশিষ্ট রিয়েলটর ও ডেভোলাপার ফরিদা হক (কনভেনর), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ কে আজাদ (সদস্য সচিব), বিশিষ্ট সংগঠক রাসেল রহমান (প্রধান সমন্বয়কারী) প্রমুখ। এছাড়াও যাদের প্রেরণা ও সহযোগিতায় এ আয়োজন সার্থক ও সফল হয়েছে তারা হলেন বিশিষ্ট রিয়েলটর ও ডেভোলাপার মনির ইসলাম, বিশিষ্ট রিয়েলটর ও ডেভোলাপার জামাল হোসেন, বিশিষ্ট মর্টগেজ ব্রোকার আসাবউদ্দিন আসাদ ও ব্যারিষ্টার ওমর জাহিদ প্রমুখ। সুন্দরভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সায়িদা বারী ও স্বপন গাজী। এছাড়া আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ের সফল সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেড এফ খান। সর্বোপরি এ আয়োজনের প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংগঠক আনোয়ার শামসুদ্দোহা।

 

 

 

 

 

৫ আগষ্ট দিনটি ছিল সিভিক হলিডে (অন্টারিও প্রদেশে সরকারি ছুটির দিন)। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগে থেকেই ছুটি ছিল। দুপুর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসতে শুরু করে। বেলা দু’টায় অরুণা হায়দারের নির্দেশনায় নৃত্যাঙ্গণের শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর একে একে সংগীত পরিবেশন করেন নাফিয়া ঊর্মি, মুক্তা সারোয়ার, ফারহানা শারমিন, মম কাজী, কামরান করিম, রাইসা, মাইসা প্রমুখ। সাদিয়া রফিকের নুপুর ড্যান্স একাডেমি, আর্শিয়ানা প্রিয়া ও তার দল এবং নৃত্যকলা কেন্দ্রের চমকপ্রদ পরিবেশনা দর্শকরা উপভোগ করেন।

 

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সৈয়দ সামসুল আলম, শক্তি দেব, ফরিদা হক, রাসেল রহমান, আবুল আজাদ প্রমুখ। তারা অংশগ্রহণকারী সকল স্তরের ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, দর্শক, মিডিয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।

 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের এমপি ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ, ফেডারেল মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের প্রতিনিধি ডানকান টলি, স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট এর এমপিপি বাংলাদেশি মেয়ে ডলি বেগম, বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড, এবং স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট এর সিটি কাউন্সিলর গ্যারি ক্রোফোর্ড। তারা এ বিশাল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন।

 

 

সন্ধ্যার পরপর তপন চৌধুরী ও রিজিয়া পারভিনের মন মাতানো গানের পরপরই মঞ্চে আসেন নগরবাউল খ্যাত জেমস। সে সময় পুরো সড়ক জুড়ে মানুষ আর মানুষ। তিল ধারনের জায়গা ছিল না কোথাও। মঞ্চের ডানে টিডি ব্যাংকের পার্কিং লট, বাঁয়ে মেট্টোর পার্কিং লটে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। রাত সোয়া এগারোটায় অনুষ্ঠানের মধুরেণ সমাপ্তি ঘটে।

 

দুপুর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দিলারা নাহার বাবু, ফারহানা আহমদ, আসমা হক, ফাইযা ইসলাম,  রাইদাহ ফাইরুজ মিষ্টি ও তানবীর কোহিনুর।

 

অনুষ্ঠান শেষে ‘দেশে বিদেশে’কে টেষ্ট অব বাংলাদেশ ফ্যাষ্টিভ্যাল এর চেয়ারম্যান শক্তি দেব তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মাত্র কয়েকদিনের প্রস্তুতিতে এতোদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালিদের দেশপ্রেম আছে বলেই সুন্দরভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। এমনিতে ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে কিন্ত হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

কনভেনর ফরিদা হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এত বড় বিশাল আয়োজনে নানান ধরনের ভুলক্রুটি ছিল তবে পরবর্তী আয়োজনে আমরা এসব ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবো।’ আগামীতে আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ফরিদা হক এ আয়োজনের সকল টিম মেম্বারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ শামসুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ড্যানফোর্থের রাস্তা বন্ধ করে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করার স্বপ্ন বহুদিনের। এতোদিন ঘরোয়ার আঙিনায় ছোট্ট পরিসরে শহীদ দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হতো। আজ সেই ছোট্ট পরিসর থেকে বিশাল আয়োজন স্বপ্নের মতোই মনে হয়। তিনি আগামী বছর দেশি বিদেশি ৫০ হাজার লোকের সমাবেশ হবে বলে মনে করেন।

 

সদস্য সচিব আবুল আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ড্যানফোর্থের সকল ব্যবসায়ীর এমন উৎসাহ উদ্দীপনা কোনোদিন চোখে পড়েনি। সবাই দুহাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। অনুষ্ঠানে আগত শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত সকলের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। এ আনন্দ ইতিহাসে অংশগ্রহণ করার গৌরবের।

 

প্রধান সমন্বয়কারী রাসেল রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। এত বড় বিশাল আয়োজনে অনভিজ্ঞতার কারণে ছোটোখাটো অনেক ভুল হয়েছে তবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা উৎরে গেছি এবং আয়োজন সফল হয়েছে। সকলে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে গেছেন এটাই সার্থকতার প্রমাণ করে।

 

টেষ্ট অব বাংলাদেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত আনোয়ার শামসুদ্দোহা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ আয়োজনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে বলে বিশ্বাস। তিনি আয়োজন সফল হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন।

 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সাঈদা বারী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিশাল এ আয়োজনকে সার্থক করে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক পর্বটি দর্শকরা মন ভরে উপভোগ করেছেন বলে বিশ্বাস।

 

টাইটেল স্পন্সর মনির ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অনুষ্ঠান যখন সফল হয় তখন স্পন্সর হিসাবে গর্ববোধ করি। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে সবসময় পাশে থাকবেন বলে জানান।

 

ড্যানফোর্থের অন্যতম ব্যবসায়ী মারহাবা ফুডস-এর কর্ণধার আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, আমাদের অন্যতম দায়িত্ব ছিল ড্যানফোর্থকে পরিচ্ছন্ন রাখা। আমাদের যাতে বদনাম না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেতন ছিলাম। রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানালেন। তার সাথে ছিলেন রিয়লটর মনির ইসলাম, ডেভোলাপার জামাল হোসেন, ডেভোলাপার মিলন প্রমুখ।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •