৮৬ বাংলাদেশীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে

প্রকাশিত:বুধবার, ১৯ অক্টো ২০১৬ ০৯:১০

এহসান পাভেল ::: ভাগ্যেন্বষণে এসেছিলেন তারা । দালালকে দিয়েছিলেন মাথাপিছু ২৫ লক্ষ টাকা । দেশের জায়গা জমি বিক্রি করে আবার ধার করে । বিভিন্ন দেশ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে আসার স্বপ্ন ছিলো তাদের । হলো না সেই স্বপ্নের প্রতিফলন ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় মার্কিন সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন তারা ।  এরকম ৮৬ জন তরুণকে আবার দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ।
দু’বছরের অধিক সময় অভিবাসন দফতরের ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর  ‘ইউএস ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ তথা আইসের পক্ষ থেকে ১৭ অক্টোবর তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ‘এসব বাংলাদেশীর সকলেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু সে আবেদনের সমর্থনে কোন প্রমাণাদি প্রদর্শনে সক্ষম হননি কেউই। বাংলাদেশে তারা বিরোধী দল তথা বিএনপির কর্মী/সমর্থক হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক অকথ্য নির্যাতনের শিকার, জেল-জুলুমের আশংকা এবং প্রাণনাশের আশংকা ছিল বলেই তারা সকলে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এমন বক্তব্যের সমর্থনে কোন ডক্যুমেন্ট প্রদর্শনে সক্ষম হননি তারা।
বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্ট সংগ্রহের জন্যে বেশ কয়েক দফা সময় চেয়েও তারা তা আনতে সক্ষম হননি। অর্থাৎ তারা কেউই বিএনপির কর্মী/সমর্থক হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার বলে অভিবাসন দফতরকে কনভিন্স করতে সক্ষম হননি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৩/৪ বছরে দুই হাজারের অধিক বাংলাদেশী মেক্সিকো হয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেফতার হন। এদেরকে টেক্সাস, আরিজোনা, আলাবামা, লুইঝিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন রাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ছিলেন টেক্সাসের এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারে। বছরাধিককাল অতিবাহিত হওয়া সত্তেও মুক্তি না পাওয়ায় গত বছরের শেষার্ধে এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারের অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশী অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। তাদের সাথে ভারতীয় এবং পাকিস্তানীরাও অংশ নেন সে ধর্মঘটে। টানা ৭দিনের অনশনে বিচলিত বোধ করেন মার্কিন প্রশাসন।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ