৮ বিভাগের নির্বাচিত জেলায় গড়ে উঠবে ১০ ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৪ জানু ২০২১ ০৯:০১

৮ বিভাগের নির্বাচিত জেলায় গড়ে উঠবে ১০ ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম’

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক : দেশের ৮ বিভাগ থেকে নির্বাচিত ১০ গ্রামকে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ‌্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট’-এর আওতায় এই মডেল গ্রামগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে। সদ‌্য বিদায়ী বছরের (২০২০) নভেম্বর মাসে ‘৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২০’ উপলক্ষে এসব মডেল গ্রাম গড়ে তোলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই নির্দেশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এই মডেল গ্রাম তৈরির উদ্যোগ নেয়।

সম্প্রতি এই প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

পিইসি সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, এই প্রকল্প দেশের ৮ বিভাগের নির্বাচিত জেলাগুলোয় বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল জেলা রয়েছে। ময়মনসিং বিভাগের জামালপুর, চট্টগ্রামের কুমিল্লা, সিলেটের সুনামগঞ্জ, খুলনার যশোর, রাজশাহীর রাজশাহী, রংপুরের রংপুর ও বরিশালের বরিশাল জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিক উপলক্ষে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ‌্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ দেশের উন্নয়নের বড় অংশ হচ্ছে গ্রাম। প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছিলেন, শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে ১০টি গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলবো। সফল হলে দেশব‌্যাপী বড় আকারে প্রকল্প নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘শহরের মতো না হলেও যেন শহরের কাছাকাছি পর্যায়ের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছাতে পারি, সে ব্যবস্থা করা হবে এই প্রকল্পে।’।

সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে ১০টি গ্রামের কৃষি খাতে ২৫ শতাংশ কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে উন্নত দেশের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ১০ গ্রামের ১০ হাজার লোককে দক্ষভাবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রত্যাশিত আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে ১০টি সমবায় সমিতি গঠনসহ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ১০টি কমিউনিটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর আর্দশের ১০টি গ্রাম সমবায় সংগঠিত করা, কৃষি উৎপাদনের যান্ত্রিক ও উওম পদ্ধতির প্রচলন করা, ১০টি গ্রামে ২টি ১ একর পুকুরে মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ২টি গরু পালন মডেলের মাধ্যমে আধুনিক ও উত্তম পদ্ধতির প্রচলন, গ্রামীণ সামাজিক প্রতিষ্ঠানসগুলোকে পুনর্জাগরণ ও  গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার কমানোর লক্ষ‌্যে কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে। এর ফলে পিইসি সভাসহ অনুমোদনও তাড়াতাড়ি হবে। পাইলটিংয়ে সফল হলে প্রকল্পটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের সঙ্গে শহরের দূরত্ব অনেক কমবে বলে আমি আশা করি।’

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •