বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য চিত্র প্রদর্শনীতে সংগ্রাহকের আত্মপ্রচার ॥ সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিত:বুধবার, ০৩ আগ ২০১৬ ১১:০৮

বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য চিত্র প্রদর্শনীতে সংগ্রাহকের আত্মপ্রচার ॥ সমালোচনার ঝড়

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরে এবার বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রের সংগ্রাহক সাহাবউদ্দিন মজুমদারের দৃষ্টিকটু আত্মপ্রচার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই আয়োজন ও উদ্যোগটি অত্যন্ত সময় উপযোগী এবং প্রশসংনীয় হলেও সংগ্রাহকের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিন্দার ঝড় বইছে। আয়োজনের পোস্টার ও ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবির উপরে সংগ্রাহকের ছবি স্থান দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, আয়োজনস্থলের বিশাল এলাকাজুড়ে কেবল সংগ্রাহের বিভিন্ন ছবি ঠাঁই পেয়েছে। একে হাস্যকর বলে মনে করেন অনেকে। তাছাড়া প্রায় একই ছবি নিয়ে বার বার প্রদর্শনী করায় শহরবাসী উৎসাহ হারিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার আয়ের উৎস ও প্রদর্শনীর আসল উদ্দেশ্য নিয়ে।
চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ১৫ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী গত সোমবার উদ্বোধন করা হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাকে প্রদর্শনী দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে শহরের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পায়। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া আর অন্য কাউকে দেখা যায় না। এসব বাধ্যগত শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো উৎসুক জনতা নেই সেখানে।
সেখানে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, আমাদেরকে আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখার জন্য অনেক আগে থেকেই শিক্ষকরা উদ্বুুদ্ধ করেছেন। কিছু ছবি ভালো লেগেছে। তবে অধিকাংশ আগে ইন্টারনেট, বিজয় মেলা বা অন্যত্র দেখেছি। নতুনত্ব খুব কম। তাছাড়া সাহাবউদ্দিন সাহেবের ছবি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ছাত্র-ছাত্রীরা আরো জানায়, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী নাম যেহেতু, তাহলে বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছবি এবং আমাদের অজানা কিছু তথ্য জানানোর প্রয়োজন বলে মনি করি। এখানে দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসার বিকৃত ও স্পর্শকতার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল বোমা ও আগুনো পোড়ানো ভয়ানক ছবিগুলো প্রদর্শন করা কতটুকু যৌক্তিক? শিশুদের এসব ছবি কি দেখানো উচিৎ?
আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দায়িত্বরত স্কাউটস সদস্যরা জানান, এখানে এতো ছবির মধ্যে আকৃষ্ট করার মতো ছবি কম। যারা আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে আসছে পরে আবার তাদের আগ্রহ তৈরী হবে- এমন কিছু দেখছি না।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দেখা যায়, ক’জন শিক্ষার্থী আর অতিথি ছাড়া অন্য লোক খুব কম। সেখানে আসা ক’জন জানায়, চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে বলে পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং এখানকার প্রবেশমুখে সাঁটানো রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ব্যানার ও পোস্টার। এই আয়োজনের সংগ্রাহক ও সম্পাদক সাহাবউদ্দিন মজুমদার ব্যানার ও পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর ছবির উপরে নিজের ছবি দিয়েছেন। তিনি এই আয়োজনটি তার নিজের জন্য করেছেন, নাকি বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী করার লক্ষ্যে? তার অর্থের উৎস, প্রদর্শনীর প্রকৃত উদ্দেশ্যে ইত্যাদি বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আরো খোঁজ-খবর নেয়া প্রয়োজন।
সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম সাইফুল হক বলেন, সাহাবউদ্দিন মজুমদারের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু বলা যাবে না। তবে ব্যানার-পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর ছবির উপরে যে সাহাবউদ্দিন মজুমদারের ছবি ও সম্পাদনার নাম রয়েছে, হয়তো সেই বিষয়টা ভুলবশত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী কুইজ প্রতিযোগিতার এক বিচারক যিনি নাম প্রকাশে অচ্ছিুক তিনি বলেন, মনে হয় সচেতনতার অভাব ছিলো, তাই এই ভুল করেছেন সাহাবউদ্দিন মজুমদার।
এই বিষয়ে সাহাবউদ্দিন মজুমদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য ‘ইতিহাস কথা কয়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুধু চাঁদপুরের জন্য নয়। দেশে ও দেশের বাইরে সর্বমোট ১শ’ ৭ বার প্রদর্শনী হয়েছে। এখানে নতুন অনেক আলোকচিত্রই রয়েছে। যা শুধু আমার কাছে সংগৃহীত রয়েছে। আমাদের কাছে যে ছবিগুলো প্রদর্শন করার মত আমরা সেগুলোই করছি।
তিনি আরো জানান, পেট্রোল বোমার আগুনে পোড়া মানুষের ছবিগুলো দেখানো প্রয়োজন। যারা পেট্রোল বোমা ও আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে- সেই বিষয়ে জানানো প্রয়োজন। এতে যদি এখানকার ছাত্র-ছাত্রী বা অন্য কেউ ভয় পায় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের ছবিগুলো দেখানোর প্রয়োজন। চাঁদপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছি। সেখানে তো কেউ অভিযোগ করেনি। আমাদের শুধু এখানকার অবস্থা ভাবলে হবে না, পুরো দেশের কথা ভাবতে হয়। এখানকার ছবি দেখে যদি কারো ভালো না লাগে আমাদের কিছু করার নেই। যা হয়েছে তা শুধু তুলে ধরা হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •