জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই: ফখরুল

 

 

ডেস্ক নিউজ:

সময় এবং সুযোগ মতো আবারো রাজপথে নামার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে রক্ষায় জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। উই আর কমিটিটেড ফাইট টু দ্যা লাস্ট।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একটি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। কবি আব্দুল হাই শিকদারের বই ‘জোর্তিময় জিয়া ও কালো মেঘের দল’ এর মোড়ক উম্মোচন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডেমোক্রেসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ নামে একটি সংগঠন। দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থতা এবং সরকারের এক বছর পূর্তিতে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফিরেছে বিএনপি। এরপর থেকে গত দুই বছরে আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি নেই বিএনপির। গত দুই মাসে রাজধানীতে দুইবার সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও বিএনপি তা করতে পারেনি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলে থাকেন, বিএনপির আন্দোলনের ক্ষমতা নেই। বিএনপিকে আন্দোলনে নামতে নানা সময় পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শনিবারের অনুষ্ঠানেও তিনি একই আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমি তাদের পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করছি। কিন্তু একটা কথা বুঝতে হবে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছে অনেক। হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো কারাগারে। কিন্তু এত জুলুম নির্যাতনের পরেও একজন নেতাকর্মী দল ছেড়ে যায়নি।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি মানেই আসামি। তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। পালিয়ে বেড়াচ্ছে নেতাকর্মীরা, কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। প্রতিদিন পুলিশ হানা দিচ্ছে। এই বাস্তবতার সঙ্গে আমরা লড়াই করছি।’ আবারো রাজপথের আন্দোলনের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হ্যাঁ আন্দোলন করতে হলে অবশ্যই রাজপথে আসতে হবে। আমরা এসেছি। প্রতিবার রাজপথে আসছি। আবারো সময় ও সুবিধা মতো রাজপথে আসবো। কারণ রাজনীতি একটি বিজ্ঞানের ব্যাপার। কৌশলের ব্যাপার। আর রাজনীতি তো এক জায়গায় বেঁধে রাখার জিনিস নয়। এর বিভিন্ন রকম কৌশল আছে, উত্থান আছে,পতন আছে। কখনো খারাপ সময় যাবে আবার কখনো খারাপ সময় যাবে। কিন্তু আমরা একটা কথা খুব পরিষ্কার করে বলতে পারি যে, উই আর কমিটেড টু ফাইট টু দ্যা লাস্ট। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে শেষ রক্ত পর্যন্ত লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। আমার বিশ্বাস প্রতিটি নেতাকর্মী এই আদর্শে বিশ্বাস করে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আমি উপস্থিত মুরুব্বিদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনারা লড়াই করছেন একভাবে। আমরা মাঠে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্দোলন করছি। আপনারা বেগম খালেদা জিয়া ও তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখুন। আমরা আন্দোলনে সফল হবো। কারণ বাংলাদেশের মানুষ তাদের কোনো যুদ্ধে পরাজিত হয়নি। আর এই যুদ্ধ হলো তাদের অস্তিত্ব, টিকে থাকার যুদ্ধ।’

‘জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি একটি বিশেষ মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, ঘর থেকে বাইরে বের করে এনেছিলেন। এটাই বাস্তব। তাই তাকে ছোট করা বা অস্বীকার করায় তিনি নয়, স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়। কিন্তু মানুষের মন থেকে তার নাম মুছে ফেলতে পারবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘দুঃখ হয় স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের এখনো নানাভাবে কুৎসা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের চর বলতেও দ্বিধা করছে না। এটা করছেন তথাকথিত শিক্ষিত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী কিছু মানুষ।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.