ঘুরে বেড়ানো

কলকাতার কফি হাউসে এক বিকেল

কলকাতার কফি হাউসে এক বিকেল

‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই। কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই, আজ আর নেই।’- এটি ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে’র কালজয়ী গানের দুটি লাইন। সম্প্রতি মান্না দে’র চিরসবুজ গানের সেই কফি হাউসে এক বিকেল কাটিয়ে এসেছেন আবু রায়হান মিকাঈল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজ-   সময়টা বিকেল ছুঁইছুঁই। কলকাতার নন্দন থেকে ৫ রুপিতে পাতাল ট্রেনে চড়ে গেলাম কলেজ স্ট্রিট। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতর দিয়ে হাঁটতে লাগলাম কফি হাউসের সন্ধানে। হাঁটতে হাঁটতে চোখ পড়ল একটি লুচির দোকানে। সেখান থেকে খেলাম কয়েকটি লুচি, সঙ্গে আলুর দম। শুকনো পাতার বাটিতে আলুর দম ও গরম গরম লুচি খাওয়ার মজাই আলাদা!   খাওয়া শেষে অল্প একটু হাঁটতেই পেয়ে গেলাম কাঙ্ক্ষিত কফি হাউসটি। প্রেসিডেন্সি কলেজ গেটের উল্টোদিকের বাঁয়ের গলিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়ান কফি হাউস’। যেটি এখন মান্না দে’
ঘুরে আসুন আত্মার প্রশান্তি আজমীর শরীফ

ঘুরে আসুন আত্মার প্রশান্তি আজমীর শরীফ

খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.) হলেন চিশতীয় ধারার ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক। তিনি ১১৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১২৩৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গরিবে নেওয়াজ নামেও পরিচিত।       মইনুদ্দিন চিশতীই উপমহাদেশে প্রথম এই ধারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেন। তিনি ভারতে চিশতী ধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ধারা বা সিলসিলা এমনভাবে পরিচিত করেন। পরে তার অনুসারিরা যেমন: বখতিয়ার কাকী, বাবা ফরিদ, নাজিমদ্দিন আউলিয়াসহ অনেকে সুফি ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।   প্রারম্ভিক জীবন: ধারণা করা হয়, খাজা মইনুদ্দিন চিশতী ৫৩৬ হিজরি/১১৪১ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পারস্যের সিসটান রাজ্যের চিশতীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পারস্যে বেড়ে উঠেন। ১৫ বছর বয়সে তার পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার পিতার কাছ থেকে একটি বাতচক্র (উইন্ডমিল) ও একটি ফলের বাগান উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন।  
ঘুরে আসুন হরিণঘাটা বনাঞ্চল

ঘুরে আসুন হরিণঘাটা বনাঞ্চল

ঘুরতে সবারই ভালো লাগে। তবে তা যদি হয় বনাঞ্চল কিংবা সমুদ্রসৈকত। তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তাই সময়-সুযোগ বুঝে ঘুরে আসতে পারেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা থেকে।   অবস্থান: বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও পায়রা বন্দর। এর পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদের মোহনায় অবস্থিত হরিণঘাটা বনাঞ্চল।   নামকরণ: বড় প্রজাতির মায়াবী চিত্রল হরিণের বিচরণস্থল হওয়ায় এ বনের নামকরণ করা হয়েছে হরিণঘাটা বনাঞ্চল।   বনায়ন: ১৯৬৭ সাল থেকে বন বিভাগের সম্প্রসারণে নানা প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনটি সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার একরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন এ বনে কেওড়া, গেওয়া, পশুরসহ সুন্দরী ও ঝাউবন রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বনায়ন করা হয়। এছাড়া সাগর তীরে লালদিয়ার চরে নতুন বন হওয়ায় পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। এটি এখন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।   &g
কফি হাউসের সেই আড্ডা এখনো আছে

কফি হাউসের সেই আড্ডা এখনো আছে

হলুদ ট্যাক্সি ছুটছে কলেজ স্ট্রিটে। সামনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। নেমে গেলাম কলেজ স্ট্রিটের আগেই। চারদিক একটু ঘুরে দেখি।   গুগল ম্যাপ বলছে, এখান থেকে কফি হাউসে হেঁটে যেতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট। রাস্তার পাশেই খোলা ফাস্ট ফুডের দোকান। সহযাত্রী ডা. অনিক ‘সুন্দর দেখে’ দু'টি আলুর চপ নিলেন। মুখে দিতেই বোঝা গেল, সুন্দর হলেই সুস্বাদু হয় না।   সবুজ দেশি পেয়ারার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানি। কেজি হিসেবে বিক্রি হলেও পিস হিসেবেই কিনছেন সবাই। ৫ রুপি করে আমরাও কিনে নিলাম। দারুণ সুস্বাদু।   পেয়ারা খেতে খেতে পৌঁছে গেলাম কলেজ স্ট্রিটে। চারদিকে বই আর বই। মনে হতেই পারে, আপনি পুরান ঢাকার বাংলাবাজার চলে এসেছেন। এই দুপুরে একমুখি রাস্তায় তীব্র যানজট। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা হেঁটেই চলছে। সাথে অভিভাবকও আছেন।   বইয়ের দোকান পেরিয়ে পুরোনো একটি ভবন। এটিই কফি হাউস। গান শুনে ম
মাটির নিচে ভিন্ন জগৎ!

মাটির নিচে ভিন্ন জগৎ!

আমি কলকাতার বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে এলাম। স্মৃতিতে গেঁথে রাখা সেখানকার কিছু কথা বলব আজ। রিমঝিম বৃষ্টির দুপুর। কলকাতার বোটানিক্যাল ও নন্দন ঘুরে পাতাল রেলের সন্ধান করতে লাগলাম। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারলাম, আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তার পাশেই পাতাল রেলের স্টেশন! তারপর গেলাম স্টেশনের প্রবেশ পথে।   সিঁড়ি দিয়ে মাটির নিচে নামতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ যেতেই পেয়ে গেলাম স্টেশন। স্টেশনে পৌঁছেই অবাক হলাম! কারণ গভীর মাটির নিচে স্টেশনটি দেখে মনে হয়েছে, যেন আরেকটি জগতে চলে এলাম। এজন্য এমন অবাক হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়।   সেখানকার টিকিট কাউন্টারে শত শত মানুষের ভিড়। লোকে লোকারণ্য স্টেশনের প্লাটফর্ম দেখে বোঝার উপায় নেই যে, মাটির উপরে আছি নাকি নিচে! মাটির উপরের রেল স্টেশনগুলোতে যেমন ভিড় দেখেছি, মাটির নিচেরও ঠিক তেমনটি দেখলাম।   লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটলাম। সেখানে টিকিটের দাম
১০২ দিনে ৬৪ জেলায় সাইকেলে ভ্রমণ

১০২ দিনে ৬৪ জেলায় সাইকেলে ভ্রমণ

রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাবের রাস্তা দিয়ে পুরাতন ধরণের একটি বাইসাইকেল চালিয়ে আসছেন একজন। মাথায় কাপেড়ের তৈরি লাল সবুজের ক্যাপ। সাইকেলের সামনে-পিছনে মিলিয়ে রয়েছে ৩টি ব্যাগ। সামনে-পিছনে লেখা ‘বাংলাদেশর ৬৪ জেলা সাইকেল যোগে ভ্রমণ’।   এমন লেখা আর সাইকেল আরোহীর বেশভূষা দেখে সবার আগ্রহের দৃষ্টি সেই দিকে গিয়েই আটকাচ্ছে। সেই আগ্রহ থেকেই সাইকেল আরোহীর দিকে এগিয়ে যাওয়া। কাছে যেতেই সাইকেলের সামনের লেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো। সেখানে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা আছে- ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামজিক, জনকল্যাণ বাস্তবায়িত ও নির্মিত স্থান দর্শন এবং দেশের ৬৪ জেলায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানা ও জ্ঞান অর্জন করা’।   আলাপকালে সাইকেল আরোহী জানালেন, ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল পৌরসভায় তার বাড়ি। পেশায় সবজির দোকানি। দেশের সব জেলায় ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা অনেক দিনের । যদিও টাকা আর সময়ের
সাইকেলে চড়ে আফ্রিকা জয়ের স্বপ্ন চন্দনের

সাইকেলে চড়ে আফ্রিকা জয়ের স্বপ্ন চন্দনের

    সাইকেলে চড়ে হিমালয় জয় করার পর এবার আফ্রিকান সাফারি জয় করার স্বপ্ন দেখছেন ভারতের হৃদয়পুরের অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী চন্দন বিশ্বাস। ৩২ বছরের যুবক চন্দন পাড়ি দেবেন আফ্রিকা মহাদেশ।   চন্দন জানান, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করবেন তিনি। সাইকেলে চড়ে আফ্রিকা জয়ের উদ্দেশে যাত্ৰা শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। তারপর উপকূল বরাবর একে একে মিশর, মরক্কো হয়ে তানজানিয়া হয়ে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে। মাঝে পড়বে কিলিমাঞ্জারো পর্বত। এছাড়া পর্যায়ক্রমে বিশ্ব জয়ের স্বপ্নও রয়েছে তার।   > আরও পড়ুন- গারওয়াল হিমালয়ে লাল-সবুজের পতাকা তিনি মনে করেন, আফ্রিকা জয়ের জন্য তার সাড়ে ৩ বছর সময় লাগতে পারে। সাইক্লিং নেশা হলেও চন্দন পেশায় একজন সিনেমাটোগ্রাফার। সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনীত একটি সিনেমায় দেখা যাবে চন্দনের কাজ।   চন্দন বিশ্বাস বলেন, ‘সব সময়ই
কোথায় ঘুরবেন বাংলা নববর্ষে

কোথায় ঘুরবেন বাংলা নববর্ষে

আসছে বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতির একটি অনুষঙ্গ- কোথায় ঘুরতে যাবেন। একটু আগেভাগেই নিয়ে নিন সিদ্ধান্ত। যারা ঢাকায় বসবাস করছেন; তাদের তো ঘরের কাছেই। আসতে পারেন দূর-দূরান্ত থেকেও। আসুন জেনে নেই সেই স্থানগুলো সম্পর্কে-   রমনা পার্ক নববর্ষে ঘুরতে প্রথমেই বেছে নিতে পারেন নগরীর রমনা পার্ক। পার্কের বটমূলে বসে পহেলা বৈশাখের প্রধান উৎসব। এখানে দিনব্যাপী চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি আশপাশের কোনো দোকানে বসে খেতে পারেন পান্তা-ইলিশ।   টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র টিএসসিতেও ঘুরতে যেতে পারেন। যে কোনো জাতীয় উৎসবে স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। রমনা পার্ক থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এখানে এলে পেয়ে যাবেন গ্রামীণ মেলার পরিবেশ। তবে পহেলা বৈশাখের দিন প্রচুর ভিড় থাকে এখানে।   বাংলা একাডেমি যেতে পারেন বাংলা একাড
নতুন করে পাবো বলে

নতুন করে পাবো বলে

২০১৬ সালের ঈদুল ফিতর। খুব ভোরে সিলেটের কদমতলী নেমেই ফিরতি টিকিট কাটার উদ্দেশ্যে রেলস্টেশন। বাসে এসে, ফেরাটা অন্তত ট্রেনে হোক। তবে ঈদের দিন হওয়ায় স্টেশন বন্ধ। অগত্যা আবার কদমতলী গিয়ে বাসের টিকিট। রিকশাযোগে কিনব্রিজ পার হওয়ার সময় রবিরশ্মি স্বাগত জানালো। সারা দিনই রুদ্র ছিল রবি, মাঝে মাঝে মেঘের ব্যর্থ চেষ্টা। যা হোক, সিলেট শহরে পৌঁছতেই দেখি, কাঁচাপাকা নাতিদীর্ঘ কেশ ও শ্মশ্রুমণ্ডিত আশরাফ ভাই তার পাগলা ঘোড়ায় (মোটরবাইক) করে আমাদের এগিয়ে নিতে আসছেন। আমাদের আশরাফ ভাই। ঈদের দিন হলেও শুধু আমাদের জন্য তার বাড়ির বাইরে আসা। এক-দুই কথা বলে বন্দর বাজারে নাস্তা খেতে খেতে আলাপ।   কথা ছিল ৩ দিনের নামে বান্দরবান যাবো। বন্ধু জেমসের ক্যালাক্যালিতে ২ দিনের নামে সিলেট। টিকিট কাটার পর অনিবার্য কারণে তা ১ দিনে ঠেকল। তা-ও সই। এবার সফরে শুধু আমি আর জেমস।          
রাঙ্গামাটিতে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল

রাঙ্গামাটিতে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল

রাঙ্গামাটিতে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন’ বা ‘বিশেষ পর্যটন অঞ্চল’ গঠন করছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে। এ লক্ষে ১২শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর মাস্টার প্লানসহ ডিপিপি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। বর্তমানে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।   সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে রাঙ্গামাটিতে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের নির্দেশনায় এর মাস্টার প্লান তৈরি করে তা বাস্তবায়নে ১২শ’ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ২০১৭ সালের ২৯ মে সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।   রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেল