মুক্ত কথন

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের জন্য ::: লক্ষ্য করুন

এনামুল ইসলাম এনাম ::: ২০০১ সালের ৯/১১ এর টুইন টাওয়ারে হামলার পর সারা বিশ্বের মুসলমানসহ আমেরিকার মুসলমানদের মধ্যে যে রকম ভয় ভীতি ,উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছিল আজ প্রায় দেড় যুগ পরে রিপাবলিকান পার্টি থেকে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ঠিক একই রকমের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অবস্থার আরো অবনতি হওয়ারও তীব্র আশংকা রয়েছে । এই পরিস্থিতিতে যারা আমেরিকাতে বসবাস করছেন তাদের প্রধান কাজ হল পরিবেশ পরিস্থিতির উপর সর্বদা নজর রেখে একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্দ্ব থেকে এই আপদকালীন সময়ের মোকাবেলা করা । আমাদের একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আমেরিকা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশ যে দেশে আইনের শাসন, সংবিধান , মানবাধিকার , জননিরাপত্তা সহ সবধরণের সুযোগ সুবিধা রক্ষা করা হয়ে থাকে । তাই একজন প্রেসিডেন্ট ইচ্ছে করলেও অনেক কিছুর পরিবর্তন করতে পারেন না । এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘ আইন

প্রবাসীদের মরদেহ ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাস বিভ্রাট ! ওয়েজআর্নার কারা ?

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : প্রবাসী বাংলাদেশীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে প্রেরণের দাবী বহুদিন ধরেই এক জ্বলন্ত ইস্যু। বছরের পর বছর ধরে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছেই সরাসরি উত্থাপন করা হয়েছে অত্যন্ত মানবিক এই বিষয়টি। বরফ গলেনি কোন কালেই। সর্বশেষ গতমাসে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসেও প্রবাসীদের তেমন কোন সুসংবাদ জানানো হয়নি সরকার প্রধানের তরফ থেকে। ঝুলে থাকা এই ইস্যুতে ৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার অনেকটা হঠাৎ করেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ফেসবুকে তাঁর ইমেইল সম্বলিত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। হাজার হাজার লাইক এবং শতশত শেয়ার ও কমেন্টসের ভিড়ে অপ্রিয় কিছু সত্য চাপা পড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাসে উল্লেখিত ওয়েজআর্নারের গোলকধাঁধা নিয়ে লিখতে হচ্ছে তাই বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে। প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, “যদিও

ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম, র‌্যাবের অভিযান এবং তারপর

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু :: প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য, সূত্র, জানা, শুনা এবং দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজির অনিয়ম, ভূয়া ডাক্তার এবং কোন কোন ফার্মেসীতে মেয়াদ্দোত্তীর্ণ ঔষধসহ নেপথ্যে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, নেশার ড্রাগ, প্যাথেড্রিন ইত্যাদির রমরমা বাণিজ্য চলে আসছে। ফলশ্র“তিতে প্রায় সময় এসব রমরমা অনিয়মের রোদকল্পে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ড্রাগ নিয়ন্ত্রক, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা হয়ে থাকে। ঔষধের পাইকারী বাজার মিটফোর্ড ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব সহ ড্রাগ কন্ট্রোল প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অনেক নিষিদ্ধ ও মেয়াদ্দোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ করে থাকে। যার ফলে এসব অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ীরা রাস্তাঘাট অবরোধ ও ধর্মঘট ডেকে থাকে। ফলশ্র“তিতে জনজীবনে যেমন চরম নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়, তেমনি মৃত্যুর পথযাত্রী মারাত্মক রোগে আক্রা

বিলেত-আমেরিকা পাউন্ড ডলার আর ঘুমহীন চোখে সপ্ন গড়ার দেশ

মুনজের আহমদ চৌধুরী :: পরবাস অর হা-হুতাশ সমান্তরালে বোধকরি বয় নিরবধি। বিলেত-আমেরিকা পাউন্ড ডলার আর ঘুমহীন চোখে সপ্ন গড়ার দেশ। অবশ্য কারো কারো কাছে সপ্নভঙ্গেরও দেশ। বিশেষ করে,আমাদের দেশে থাকা স্বজনদের কাছে দুরপ্রাচ্য বা মধ্যপ্রাচ্যের ফটোজেনিক মেকি চাকচিক্য কেবলই তাড়া করে ফেরে। ফেসবুক আর সব সামাজিক মাধ্যমে, আমরা প্রবাসীরা ভালো পিক্সেলের সেলফোন আর ক্যামেরায় তোলা, ফটোশপে সৃজিত ফটো আপলোড দিই। সেসব ঝকঝকে ছবি পরবাসের জীবন- জীবিকার যাপিত যন্ত্রনা,বেদনা আর যাতনার ছাপকে আড়াল করে, আমরা আড়াল করি। আর ঝকমকে বর্নিল সেসব ছবি দেখে আমাদের সময়ের তরুণদের মত সব সময়ের তারুন্য বিপুল উৎসাহে উৎসুক হন দেশ ত্যাগে, পাড়ি দিতে পরবাসে। নদীর ঐ পারের সুখের প্রবাদময়তা এখানে প্রাসঙ্গিকতার বিচারে পায় প্রাঞ্জলতা। এজন্যই আমি প্রায়ই বলি, ছবি সব সময় সত্য কথা বলে না। ছবি আসলে বাস্তবতার সৎ প্রতিবিম্ব নয় যন্ত্রবাজির এ কৌশলী সময়ে

ভূমিকম্পকে ভয় পেলে চলবে না

মীর আব্দুল আলীম ::: ভূমিকম্পের ভয় যেন আমাদের পেয়ে বসেছে। ভুমিকম্পে এযাৎ বাংলাদেশে মানুষ মারা যাবার ঘটনা না ঘটলেও আতংকে আর হুড়োহুড়ি করে বাড়িঘর থেকে নামতে গিয়ে মানুষের মৃত্যুও খবর আমরা জানি। গত ৩ জানুয়ারি ৩টার কিছুসময় পর সারাদেশে মাঝারি মাত্রার ভুমিকম্পে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্কিত হয়ে এক স্কুলছাত্রীসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে কিংবা দেয়াল চাপা পরে কারো মৃত্যু ঘটনা ঘটেনি। ভয় থেকেই এ মৃত্যু। এর আগেও এমন মৃত্যুর বিষটি আমাদের জানা আছে। ভূমিকম্পে ভয় পাওয়া ঠিক নয়। ভূমিকম্প আচানকই হয়। কোথায় কি হবে কেউ আগেভাগে বলতে পারে না। ভূমিকম্পে কাঁপছে বাড়িঘর, এই বুঝি ভেঙে পড়ছে মাথার উপর। এমন ভয় আমাদের মানুষিক রোগী বানিয়ে ফেলতে পারে। জন্মেও পর থেকেই দেখছি আর শুনে আসছি শক্তিশালি ভুমিকম্পে বাংলাদেশের বড় অংশ ধ্বংষ হয়ে যাবে। ৪৬ বছর পার
বিজয় দিবস ২০১৬

বিজয় দিবস ২০১৬

১.   ভাবতে খুব অবাক লাগে যে একাত্তর সালের সেই অবিশ্বাস্য বিজয়ের দিনটির পর পঁয়তাল্লিশ বছর কেটে গেছে। যখন ফিরে তাকাই মনে হয় মাত্র সেদিন বুঝি ছিল সেই বিজয়ের দিন।   আমাকে মাঝে মাঝেই কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন কোনটি, আমার কখনও এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এক মুহূর্তও দেরি হয় না। সব সময়েই বলি উনিশ শ একাত্তর সালের ষোলই ডিসেম্বর ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।   শুধু আমি নই, আমি নিশ্চিত আমার বয়সী যারা একাত্তরের ভেতর দিয়ে এসেছে তারা সবাই একই উত্তর দেবে। আমি সব সময়েই বলি যারা একাত্তরের ভিতর দিয়ে এসেছে তাদের জীবনটি পৃথিবীর যে কোনো মানুষের জীবন থেকে ভিন্ন একটি জীবন। এই জীবনে আমরা পাকিস্তানি মিলিটারী এবং তাদের পদলেহী অনুচরদের অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুরতা দেখেছি; সেটি দেখে আমাদের মানুষ নামক প্রজাতির উপর পুরোপুরি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলার কথা ছিল, ক

যে আশংকা ‘আতংকময়’

অয়েস খসরু :এবারের বিজয় দিবসে একাত্তরে নিহত শহীদদের দুর্ভাগা সন্তানদের একটি আশংকা- বিএনপি গিলে ফেলেছে। এখন আওয়ামী লীগে ঢুকছে রাজাকার, আল বদরের দোসররা। আর এই অনুপ্রবেশকে তারা রীতিমত ‘আতংকময়’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের এই আশংকা দেশের মানুষের মনের ভেতরে গহীন শূন্যতার জন্ম দিচ্ছে। অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ ও অনেক বিসর্জন। যে ত্যাগের কোনো তোলনা হয় না, ৪৫ বছরেও হয়নি- কখনো তা হবেও না। বুকের গহিনে অপার শূন্যতার উপর ভিত্তি করে জন্ম হলো আমাদের দেশের। এখন চোখ ভিজে অনেক সন্তানের। আর এতো দিন মা তার ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে পড়পাড়ে বিদায় নিয়েছেন। স্বামীহারা স্ত্রীরা হৃদয়কোনে যন্ত্রনা বেধে সন্তানদের নিয়ে পথ চলেছেন। ভাই হারা বোনেরা ছলছল চোখে গ্রহন করে বিজয়ের স্বাদ। যন্ত্রনা কমেনি। এই যন্ত্রনার আগুন যেনো চিরায়ত সুপ্ত। ধুকে ধুকে জ্বলেপুড়ে অঙ্গার করে গোটা জীবন।- এতো কিছুর পরও একটি অপেক্ষা ছিল ‘স্বাধীনতা

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ

হাবিবুর রাহমান: রান্নার জন্য অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার মানুষজন। গ্যাস না থাকায় অনেকের রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না। তাই পরিবারের জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এ অবস্থায় অবিলম্বে গ্যাস সংকট দূর করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   জাগো নিউজের এ সংক্রান্ত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) ছুটির দিনে উত্তরা ও গুলশানের জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে মোট ১০টি টেলিফোনে অভিযোগের ৭টিই ছিল গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহ সংক্রান্ত। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যান্টিনেও গ্যাস সরবরাহ নেই বলে অভিযোগ এসেছে। এছাড়া লালমাটিয়া, উত্তরা, ইব্রাহিমপুর, ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, মিরপুর আলীবাগ, আশকোনা প্রেমবাগান, ধানমন্ডি, লালবাগ, আজিমপুর, কামরাঙ্গীরচরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের এ সংকট চলছে। তিতাস গ্যাস
ভণ্ড দেশপ্রেমিক সেজে আর কতদিন?

ভণ্ড দেশপ্রেমিক সেজে আর কতদিন?

গত কয়েক বছর ধরে ‘দেশপ্রেম’ শব্দটা শুনলেই কেমন জানি লাগে! চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফেসবুকের হোমপেজে হাজার হাজার ‘বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা’, ‘স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা’, ‘মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা’। সত্যিই তো এসব না থাকলে কি দেশপ্রেমের প্রমাণ পাওয়া যায়? একজন মানুষকে কীভাবে বোঝানো সম্ভব যে আদৌ আমি দেশপ্রেমিক নাকি রাজাকার? এখন তাই দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসার চেয়ে নিজেই নিজেকে জাহির করা ‘দেশপ্রেমিক’র সংখ্যা বেশি।   আমি বলছি না যে, এসব যারা লেখেন তারা দেশকে ভালোবাসেন না। দেশকে ভালোবাসার সঙ্গে এসব শুভেচ্ছাবার্তা লেখার কোনোই সম্পর্ক নেই। কিন্তু মৌলবাদী দেশপ্রেমিক হলে সমস্যা আছে, মারাত্মক সমস্যা! কেউ দেশের পতাকাকে জায়নামাজ বানিয়ে নামাজ পড়লে কি দেশকে, দেশের পতাকাকে অসম্মান করা হয়? জায়নামাজে তো বিভিন্ন মসজিদের মিনার, গম্বুজ ইত্যাদির নকশাও থাকে। মসজিদের মিনারের ওপর পা রাখা কি মুসলিমরা ঠ
সিগারেট বিড়ম্বনা

সিগারেট বিড়ম্বনা

ডাঃসৈয়দ  শাওকাত আলি :কোনো জোয়ানকে যখন ভাব নিয়ে চুরুটের ধোঁয়ার রিং ছাড়তে দেখি, মেজাজটা খারাপ হয় এবং আমি ৩০ বছর সামনে চলে যাই, দেখি এক বৃদ্ধ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের বেডে ধুঁকছে। আবার হাসপাতালে যখন বৃদ্ধদের ঘড়ঘড় শব্দে শ্বাস টেনে কাতরাতে দেখি, চলে যাই ৩০ বছর পেছনে, দেখি এক জোয়ান একের পর এক বিড়ি ফুঁকছে আর লোকমুখে রিং ছাড়ছে। অজান্তেই বিদ্রুপের হাসি চলে আসে। এক রাতে ট্রেনে উঠেছি, এক সম্ভ্রান্ত তরুণ কামরার ঠিক মধ্যে দাঁড়িয়ে ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছে। ঠিক যেন একটি ইটের ভাঁটার চিমনি। আমার সামনে বসা এক টাকমাথা ফ্রেঞ্চকাট প্রৌঢ়। ফ্রেঞ্চকাট লোক দেখলে অজ্ঞাত কারণে আমার ভয়ঙ্কর মনে হয়। আমার ধারণাকে সঠিক করে প্রৌঢ় আচমকা চিমনির উদ্দেশ্যে বিকট শব্দে গর্জন করে- 'এই বেয়াদবের বাচ্চা সিগারেট ফালা!' ট্রেনের সবাই লাফ দিয়ে উঠে ফিরে তাকায়, অমন সম্ভ্রান্ত তরুণকে এত সময