মুক্ত কথন

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ

হাবিবুর রাহমান: রান্নার জন্য অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার মানুষজন। গ্যাস না থাকায় অনেকের রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না। তাই পরিবারের জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এ অবস্থায় অবিলম্বে গ্যাস সংকট দূর করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   জাগো নিউজের এ সংক্রান্ত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) ছুটির দিনে উত্তরা ও গুলশানের জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে মোট ১০টি টেলিফোনে অভিযোগের ৭টিই ছিল গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহ সংক্রান্ত। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যান্টিনেও গ্যাস সরবরাহ নেই বলে অভিযোগ এসেছে। এছাড়া লালমাটিয়া, উত্তরা, ইব্রাহিমপুর, ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, মিরপুর আলীবাগ, আশকোনা প্রেমবাগান, ধানমন্ডি, লালবাগ, আজিমপুর, কামরাঙ্গীরচরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের এ সংকট চলছে। তিতাস গ্যাস
ভণ্ড দেশপ্রেমিক সেজে আর কতদিন?

ভণ্ড দেশপ্রেমিক সেজে আর কতদিন?

গত কয়েক বছর ধরে ‘দেশপ্রেম’ শব্দটা শুনলেই কেমন জানি লাগে! চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফেসবুকের হোমপেজে হাজার হাজার ‘বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা’, ‘স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা’, ‘মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা’। সত্যিই তো এসব না থাকলে কি দেশপ্রেমের প্রমাণ পাওয়া যায়? একজন মানুষকে কীভাবে বোঝানো সম্ভব যে আদৌ আমি দেশপ্রেমিক নাকি রাজাকার? এখন তাই দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসার চেয়ে নিজেই নিজেকে জাহির করা ‘দেশপ্রেমিক’র সংখ্যা বেশি।   আমি বলছি না যে, এসব যারা লেখেন তারা দেশকে ভালোবাসেন না। দেশকে ভালোবাসার সঙ্গে এসব শুভেচ্ছাবার্তা লেখার কোনোই সম্পর্ক নেই। কিন্তু মৌলবাদী দেশপ্রেমিক হলে সমস্যা আছে, মারাত্মক সমস্যা! কেউ দেশের পতাকাকে জায়নামাজ বানিয়ে নামাজ পড়লে কি দেশকে, দেশের পতাকাকে অসম্মান করা হয়? জায়নামাজে তো বিভিন্ন মসজিদের মিনার, গম্বুজ ইত্যাদির নকশাও থাকে। মসজিদের মিনারের ওপর পা রাখা কি মুসলিমরা ঠ
সিগারেট বিড়ম্বনা

সিগারেট বিড়ম্বনা

ডাঃসৈয়দ  শাওকাত আলি :কোনো জোয়ানকে যখন ভাব নিয়ে চুরুটের ধোঁয়ার রিং ছাড়তে দেখি, মেজাজটা খারাপ হয় এবং আমি ৩০ বছর সামনে চলে যাই, দেখি এক বৃদ্ধ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের বেডে ধুঁকছে। আবার হাসপাতালে যখন বৃদ্ধদের ঘড়ঘড় শব্দে শ্বাস টেনে কাতরাতে দেখি, চলে যাই ৩০ বছর পেছনে, দেখি এক জোয়ান একের পর এক বিড়ি ফুঁকছে আর লোকমুখে রিং ছাড়ছে। অজান্তেই বিদ্রুপের হাসি চলে আসে। এক রাতে ট্রেনে উঠেছি, এক সম্ভ্রান্ত তরুণ কামরার ঠিক মধ্যে দাঁড়িয়ে ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছে। ঠিক যেন একটি ইটের ভাঁটার চিমনি। আমার সামনে বসা এক টাকমাথা ফ্রেঞ্চকাট প্রৌঢ়। ফ্রেঞ্চকাট লোক দেখলে অজ্ঞাত কারণে আমার ভয়ঙ্কর মনে হয়। আমার ধারণাকে সঠিক করে প্রৌঢ় আচমকা চিমনির উদ্দেশ্যে বিকট শব্দে গর্জন করে- 'এই বেয়াদবের বাচ্চা সিগারেট ফালা!' ট্রেনের সবাই লাফ দিয়ে উঠে ফিরে তাকায়, অমন সম্ভ্রান্ত তরুণকে এত সময
বঙ্গনেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা!

বঙ্গনেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা!

সাহিদ মনসুর : জননেত্রী শেখ হাসিনা! তিনি সেদিন সিলেটে এসেছেন। মনে বড় আশা ছিল, একটিবার চন্দ্রমুখীকে দর্শন করবো। কিন্তু জঙ্গিদের ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি সমাবেশ করতে পারেননি। পত্রিকায় পড়েছি, স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল ৩২০০ পুলিশ। গর্বে বুকটা ভরে গেছে। যাই হোক, সেদিন অতিরিক্ত উত্তেজনাবশত প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সকালে খুব জরুরি একটা কাজে বেরিয়েছি, গাড়ি নেই একটাও। রাস্তার দুপাশের সব স্কুল কলেজ মাদ্রাসা দোকানপাট বন্ধ। ভাবলাম, শহরে এলিয়েন আসলো নাকি? নাকি দৈত্য দানব? এলিয়েনের আক্রমণের ভয়ে সবাই নিজ নিজ বাসায় অবস্থান নিয়েছে! পরে মনে হলো, আজ জননেত্রী আসছেন। আম্বরখানা পয়েন্টে যেতেই শুনি প্রধানমন্ত্রী আসবেন এখন। তাই প্রায় দুঘন্টা রাস্তার পাশের একটা গলিতে আটকে রাখা হলো আমাদের প্রায় তিন চারশো মানুষ

বুড়োরাই অঘটন ঘটাচেছন!

ইব্রাহিম খলিল :ডোনাল্ড ট্রাম্পই হচেছন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, সহকর্মীদের সাথে এই বাজি ছিলো অনেক আগেই । একি বাজি ধরেছিলাম বৃটেনের ব্রেক্সিট ভোটের সময়। কারন বর্তমান বিশ্বে দুটি ইস্যু রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত কার্যকরী ট্রাম্পকার্ড। এর একটি হচেছ উন্নত দেশগুলোতে ইমিগ্রেশন সমস্যা এবং অমুসলিম দেশগুলোতে মুসলিম বিরোধী অবস্থান। ২০১০ সালে বৃটেনের জাতীয় নির্বাচনের আগে কনজারভেটিভ পার্টির ইশতেহারের কথা স্মরন করলে দেখতে পাবেন- তৎক্ষালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন তার প্রত্যেকটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়নের ঘোষনা দিয়েছিলেন। নেট ইমিগ্রেশন কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিলো তার দলের ইশতিহারে। তার এই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন বৃটিশ জনগন। এই সুযোগে দু-দুবারই তিনি কনজারভেটিভ পার্টিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিলো ব্রেক্সিট ক্য
নারীর জন্য টয়লেটও নিরাপদ নয়?

নারীর জন্য টয়লেটও নিরাপদ নয়?

নারীর নিরাপত্তা আসলে কোথায়- এটা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজধানীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টয়লেটে মোবাইল ফোনে গোপনে এক নারীর ভিডিও ধারণের অভিযোগের পর বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। নিন্দনীয় এই ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধানমন্ডি থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে  হাসপাতালের কর্মচারী অভিযুক্ত হাসিবুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেছেন।   জানা যায়, ভুক্তভোগী  নারী তার মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সাতটার দিকে ধানমন্ডির পপুলারে এক মহিলা স্ত্রী ও প্রসূতি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি রক্ত পরীক্ষা করান। এরপর মূত্র পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে তৃতীয় তলার একটি টয়লেটে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে আসেন। এর কারণ হচ্ছে, ওই নারী যে টয়লেটে গিয়েছিলেন, তার পাশের টয
বাংলাদেশ-চিন নৈকট্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভিন্ন সমীকরণ

বাংলাদেশ-চিন নৈকট্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভিন্ন সমীকরণ

বিশ্বে প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র ১৬০৫-এ বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্থে। প্রথম ইংরেজি দৈনিক ‘লন্ডন গেজেট’ এর আবির্ভাব ১৬৫৫’তে। ভারতে তখন ছাপাখানাই হয়নি। আজকের বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার, মেলান অখন্ড বিশাল দেশটাতে কোথায় কী হচ্ছে জানার উপায় নেই। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতে সংবাদপত্রের মুক্তি অন্য কোথাও নয়, এই বাংলাতেই। সেই গর্ব ঢাকা-কলকাতার।   সংবাদপত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা জেমস অগাস্টাস হিকির নাম। তাঁর প্রেস থেকে তাঁরই সম্পাদনায় ১৭৮০’র ২৯ জানুয়ারি হাতে এল সাপ্তাহিক ইংরেজি সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল গেজেট’। প্রথম সম্পাদকীয়তে তিনি লিখলেন, ‘আই টেক প্লেজার ইন এনস্লেভিং মাই বডি ইন অর্ডার টু পারচেজ ফ্রিডম অব মাই মাইন্ড অ্যান্ড সোল’। দ্ব্যর্থহীন উচ্চারণ, আমি আমার মন আর আত্মার স্বাধীনতার জন্যই এই পত্রিকার প্রকাশের পরিশ্রম স্বীকার করছি। নির্ভীক, স্বাধীন সাংবাদিকতার লক্ষ্যে হিকির মত ছিল, ‘ও
বিদেশ গমনে ইচ্ছুকদের রপ্তানি নয়, সহযোগিতা করুন

বিদেশ গমনে ইচ্ছুকদের রপ্তানি নয়, সহযোগিতা করুন

মতামত বিদেশ গমনে ইচ্ছুকদের রপ্তানি নয়, সহযোগিতা করুন বিদেশ গমনে ইচ্ছুকদের রপ্তানি নয়, সহযোগিতা করুন সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানোর জন্য তৎপরতার কথা দেখতে পাচ্ছি পত্র-পত্রিকায়। আমি লিখেছি `মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানোর` কথা। কিন্তু, লোক পাঠানো সংক্রান্ত ব্যবসায়ি বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবার প্রচলিত ভাষা হচ্ছে- `শ্রমিক রপ্তানি `। অর্থাৎ বিদেশি শ্রমবাজারে শ্রমিক রপ্তানি। সাধারণত বাজার বলতে বুঝি যেখানে পণ্য বেচাকেনা হয়। বাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন ব্যাপারীরা। স্থানীয় বা দেশের বাজার ছাড়া বিদেশের বাজারেও আমরা পণ্য বেচাকেনা করি, যেটাকে আমদানী-রপ্তানি বলি। বিদেশে তৈরি পোশাকের বাজারে আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি করি। কিন্তু, বিদেশের শ্রমবাজারে কি রপ্তানি করি? উত্তর হচ্ছে- মানুষ রপ্তানি করি। অর্থাৎ বিদেশি শ্রম বাজারে আমরা যে পণ্য রপ্তানি করি সে পণ
তিন মাসেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ

তিন মাসেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ

মানুষের ব্যক্তি জীবনের মতো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও উন্নয়ন বা অগ্রগতি একটা নির্দিষ্ট সময় পেরুনোর পরই আসে। কলোনিয়াল যুগের অবসান ঘটার পর যে সকল দেশ স্বাধীনতা লাভ করে তাদেরকে উন্নয়ন ও সফলতা লাভ করতে মোটামুটি ভাবে চল্লিশ বছর বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশিই লেগে গেছে। এমনকি ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রায় পঞ্চাশ বছর লেগেছে ঘুরে দাঁড়াতে। কিন্তু ভারতের পাশেই যে পাকিস্তান, সে দেশটি এখনও পর্যন্ত পারেনি নিজেদের থিতু করতে, রাষ্ট্র হিসেবেই তার অবস্থান এখন টলোমলো। এ সব বিষয় বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, বাংলাদেশ আসলে ব্রিটিশ কলোনি থেকে পাকিস্তানের কলোনিতে পরিণত হয়েছিল বলে বাংলাদেশের যে কোনো অগ্রগতির ক্ষেত্রেই হিসেব কষতে গেলে ২৫ বছর সময়কালকে বিয়োগ দিতে হবে কারণ ২৫ বছর বাংলাদেশের পরাধীনতার কাল এবং সেই সঙ্গে যদি যোগ করি পঁচাত্তর পরবর্তী আরো দুই দশক
জলবায়ুর পরিবর্তনে খাদ্য ও কৃষিতে করণীয়

জলবায়ুর পরিবর্তনে খাদ্য ও কৃষিতে করণীয়

বছর ঘুরে আবরো ফিরে এলো বিশ্ব খাদ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বদলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাদ্য এবং কৃষিও বদলাবে- Climate is Changing. Food and Agriculture must too।একেবারেই সময়ের প্রেক্ষিত। গেল বছরগুলোতে জলবায়ুর পরিবর্তনে আমদের পরিবেশ প্রতিবেশের কি দারুণ পরিবর্তনই না হচ্ছে। শুধু কি পরিবর্তন। ক্ষতি করছে সব। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে আমাদের কৃষির। আর কৃষির সাথে খাদ্যতো ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিভিন্ন মাত্রায় দেখা যায়। গরম কাল আরও তাপময়, ক্ষণিকে আবার হঠাৎ ঠাণ্ডা। অনিয়মিত ও অসময়ে বৃষ্টি, কম সময়ে অধিক পরিমাণে বৃষ্টি এবং এর ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও ভূমি ধস, ভূমি ক্ষয়, শুকনো মৌসুমে কম বৃষ্টিপাত, বন্যার পরিমাণ ও তীব্রতা অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়া, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘায়িত বন্যা ও খরার ফলে ফসলহানি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমির পরি