মুক্ত কথন

টেকসই চাইনিজ যানজট

টেকসই চাইনিজ যানজট

আমি তোমাকে আবার সাবধান করে দিচ্ছি- উঁচু থেকে তুমি দেখতে পাও মাইল মাইল শূন্যতা প্রকৃতির নিয়ম ও নিয়মহীনতার সর্বনাশা মহিমা নতুন জলের প্রবাহ, তেজে স্রোত- যেন মেঘলা আকাশ উল্টো হয়ে শুয়ে আছে পৃথিবীতে মাঝে মাঝে দ্বীপের মতন বাড়িও কান্ডহীন গাছের পল­বিত মাথা ইন্দিরা, তখন সেই বন্যার দৃশ্য দেখেও একদিন তোমার মুখ ফস্কে বেরিয়ে যেতে পারে, বাঃ, কী সুন্দর!’   গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘ইন্ধিরা গান্ধীর প্রতি’ শিরোনামের এ কবিতাটি মনে পড়ছিল। কারওয়ানবাজারে আমাদের অফিসের আট তলার নিউজরুম থেকে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর অনেকটাই দেখা যায়, কারওয়ানবাজার থেকে প্রায় শেরাটন মোড় পর্যন্ত। চীনের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে যাবেন বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাস্তা ফাঁকা করে দেয়া হয়। ফাঁকা মানে ফাঁকা, রাস্তায় যেন পিঁপড়াও নেই। রাতের ঝলমলে আলোয় নজরুল ইসলাম এভিনিউকে
জাতীয় স্বার্থে ইলিশ রক্ষা করতে হবে

জাতীয় স্বার্থে ইলিশ রক্ষা করতে হবে

ইলিশ আমাদের  জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে গত  ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় জলসীমায় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। গত ২ অক্টেবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বিতরণ, বিপণন, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ, বিনিময়সহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এ সময় মাছের আড়ত, হাটবাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে (চেইন শপ) অভিযান পরিচালিত হবে। বলা বাহুল্য এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে এটা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।   ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ও সম্পদই নয়। বহু মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে ইলিশের ওপর। অর্তনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১৩ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় দুই শতাংশ।
পুঁজিবাজারে আশার আলো

পুঁজিবাজারে আশার আলো

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নতুন করে আশার আলো তৈরি করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। আর ঈদ পরবর্তী পুঁজিবাজারে প্রতিদিনই বেড়েছে সূচক ও লেনদেন।  এরপর এক কার্যদিবস বাজার নেতিবাচক থেকে, পুঁজিবাজারের গতি তার পরের কার্য দিবসেই পরিবর্তন হয়ে ঊর্ধ্বমুখি হতে দেখা যায়। আর এই ঊর্ধ্বমুখি থাকার প্রবণতা দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই অব্যাহত রয়েছে।   বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাজারের দিকে ঝুঁকছে। বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ। যার কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আশাবাদী হচ্ছে।  রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণেই শুধু নয় অর্থনীতির অন্য খাতেও ঊর্ধ্বমুখি পরিস্থিতি রয়েছে। ডিএসইর হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার। গত বছর
মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পট ২২৭ টি

মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পট ২২৭ টি

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান : কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন ও মহিলা আসনের (৩০) সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সমীক্ষার মাধ্যমে মোট ২২৭টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান (ব্ল্যাক স্পট) চিহিৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার কারণ নির্ণয়পূর্বক বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সমূহ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সমীক্ষার মাধ্যমে মোট ২২৭টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহিৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মহাসড়কের ৬৮টি ব্ল্যাক স্পটস-এর প্রতিকারমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি ব্ল্যাক স্পটস-এ প্রতিকারমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪৪টি ব্ল্যাক স্
আশুরার ত্যাগ ও শিক্ষা

আশুরার ত্যাগ ও শিক্ষা

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি সনের প্রথম মাসের ১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে আশুরা পালিত হয়। সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে এ দিনটি শোকের। আবার অন্যায়, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেতনায় উজ্জ্বল এই দিন।   হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালায় শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন। এছাড়া ফেরাউনের জুলুম থেকে হযরত মুসা (আ.) পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন ১০ মহররম। তার অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়েছিলেন এই দিনে। আর নীল নদে ডুবে যায় ফেরাউন ও তার অনুসারীরা। ইসলামের আরও অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে।   ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কারবালা প্রান্তরে। অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে ইয়া

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা : দায় কার ?

মহাসড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদ। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কত পরিবারকে যে পথে বসতে হচ্ছে, কত পরিবার যে তাদের প্রিয় মানুষকে হারাচ্ছে, কিংবা কতজন কর্মক্ষম মানুষ তাদের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন, এর কোনো ইয়ত্তা নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের এমন কোনো স্তর নেই, যারা এ দুর্ঘটনার আওতা থেকে নিরাপদ। রাষ্ট্রের অনেক খ্যাতিমান ও বরেণ্য ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। তবে ঈদ মৌসুমে এ দুর্ঘটনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। হালে এ মাত্রা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গেল ঈদের ছুটিতে ২১০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৫ জন নিরীহ মানুষ। কিন্তু কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা? মহাসড়কগুলো কেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে? এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দায়িত্ব যাদের, তারা সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করেন না। তাদের

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্পঃ জেডো মুই আনিস আজাকার

‘জেডো মোক চেনেন নাই, মুই আনিস। হরিকেশের আনিস।’ বক্তার মাওলানা বিরক্ত চোখে তাকালেন। জোহরের নামাজ শেষে একান্তে দোয়া-দরুদ পড়ছিলেন তিনি। এসময় অনাকাঙ্খিত আগন্তকের আগমনে তিনি শুধু বিরক্ত নন; তীব্রভাবে ক্ষেপে উঠলেন। অনেক কষ্টে রাগ দমন করতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে এসব উটকো ঝামেলা এসে শুধু হাড়ির ভাত ধ্বংস করেনা, যাবার সময় ইনিয়ে-বিনিয়ে দু:খের কথা বলে তার সহধর্মিনীর আঁচলের মুঠোও হজম করে ফেলে। অনেক কষ্টে রাগ দমন করে তিনি লোকটির দিকে আড়চোখে তাকালেন। বেগুনী কালারের একটা প্যান্ট পড়া। দুমড়ে-মুচড়ে আছে। লাল সোয়েটারের উপরে পাঞ্জাবী গলিয়েছে। গলার দুপাশে ঝুলছে রঙচঙে মাফলার। থুতুনীতে অল্প দাঁড়ি। পানের রস কষে লেগে আছে। লোকটিকে চেনা চেনা লাগছে। তিনি বিরক্ত মাখা গলায় বললেন, ‘কি নাম বললে?’ আনিস দু’কানে হাসি ঠেকে বললো, ‘জেডো মুই কদিমল মওলানার বেটা, আনিস। আনিস আজাকার!’ এবার বক্তার মওলানার চোখে সব অতীত স্মৃতি ভেসে উঠল। তি

পশু জবাই এবং ঈদের দিনে একটি অনুরোধ …

ইব্রাহিম খলিল  ::: পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা । আল্লাহ যাদেরকে তৌফিক দিয়েছেন, তারা কোরবানি দিবেন । এটা ভালো এবং ছওয়াবেরও কাজ। কিন্তু অনেকেই কুরবানী নিয়ে বড়াই করেন । কে কতো বড়ো কোরবানি দিলেন । অনেকে পশুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দিচ্ছেন, পশু জবাই করছেন, রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে এসব ভিডিও আপলোড করছেন । স্বাভাবিকভাবেই এ সমস্ত ছবি দেখলে খারাপ লাগে। মনে রাখবেন সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু মুসলমান নয় আমাদের অন্য ধর্মের ভাই বোনরাও রয়েছেন । এর মাধ্যমে আপনি কিন্তু কোরবানি সম্পর্কে একটি নেগেটিভ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন । ফেইসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে এসব ছবি দেয়ার কারণে আমাদের অন্য ধর্মের ভাই বোনদের কাছ থেকে অনেক নেগেটিভ কমেন্ট আসছে । তাদের অনেকেই বলছেন, দেখ মুসলমানরা কিভাবে নির্দয়ের মতো গরু জবাই করে, পশু হত্যা করছে । বিশ্বে এনিম্যাল রাইটস নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোও সোচ্চার হচ্ছে। ফেসবুকের এসব ছবি এবং ভিডিও