সময়-অসময়

বিএনপির নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড

বিএনপির নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড

গোলাম মাওলা রনি :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে প্রায়ই আমার কথাবার্তা হয়। তাদের মধ্যে অনেকে আমার লেখার নিয়মিত পাঠক। তারা প্রায় প্রতি সপ্তাহে ফোন করে দেশের রাজনীতি নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেন এবং নতুন বিষয়ে নিবন্ধ লেখার জন্য বুদ্ধি পরামর্শ দেন। মানুষ হিসেবে আমি তাদের চাইতে বয়সে নবীন এবং রাজনৈতিক পদ-পদবিতে আমার অবস্থান তাদের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। কাজেই তারা কেন আমাকে ফোন করেন, সেই কারণ খুঁজতে গিয়ে আমি গলদঘর্ম না হয়ে বরং তাদের কথাবার্তা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আমার লেখাকে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য করার সর্বোত চেষ্টা করে থাকি। গত সপ্তাহে নয়া দিগন্ত এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত নিবন্ধ দু’টি পড়ে ক্ষমতাসীন মহাজোটের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সরকারের প্রধানতম মিত্র একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির অংশগ্রহণ এবং তাদের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে
একাদশ সংসদের জটিল সমীকরণ!

একাদশ সংসদের জটিল সমীকরণ!

আগামী সংসদ নির্বাচন যে কতটা জটিল, কঠিন এবং শ্বাসরুদ্ধকর ক্লাইমেক্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে তা বর্তমানকালের কিছু হালহকিকত, বাতাসে ভেসে বেড়ানো গুজব এবং রাজনীতিবিদদের হম্বিতম্বি, চালচলন ও ইশারা-ইঙ্গিত দেখলেই অনুমান করা সম্ভব। বিএনপি নেত্রীর কারাদণ্ড, তারেক রহমানের পাসপোর্ট বিতর্ক এবং আওয়ামী লীগের একদল নেতার ভারত গমনের রসায়ন পর্যালোচনা করলে এ কথা স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন কোনোভাবেই দশম সংসদ নির্বাচনের মতো হবে না। প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের ভাষা ধীরে ধীরে মোলায়েম হতে হতে একসময় শান্ত-শীতল ও সুমধুর রূপ লাভ করে। অন্য দিকে, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলের ভাষা চাঙ্গা হতে হতে একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছে, যা দেখে মনে হয় যে, তারাই হয়তো আগামী দিনের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজনীতির চিরচেনা এই ঐতিহ্য হাল-আমলে বাংলাদেশে উল্টো
বিশৃঙ্খল রাজনীতির উচ্ছৃঙ্খল প্রতিবাদ!

বিশৃঙ্খল রাজনীতির উচ্ছৃঙ্খল প্রতিবাদ!

গোলাম মাওলা রনি ইচ্ছে ছিল ভিন্নতর বিষয় নিয়ে লিখব। কিন্তু সে রাতের টকশোর ব্যতিক্রমী আলোচনা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আজকের নিবন্ধ লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না।   বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোর প্রতিদিনই অনেকগুলো বাহারী টকশোর আয়োজন করে থাকে। এগুলোর মধ্যে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচারিত টকশোটিতে অন্যান্য রাজনীতিবিদ,  সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের মতো মাঝেমধ্যে আমারও ডাক পড়ে।   গত পয়লা এপ্রিল রাতের শোটিতে আমাকে যখন নিউজ টোয়েন্টিফোরের কর্মকর্তা বান্না আমন্ত্রণ জানালেন তখন আমার মানসিক প্রস্তুতির জন্য বললেন যে, আমার সঙ্গে আলোচক হিসেবে থাকবেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতার এবং অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন অধ্যাপক সামিয়া রহমান। প্রথামতে, অনুষ্ঠানের চারজন অতিথির মধ্যে বাকি দুজন হলেন সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান এবং বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজা
সাংবাদিকরা এখন হুমকি’র মুখে ……..

সাংবাদিকরা এখন হুমকি’র মুখে ……..

ফারুক আহমেদ: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার বিবেচনা না করেই ৫৭ ধারায় মামলা নেয়া হচ্ছে৷ মামলা হলেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে৷ এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায়৷ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, তা আমি বলছি না৷ তবে হয়রানির জন্য মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এই ধরনের হয়রানির ঘটনা অতীতে এত দেখা যায়নি৷ সম্প্রতি এগুলো অনেক বেড়ে গেছে৷ গত ২০ ডিসেম্বর মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক নিয়ে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী৷ তারা সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং প্রতিবেদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য্যকে হত্যার হুমকি দেয়৷ ওই গোষ্ঠীর বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের উকিল নোটিশও পাঠায়৷ তবে অভিযোগ উঠায় ছাপা হয়ে যাওয়া মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক বাতিল করে সরকার।এতে সরকারের গচ্চা অন্তত ১৫ কোটি টাকা। এর আগে জঙ্গিবাদে উসকানি এবং নারী নেতৃত্ব বিরোধী তথ্য সংবলিত মাদ্র
স্বপ্নের পদ্মা সেতু! তাড়াহুড়া কাম্য নয়

স্বপ্নের পদ্মা সেতু! তাড়াহুড়া কাম্য নয়

সরকারের শেষ সময়ে এসে দেশের নিরুত্তাপ রাজনীতিতে পদ্মা সেতু হঠাৎ করেই নতুন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ব্যঙ্গ করে বলেন, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে।   সুতরাং যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। এ কারণে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী এবং সমর্থক-সজ্জনদের আগামী দিনে জোড়াতালির ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা সেতুতে চড়ে সর্বনাশা  পদ্মা নদী পাড়ি না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   এর বাইরে সরকার সমর্থক নেতা-কর্মীরা নানা বচন-বিবৃতিতে বিভিন্ন মাধ্যমে বেগম জিয়ার সমালোচনা করেছেন। টিভি টকশো, রাজপথ, সভা-সমিতি, সেমিনার এবং ফেসবুকে সরকার সমর্থক এবং বিরোধীরা পদ্মা সেতুর জোড়াতালি নিয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে হাজারো যুক্তি ব্যঙ্গ কৌতুক এবং টিকা-টিপ্পনী কেটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে
ভাগ্যবতীর কুদরতে ডাকে পাখি মাঝরাতে!

ভাগ্যবতীর কুদরতে ডাকে পাখি মাঝরাতে!

সেবার এক অদ্ভুত দাম্পত্য কলহ দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। দম্পতিটিকে আমি চিনতাম বহুকাল আগে থেকে।   তাদের দাম্পত্যের প্রেমময় রসায়ন, সন্তান-সন্ততি এবং সচ্ছলতা দেখে অন্য দম্পতিরা ঈর্ষা করতেন। স্বামীটি ছিলেন একটি বহুজাতিক কোম্পানির বড় কর্তা। দেশ-বিদেশের লেখাপড়া, রুচিশীল পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সুদর্শন দেহসৌষ্ঠবের পাশাপাশি নম্রতা, ভদ্রতা ও সৌজন্যতায় তিনি ছিলেন অনন্য। তার স্ত্রী ছিলেন অনিন্দ্যসুন্দরী, সহজ-সরল পল্লীবালা। দুনিয়ার কোনো সাতপাঁচ বা নয়ছয় মহিলাকে স্পর্শ করত না। খুব কম কথা বলতেন এবং দেখা-সাক্ষাৎ হলে মিষ্টি করে মুচকি হাসি দিয়ে সামাজিকতা রক্ষার চেষ্টা করতেন। হঠাৎ একদিন কীসে কী হলো বুঝতে পারলাম না। সুখী দম্পতিটির ঘর থেকে প্রচণ্ড হট্টগোল, ঝগড়া-ঝাঁটি এবং চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটির শব্দ ভেসে এলো। এগিয়ে যেতেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উচ্চৈঃস্বরে পরস্পরের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউর করে আগন্তুকদের
মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে

মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে

গোলাম মাওলা রনি : আমার পোস্টার নিয়ে প্রতিপক্ষের সর্বাত্মক যুদ্ধ ও তান্ডব দেখে মনে হচ্ছে গলাচিপা-দশমিনায় মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে। সর্বস্তরের জনগন আমার পোস্টার লাগাচ্ছে এবং দূর্বৃত্তরা অস্ত্র উচিয়ে কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো বা রাতের আঁধারে ছিড়ে ফেলছে। এ অবস্থায় জনগন নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে পুনরায় পোস্টার ছাপিয়ে লাগিয়ে দিচ্ছে। পোস্টারের বিরুদ্ধে মহল বিশেষের দূর্বৃত্তপনা এবং চুলকানী দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড পোস্টারের মালিককে আগামী সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়নের ব্যাপারে গ্রীন সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছেন !!! আমি অবশ্য এ ব্যাপারে একটি টু শব্দও আজ অবধি উচ্চারণ করিনি। আমি কেবল পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মিলিটারী জিনিয়াস জেনারেল সান ঝুর একটি উপদেশ মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি- জেনারেল সান ঝু বলেন-” তুমি যদি তোমার প্রতিপক্ষকে চিনতে পারো তবে তাকে একশ বার যুদ্ধে
বিপথগামী তারুণ্যের সর্বনাশা গন্তব্য!

বিপথগামী তারুণ্যের সর্বনাশা গন্তব্য!

তারুণ্যের বিপথগামিতার জন্য আমরা কেবল ব্যক্তিকে দায়ী করব- নাকি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দায়ী করব, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে। আধুনিক সভ্যতার নামে অসভ্যতা, বিজাতীয় সংস্কৃতি, ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, কালো টাকার প্রভাব এবং বেহিসাবি অর্থব্যয়ের কারণে মানুষের মন-মস্তিষ্কে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে সামাজিক নানা রোগবালাই এবং মানবিক বিপর্যয় মহামারী আকারে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। অশ্লীলতা, অমানবিকতা, পাপাচার, অবিচার, অত্যাচার, অনাচার ইত্যাদি নেতিবাচক কর্মগুলো সামাজিক পোস্টারে পরিণত হয়েছে। ফলে কে যে কখন এসব পোস্টার দেখে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে বা এসব মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে, বলা যায় না     বাহারি এবং অদ্ভুত সব নেশায় পাগলপারা হয়ে উঠেছে দেশের তরুণসমাজ। তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও পোশাক-পরিচ্ছদেও এসেছে অদ্ভুত পরিবর্তন। আগেকার দিনে ছেলেমেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেই বিয়
রাজনীতির অশনি সঙ্কেত নাকি টার্নিং পয়েন্ট!

রাজনীতির অশনি সঙ্কেত নাকি টার্নিং পয়েন্ট!

গোলাম মাওলা রনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই কেমন যেন হয় উঠেছে। কেউ বলছেন এটা রাজনীতির জন্য অশনি সঙ্কেত। আবার অনেকে বলাবলি করছেন, এটি এক ধরনের টার্নিং পয়েন্ট, অর্থাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। মূলত বেগম জিয়ার স্বদেশ প্রতাবর্তনের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাতাস বইতে শুরু করে। লন্ডন থেকে ফেরার পর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তার গুলশান কার্যালয় অবধি রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে অগণিত দলীয় নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে তাকে বরণ করে নিয়েছেন, তা এক অর্থে অভূতপূর্ব এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিরল ঘটনা। শাসকদল আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা যখন বেগম খালেদা জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করছিলেন, ঠিক তখনই বিএনপি নেত্রী আরো একটি চমক দিয়ে তার প্রতিপক্ষের হিসাবের খাতাটি অনেক জটিল ও কঠিন করে দিয়েছেন।   বেগম জিয়া অনেকটা ঝড়ের গতিতে সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি কক্সবাজা
যারা মিথ্যা বলো এবং যারা তা শোনো!

যারা মিথ্যা বলো এবং যারা তা শোনো!

গোলাম মাওলা রনি:   প্রথমে নিজের একান্ত পারিবারিক একটি ঘটনার কথা বলে আজকের প্রসঙ্গটি শুরু করতে চাই। আমার কন্যাসন্তানটির বয়স তখন তিন কিংবা চার বছর। অনিন্দ্য সুন্দর কন্যাশিশুটির মেধাদীপ্ত কথাবার্তা এবং চপল-চঞ্চল ছুটে চলার ছন্দে আমাদের পরিবারে তখন আনন্দের বন্যা বইছিল। আমরা তাকে কাছে ডাকা মাত্র সে কথার ফুলঝুরি ছোটাত এবং নিত্যনতুন অবাক করা কথাবার্তা বলে আমাদের চমকিত করে তুলত। আমরা যে সবাই তার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি এবং তার বাকচাতুর্যের প্রশংসা করছি, সেটা সে বিলক্ষণ বুঝতে পারত। ফলে আমাদের প্রশংসা এবং হাততালি পাওয়ার জন্য সে হঠাৎ অভিনব আচরণ শুরু করে দিলো। সে বানিয়ে বানিয়ে বাহারি মিথ্যা কথা বলে আমাদের আরো অধিকমাত্রায় খুশি করার জন্য চেষ্টা চালাতে লাগল।   একটি তিন-চার বছরের শিশুর আধো আধো বোলের মিথ্যা ভাষণ অনেককে আনন্দিত করলেও আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। কারণ, আমি জানি সে মারণ