সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি

জীবন ও সাহিত্যে শেক্​সপিয়ার

জীবন ও সাহিত্যে শেক্​সপিয়ার

ভুবনবিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্​সপিয়ারের জন্ম–মৃত্যুর মাস এই এপ্রিল। এপ্রিলে জন্ম এবং মৃত্যুবরণ করা এই সাহিত্যিকের জীবন তাঁর সাহিত্যের মতোই বৈচিত্র্যপূর্ণ। আজও নানা রহস্যে আবৃত তাঁর জীবনের অনেক অধ্যায়। ট্র্যাজেডি, কমেডি, ইতিহাসনির্ভর প্রায় ৪০টি নাটক, পৌনে ৪০০ কবিতায় সমৃদ্ধ–সফল সাহিত্যকর্মের সবটাই কি তাঁর নিজের রচনা? মানবচরিত্রের এমন বিস্ময়কর পরিধির যিনি উন্মোচন করেছেন, তিনি কেন নিজের স্ত্রীকে মৃত্যুর আগে উইলে শুধু একটি বিছানাই দিয়ে গিয়েছিলেন। এ কি নিছক ঠাট্টা অথবা রাগ? সুরাহা নেই। সেসব প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য জানিয়ে রাখি: শেক্​সপিয়ারকে ব্যাপটাইজ করা হয় ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল। সাধারণত শিশু জন্মের তিন দিন পর এটা করা হতো বলে ধারণা করা হয়। তাঁর জন্ম হয় ২৩ এপ্রিল, ১৫৬৪। ১৫৮৫ সাল পর্যন্ত জন্মস্থান স্ট্রাটফোর্ড-অন-অ্যাভন-এ শেক্​সপিয়ারের শিক্ষাজীবন, বিয়েসহ অন্যান্য বিষয়ে
বালি-ঘড়ি উল্টে যেতে থাকে

বালি-ঘড়ি উল্টে যেতে থাকে

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গুলতেকিন খানের কবিতার বই বালি-ঘড়ি উল্টে যেতে থাকে। নিজস্ব ভঙ্গি-ভাষায় এ বইটি কবির যাপিত জীবনের অনিন্দ্য সুন্দর সব মুহূর্তকে উপস্থিত করেছে। পাশাপাশি সমাজের যাবতীয় অস্থিরতা, অন্যায্যতা, বৈষম্য আর অসংগতিগুলোকেও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণ দক্ষতায়। কবিতাগুলোতে সারল্যের সঙ্গে মিশেছে সহজিয়া দর্শন। এই বইয়ে বাস্তবের মাটিতে পা রেখেই তিনি কল্পনাকে বিস্তার করেছেন। কবিতাগুলো পাঁচটি পর্বে বিভক্ত। পর্বগুলো কবির ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে রাষ্ট্র আর সমাজের মিথস্ক্রিয়াকে অনুভবগ্রাহ্য ভাষায় তুলে ধরতে চেয়েছে। বইটি পাঠকদের ভালো লাগবে।  
গল্প বৈদেশী

গল্প বৈদেশী

জি এইচ হাবীবের বই গল্প বৈদেশী। পৃথিবীখ্যাত সাহিত্যিকদের সব জনপ্রিয় গল্প স্থান পেয়েছে বইটিতে। অনূদিত গল্পগুলো ইংরেজি, হিস্পানি, চেক, আরবি, লাতিন ও রুশ ভাষার হলেও অনুবাদক গল্পগুলো অনুবাদ করেছেন ইংরেজি থেকে। বইটিতে বাস্তবধর্মী গল্প যেমন আছে, তেমনি আছে রম্য, শ্লেষাত্মক, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি এমনকি লোকগাথা ও ফ্যান্টাসিমূলক কাহিনি৷ ঝরঝরে গদ্যে এই অনুবাদগুলো পাঠকের সঙ্গে পরিচিত করাবে এক নতুন জগৎ এবং তার অনবদ্য সব চরিত্রের। মোট ১৩টি গল্প রয়েছে এখানে। আর গল্পকারদের মধ্যে আছেন আমোস তুতুওলা, এর্নান্দো তেইয়েস, জাকারিয়া তামের, মিলান কুন্দেরা প্রমুখ।
কলমের শিল্পী, ক্যামেরার শিল্পী

কলমের শিল্পী, ক্যামেরার শিল্পী

প্রযুক্তিনির্ভর এই দুনিয়ায় সবাই-ই এখন ছবি তোলায় পারঙ্গম। বিশ্বখ্যাত তিন লেখক—ইংল্যান্ডের কবি ফিলিপ লারকিন, যুক্তরাষ্ট্রের কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ এবং তুরস্কের কথাসাহিত্যিক ওরহান পামুক—ছবি তোলায় তাঁদের ছিল দারুণ আগ্রহ। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অবলম্বনে এ লেখায় ধরা আছে লেখকত্রয়ের ছবি তোলার গল্প। ফিলিপ লারকিন ১৯৫৭ সালের গ্রীষ্মকাল। ইংল্যান্ডের তরুণ ইতিহাসবিদ ও কবি রবার্ট কংকোয়েস্ট তাঁর বন্ধু কবি ফিলিপ লারকিনকে নিয়ে নিউইয়র্কের সোহোতে এক ক্লাবে গেলেন। সেখানে লারকিন বেশ কিছু ছবি তুললেন। সেই ক্লাব কিংবা সেসব ছবি—কোনোটিই ভদ্রসমাজের খুব একটা উপযুক্ত ছিল না। তাই মৃদুস্বভাবের, লাজুক লারকিন পরে যখন কয়েকটা ছবি পাঠালেন কংকোয়েস্টকে, একটা চিরকুটে লিখে দিলেন, ‘আশা করি, চিঠিটা বেহাত না হয়ে যায়!’ তাঁর আশঙ্কাকে পুরোপুরি সত্যি করে কদিন পরই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে লারকিনের নামে একটা চিঠি এল। অশ্লীল ছবি তোলার জ
বসন্ত নিয়ে তিন টুকরো

বসন্ত নিয়ে তিন টুকরো

মানুষের মনে বসন্তের রং আর প্রেমের রং আজীবন সমান ও সমান্তরাল। কবিতা ও গানে বাঙালিরা যে বসন্তের জয়গান গেয়েছেন, তা তো সবারই জানা। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতা, গান ও চলচ্চিত্রে কীভাবে ধরা পড়েছে প্রেমময় বসন্ত? বই ও অন্তর্জালের বিভিন্ন সূত্র ঘেঁটে জানানো হয়েছে সেসব তথ্য।   কবিতায় বসন্ত ও প্রেম   ● ইংরেজ রোমান্টিক কবি পার্সি বিশি শেলির কবিতায় বসন্ত এসেছে ‘শীতের বিশ্রাম কাল’ শেষে উঠে আসা ‘প্রেমানুভূতি’ হয়ে।   ● স্পেনের ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার একটি কবিতার নাম ‘সূর্যের ছবি’। এই কবিতা ‘নবনতুন রূপে শক্তি জাগা বসন্তের’ বাতাসে প্রেমে ‘পুড়ে খাক হওয়া খাঁটি উন্মাদ মনে’র গল্প বলে।   ● পাকিস্তানের কবি ফায়েজ আহমেদ ফায়েজের গজলে পাওয়া যায় ‘অদ্ভুত রং’ নিয়ে বয়ে চলে যাওয়া এক বসন্তকে, প্রেমিকের ‘অপেক্ষার রাত’ সেখানে ভীষণ দীর্ঘ।   গানে বসন্ত ও প্রেম &
বাংলা কবিতার অভিযাত্রায় অজানা অভিঘাত নয়া অভিজ্ঞতা

বাংলা কবিতার অভিযাত্রায় অজানা অভিঘাত নয়া অভিজ্ঞতা

লেখক মারুফুল ইসলামের বেশ কিছু বই আমি পড়েছি। তাঁর লেখায় নতুনত্বের কারণেই তাঁর বইয়ের প্রতি আমার বরাবরের আগ্রহ। হঠাৎ করেই তাঁর ‘নতুন করে পাব বলে’বইটি আমার হাতে এলো।   পাঠক বইটি হাতে নিয়েই হয়তো বলবেন এটা একটি কবিতার বই। কিন্তু বইটির ভেতরে প্রবেশ করলেই বুঝবেন এটি অন্যান্য কবিতার বইয়ের চেয়ে একটু ভিন্নধর্মী। এ বইয়ে সন্নিবেশিত কবিতার কোন নাম নেই। বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কবিতাগুলো যেন একটি ফুলের তোড়ার মত সাজানো। তাই বইয়ের কবিতাগুলো পাঠককে পড়তে হয় এক নাগাড়ে।   বইটি পড়ার সময় মনে হয় বাংলা কবিতার অভিযাত্রায় এ এক অজানা অভিঘাত, নয়া অভিজ্ঞতা। বইয়ের কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষের ভেতর বাহিরের চিন্তাভাবনা, বোধ,অনুভূতি, প্রেম বিরহ, প্রতিদিনের ছবি, মানুষে মানুষে সর্ম্পক কবি ফুটিয়ে তুলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। কবিতায় এনেছেন যেন এক নতুন পথ। চলুন ঘুরে আসি কবিতার বইয়ের পাতা থেকে-
দৃষ্টিনন্দন জলরং চিত্রের মেলায়

দৃষ্টিনন্দন জলরং চিত্রের মেলায়

কাগজের অমসৃণ বুকে জল ও রঙের মিশ্রণ যখন গড়িয়ে পড়ে, তখন তৃষার্ত কাগজ শুষে স্থির করে রাখে সেই মাতোয়ারা জল ও রঙের ধারা। জলরঙের সেই চিত্রধারা বড়ই অনুপম। ১৯৩২-১৯৮৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা সমকালীন শিল্পীর জলরং চিত্র ‘কনটেম্পোরারি কালারস: সোকড ইন পেপার’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখে এমনটাই অনুভব হলো। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পী মুর্তজা বশীরের ১৯৫৩ ও ১৯৬১ সালে আঁকা দুটি কাজ ভিন্ন অন্য শিল্পীদের সব কাজই চলতি দশকে আঁকা। কিছুটা নীলাভ ও ছাইরঙা আকাশের নিচে দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠের কিনারে একদল ছাগলের উপস্থিতি রয়েছে রফিকুন নবীর কাজে। তিনি ‘উড্ডয়নের পরে’ চিত্রে ক্লান্ত দুটি পাখির বিশ্রাম দেখিয়েছেন। দুটি কাজেই লাবণ্যময় ওয়াশের মাধুর্য রয়েছে।   হামিদুজ্জামান খানের কাজে আছে নদী ও আকাশের মিলন। সে মিলনে কখনো উৎসব হয়ে আসে বর্ষাধারা, কখনো রাঙিয়ে দেয় গোধূলির আভা। তাঁর ‘বুড়িগঙ্গা’ শিরোনামের ছবিতে কা
একটু মাথা ওঠালেই গুলি ছুটে আসে এভাবে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে

একটু মাথা ওঠালেই গুলি ছুটে আসে এভাবে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে

১. প্রিয় বই বই পড়ার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই   ছোটবেলা থেকেই পড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। মাকে দেখতাম পাড়ার লাইব্রেরিগুলো থেকে (তখন ঢাকার প্রায় প্রতিটি পাড়াতেই ছোট বা বড় লাইব্রেরি ছিল। লাইব্রেরির সদস্য হয়ে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ ছিল) বই নিয়ে পড়তেন। বই আনা-নেওয়ার কাজটা আমাকেই করতে হতো। সে কারণেই বোধ হয় ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গোরা, শেষের কবিতা এবং বুদ্ধদেব বসুর  তিথিডোর একসময় যেমন খুব ভালো লেগেছে, বিভূতিভূষণ বন্দ্যাপাধ্যায়, নারায়ণ গঙ্গপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়—তাঁদের অনেক বইও ভালো লেগেছে। এ ছাড়া সৈয়দ শামসুল হক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আশাপূর্ণ দেবীর অনেক বই আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ ও আনিসুল হকের কিছু বইও আমার খুবই প্রিয়।   ২. প্রিয় গান গানগুলো মনকে নাড়া দেয়  
শিশু একাডেমির বইমেলা শুরু ২১ মার্চ

শিশু একাডেমির বইমেলা শুরু ২১ মার্চ

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত 'নবম শিশু একাডেমি বইমেলা' শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২১ মার্চ থেকে। মেলাটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। 'বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙ্গিন' প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকায় শিশু একাডেমির উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছে দেশের মোট ৭০টি প্রকাশনী।   বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন জানান, '২১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকাল পাঁচটায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহার। সভাপতিত্ব করবেন শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শিশু একাডেমির পরিচালক শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন'।   এবারের মেলায় মোট ৭০টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল থাকছে। প্রতিদিন বিকাল
মীনাক্ষীর বিচ্ছিন্ন কথামালা

মীনাক্ষীর বিচ্ছিন্ন কথামালা

১৮ মার্চ কবি–সমালোচক বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুবার্ষিকী। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে প্রথম আলো অফিসে এসেছিলেন বুদ্ধদেব–কন্যা মীনাক্ষী দত্ত। এ লেখায় ধরা আছে মেয়ের কথায় বাবার স্মৃতিচারণা। প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে আরও অনেকের কথা।   যেদিন জ্যোতির্ময় দত্ত আর মীনাক্ষী দত্ত এসেছিলেন প্রথম আলোয়, সেদিন উপস্থিত সবাই মীনাক্ষীর কাছে জানতে চাইছিলেন তাঁর কিছু কথা, কিছু স্মৃতিচারণ, বিশেষত বাবা কবি ও সমালোচক বুদ্ধদেব বসু আর মা লেখক প্রতিভা বসুর কথা। প্রথম আলো অফিসে সেদিন উপস্থিত হয়েছিলেন ঢাকা শহরের সাহিত্যিক–কবিরা। তাঁদেরই আহ্বানে মীনাক্ষী দত্ত কথা শুরু করেছিলেন তাঁদের ঢাকার বাড়ি নিয়ে। বনগ্রামের কথা উঠে এল তাঁর কথায়। ঢাকার এই বাড়িতে ১৯৮৮ সালে যখন এসেছিলেন অনেক দিন পর, তিনি চমকে গিয়েছিলেন। ঠিক তেমনটিই রয়ে গেছে বাড়ি, যেমন দেখে গিয়েছিলেন ছোটবেলায়।   মীনাক্ষীর ছোটবেলায় প্রতিবছরই গ্রীষ্মের ছুটিতে মা–বাব