সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি

নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহ: আমাদের সাহিত্যে

নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহ: আমাদের সাহিত্যে

যৌন নিগ্রহ বা নির্যাতন নারীদের জীবনে প্রাত্যহিক ঘটনা, অহরহ ঘটছে; কিন্তু আমাদের শিল্পসাহিত্যে বিষয়টি খুব বেশি এসেছি কি? সাহিত্যে কতটা উঠে এসেছে এই নিগ্রহ? সভামধ্যে দুঃশাসন কর্তৃক দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহের চরম দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে চিরকাল।রামচন্দ্র সীতার জন্য ভয়ানক যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধজয়ের পর সীতার চরিত্র হয়ে দাঁড়াল প্রশ্নের সম্মুখীন। পুরো ঘটনার জন্য সীতা যদিও এতটুকুও দায়ী নন, কিন্তু সমাজ, এমনকি রামও গ্রহণ করলেন না তাঁকে। আঙুল তোলা হলো নারীর দিকেই। এই প্রবৃত্তি সমাজে এখনো সমানভাবে বিরাজমান।এবার আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়ার দিকে তাকানো যাক। সুবিশাল রবীন্দ্র-সাহিত্যে নারীর বঞ্চনা, ক্ষোভ, অপমান, বেদনা আর উপেক্ষার কথা এসেছে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগে নারীর হৃদয়ের এত বিচিত্র অনুভব এবং তাঁর জটিল মনস্তত্ত্ব আর কেউ উপস্থাপন করেননি। কিন্তু যৌন
বই মেলার শেষ দিন আজ

বই মেলার শেষ দিন আজ

নতুন বইয়ের মাদকতায় কখন যে কেটে গেল পুরো মাস বোঝাই গেল না। পরিচ্ছন্ন সুন্দর মেলায় স্নিগ্ধ ছিমছাম পরিবেশ। নতুন বই, ঝলমলে প্রচ্ছদ, লেখক-পাঠকের আনাগোনায় জমজমাট ছিল পুরো মাস। আজ মেলার শেষ দিন। মেলার দ্বার খুলবে বেলা তিনটায়, চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। শেষবারের মত বইপ্রেমীরা আসবেন বইমেলায়। আরো কিছু কেনার বাকি যা রয়েছে সংগ্রহ করবেন। আর না কিনলেই বা কী! বই তো পরে দোকানে পাওয়া যাবেই। কিন্ত এই আড্ডামুখর পরিবেশের জন্য তো প্রতীক্ষায় কাটবে সামনের পুরোটা বছর। শেষ সময়ে বই বিক্রির অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা। মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন অনেক স্টল মালিক। অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক আলমগীর রহমান বললেন, নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও এবার মেলা ভালো হয়েছে। বইয়ের বিক্রিও বেশ ভালো। অন্য প্রকাশের অন্যতম প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় বিক্রি ভাল। বিক্রির শীর্ষে রয়েছে হুমায়ুন আহমেদের বই। আগামী

পাঠক কতটা ঠক

লেখালেখির জগতে একটা জটিল দার্শনিক প্রশ্ন হচ্ছে, লেখক কি পাঠক তৈরি করেন, না পাঠক লেখক? যদি লেখক হন পাঠক তৈরির কারিগর, তাহলে আরেকটা প্রশ্নও উঠে আসে: সেই লেখক যখন তাঁর প্রথম বইটি লেখেন, কাকে মনে রেখে লেখেন, কারণ তাঁর পাঠক তো তখনো তৈরিই হয়নি! নাকি তিনি অন্য লেখকের পাঠককে উদ্দেশ্য করে লেখেন, তাঁদের দলে ভেড়ান? আর যদি পাঠক সৃষ্টি করেন লেখককে, তিনি কি সব সময় তাঁদের সঙ্গে থাকেন? তাঁদের প্রত্যাশামতো লেখেন? প্রশ্নটা নিয়ে বিতর্ক হতে শুনি, কিন্তু কোনো সদুত্তর পাই না। এ কথা সবাই স্বীকার করবেন, হুমায়ূন আহমেদ এক বিশালসংখ্যক পাঠক তৈরি করেছিলেন। সেই পাঠকেরা অন্য লেখকদেরও পাঠক হয়েছেন। আবার তাঁদের বিশাল সমর্থন পেয়ে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন, নন্দিত হয়েছেন। তাহলে এ কথাও তো বলা যায়, পাঠকেরাও প্রকারান্তরে তাঁকে তৈরি করেছেন, কারণ তাঁদের প্রত্যাশার খুব একটা বাইরে তিনি যাননি—নিরীক্ষাধর্মী, আঙ্গিকসচেতন উপন্যাস বলতে
ইংরেজি সাহিত্যের ঔপন্যাসিক কাজুও ইশিগুরো || অভিজিৎ মুখার্জি

ইংরেজি সাহিত্যের ঔপন্যাসিক কাজুও ইশিগুরো || অভিজিৎ মুখার্জি

কাজুও  ইশিগুরো ১৯৫৪ সালে জন্মে, বছর পাঁচেক বয়সে চলে এসেছিলেন মা-বাবার সঙ্গে বিলেত, সেই থেকে সেখানেই আছেন, তাই লেখেন ইংরেজিতে। ‘নতুন ডায়স্পোরা’র বহু ভারতীয়ও ইংরেজিতে লেখেন। তাঁদের একজন হলেন, সালমান রুশদি। রুশদি এক জায়গায় বললেন: Our identity is at once plural and partial. Sometimes we feel that we straddle two cultures; at other times, that we fall between two stools… If literature is in part the business of finding new angles at which to enter reality, then once again our distance, our long geographical perspective, may provide us with such angles. কথাটা কাজুও ইশিগুরোর ক্ষেত্রে ঠিক কতখানি এবং কীভাবে প্রাসঙ্গিক সেটা আমরা ক্রমেই বুঝতে পারব, তবে বিলেতের সাহিত্যজগতে রুশদির এই দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ায়, ‘ইন্টারন্যাশনাল রাইটারস’ গোত্রের একদল লেখকের আবির্ভাব হলো
সাহিত্য সমালোচনা::: কবি এবং স্বপ্নচাষি স্বপ্ন কুমার

সাহিত্য সমালোচনা::: কবি এবং স্বপ্নচাষি স্বপ্ন কুমার

হাবিব ফয়েজি ::: কবি স্বপ্ন কুমার নিজের উঠোনেই হাঁটাহাঁটি করছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। খুব একটা বাইরে বের হন নি বলে আমরা অনেকেই হয়তো তাকে সেভাবে চিনি না, অথচ তিনি অসংখ্য স্বপ্নের বীজ বুনেছেন নিজস্ব  বাগানে। তার রোপিত বীজ থেকে চারা, চারা থেকে গাছ, গাছ থেকে ফুল, ফুল থেকে ফল আজ আমাদের অনেকের হাতে হাতে। আমিও একটা সংগ্রহ করেছি, আজ সেটা নিয়েই কিছু একটা বলার তাগিদ অনুভব করছি। আমি বলছি নিউইয়র্কে বসবাসকারী সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী সুদর্শন স্বাপ্নিক পুরুষ, কবি স্বপ্ন কুমারের ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্ক বইমেলায় প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ  ‘কবি’র কথা।   ‘কবি’ এটা তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ। বলতে গেলে প্রথম বইয়েই বাজিমাত। বাবার লিখা কবিতাগ্রন্থের প্রচ্ছদ করেছে ছেলে দোহা আহমেদ। আনাড়ি হাতের অনাড়ম্বর প্রচ্ছদ যেন যোগ করেছে নতুন চমক।   ১২২ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মোট ৮৬টি কবিতা রয়েছে।
‘লেখক সম্মাননা’ পদক পেলেন আমিরাত প্রবাসী আব্দুল্লাহ শাহীন

‘লেখক সম্মাননা’ পদক পেলেন আমিরাত প্রবাসী আব্দুল্লাহ শাহীন

জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবি সাহিত্যিক ফোরাম বাংলাদেশ কর্তৃক `লেখক সম্মাননা পদক -২০১৭` অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শ্রেষ্ট লেখক বিভাগে সম্মাননা পদক পেয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল শাহীন।   ঢাকাস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের হল রুমে গত শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, ছড়াগুরু মহিউদ্দিন আকবর দাদুমনি। সভাপতিত্ব করেন, কবি সাহিত্যিক ফোরাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সাংবাদিক মাহমুদুল এইচ লেলিন।       লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল শাহীন আমিরাতে থাকায় অতিথিদের কাছ থেকে লেখক সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন লেখকের পিতা আব্দুর রউফ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কবি মুহিব খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গীতিকার শহিদুল্লাহ ফরায়েজী, মানবাধিকার কর্মী শাহনাজ নাজ প্রমুখ।   উল্লেখ্য কবি সাহিত্যিকদের সংগঠন `কবি সাহিত
পারভীন বানুর কবিতা

পারভীন বানুর কবিতা

পারভীন বানুর কবিতা একটু হাসি এসো না হয় একটু হাসি কষ্ট করে হলেও হাসি নষ্ট হৃদয় নিয়েও বলি হাসাহাসি ভালবাসি । মহা আকাশে রাত্রিবেলা নিত্য বসে হাসির মেলা ধরায় দেখি ফুল বাগানে হাসছে যে ফুল আপন প্রাণে । খুদিরাম ঐ বীরের বেশে প্রাণ দিয়েছেন হেসে হেসে । হার্ট এটাকের ঝুকির মাঝে হাসিটা বেশ কাজেই আসে আসল কিংবা হলেও নকল অনেক কাজেই হাসি সফল হাসি করে লেনাদেনা ভালবাসাও যায় যে কেনা এসো না হয় একটু হাসি কষ্ট করে হলেও হাসি । লেখক :: প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ আমেরিকা কালচারাল একাডেমি, নিউইয়র্ক ।।
হবিগঞ্জে ‘সাঁওতাল ও মনিপুরী নৃত্য’ শীর্ষক কর্মশালা

হবিগঞ্জে ‘সাঁওতাল ও মনিপুরী নৃত্য’ শীর্ষক কর্মশালা

মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের দেউন্দি চা-বাগানে চার দিনব্যাপী ‘সাঁওতাল ও মনিপুরী নৃত্য’ শীর্ষক কর্মশালা শুরু হয়েছে । শনিবার শুরু হওয়া এ কর্মশালায় প্রতীক থিয়েটারের নারী সদস্যরা অংশ নিয়েছে। কর্মশালায় নৃত্য শেখাচ্ছেন চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে নৃত্যশিল্পী কেয়া সিনহা। প্রতীক থিয়েটারের সভাপতি সুনীল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতীক থিয়েটারের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে কেয়া সিনহার এ নৃত্য কর্মশালা বিরাট কাজে আসবে। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

মো. মাহমুদুর রহমানের দুটি কবিতা

মো. মাহমুদুর রহমানের দুটি কবিতা (সদ্য প্রয়াত অনুজ ভ্রাতা আবদুল হাই সিদ্দীকি স্বরণে) শামুকের মত গুটিপায় অবিশ্রান্ত হেটে যাই হিম কুয়াশার আকাঁবাকা পথে আমি এক জীবন্ত মুর্দ্দার হিমাচাল থেকে অতিথিরা আশার কুহুকেকা ছড়ায় কতকাল ভেবেছি আমিও তাদের কেউ কিন্তু আমার সৃজিত স্বত্বা বারবার লাশ হয়ে ফিরে তারপরও অনুঢ়ার চোখে চেয়ে আছি দিনের পর দিন রাতের পর রাত . . . আবাদ কি আর হবে এই অবেলায় স্বান্ধ্য বেলায় ! কি আর হবে আমার দ্বারা মনের আপন ছিল যারা হারিয়েছে অনেক দুরে কোন সুদূরে ! অচীন পুরে কি আর হবে স্মৃতিখুঁড়ে আস্তাকুড়ে ! লীন হয়ে যায় সবি কালের অতল গহ্বরে। কি আর হবে এই অবেলায় স্বান্ধ্য

সাংস্কৃতিক উৎসব মানবিকতার বিকাশ ঘটায় : তথ্যমন্ত্রী

সিলেটে ১০দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের তৃতীয় দিনে শুক্রবার ছিলো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নগরীর মাছিমপুরস্থ আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের হাছন রাজা মঞ্চে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সূচনা অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩য় দিনের অনুষ্ঠান। এর আগে সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলন। ৪ পর্বের এই সম্মেলন শেষ হয় সন্ধ্যায়। সন্ধ্যায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, "সাংস্কৃতিক উৎসব মানুষকে মানুষ হতে দেয়। মানবিকতার বিকাশ ঘটায়। সংস্কৃতি একটি প্রবাহমা