ফিচার

ভালোবাসায় রক্ষা পেল ‘পাখির বাসা

ভালোবাসায় রক্ষা পেল ‘পাখির বাসা

ফিচার
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনা উদ্যানে রানী মাঠে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ। সবার দৃষ্টি লম্বা একটি গাছের উপরে একটি গর্তের দিকে। এক যুবককে বড় একটি লাঠির সাহায্যে গর্তের ভেতর গুজে রাখা পলিথিন ও ময়লা কাগজ পরিষ্কার করতে দেখা যায়। অনেকেই কৌতুহলী হয়ে যুবকের কাছে গর্ত পরিষ্কারের কারণ জানতে চান। আবেদ ভূঁইয়া নামের ওই যুবক জানান, ওই গর্তটি টিয়া পাখির বাসা। কয়েকদিন আগেই টিয়া পাখির ডিম ফুটে কয়েকটা বাচ্চা হয়। বাচ্চাগুলি উড়তে শিখেছে। দিনে বাইরে ঘোরাফেরা করলেও রাতে ওরা ওই গাছের গর্তে করা বাসায় থাকে। আবার সকাল হলে বাইরে বেরিয়ে পড়ে। তিনি রমনা পার্কে প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে আসলে টিয়া পাখির কিচির-মিচির শব্দ শুনেন। তিনি জানান, একটি দুষ্টচক্রের সদস্যরা পাখিগুলো যেন বাসায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাসার মুখে পলিথিন ও ময়লা কাগজ দিয়ে আটকে দেয়। আজ সাংবাদিক আজমল হক হেলাল বাসাটি নষ্ট হতে
যা কখনো দান করা উচিত নয়

যা কখনো দান করা উচিত নয়

কাউকে কিছু দান করা বাঙালির চিরায়ত স্বভাব। নিজের অপ্রয়োজনীয় জিনিস আমরা আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীকে দান করে থাকি। কিন্তু কোনো কোনো জিনিস দান করলে নাকি অমঙ্গলের সম্ভাবনা রয়েছে। আসুন জেনে নেই জিনিসগুলো সম্পর্কে- প্রথমেই বলে রাখি, প্লাস্টিকের কোনো জিনিস কখনো দান করবেন না। কারণ এগুলো দান করলে নাকি সংসারে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার নিজের ঘরের ঝাড়ু অন্যকে দান করলেও ঘর থেকে লক্ষ্মী চলে যায়। অনুরূপভাবে ঘরের স্টিলের বাসন দান করলে পারিবারিক সমস্যা হতে পারে। এমনকি পুরনো জামাকাপড়, ভোজ্য তেল দান করলে গৃহের অমঙ্গল হয়। কেনো কোনো জিনিস দান করলে সংসারের অমঙ্গল ছাড়াও জীবনে হতাশা আসতে পারে। তাই পুরনো বই, ভাঙা কলম, তীক্ষ্ণ বস্তু, ছুরি, কাঁচি দান না করাই ভালো। এগুলো দান করলে আপনার জীবনে অনেক সমস্যা হতে পারে।
পরীক্ষার আগে ডিম খেলে যা হয়

পরীক্ষার আগে ডিম খেলে যা হয়

ফিচার
প্রতিদিনের খাবারে ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ডিম নিয়ে কুসংস্কারেরও অভাব নেই। পরীক্ষায় ফেল করা মানে ডিম, আণ্ডা বা গোল্লা পাওয়া। তাই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে অনেকেই ডিমকে এড়িয়ে চলেন। ইউরোপ ও আমেরিকাতেও এ সংস্কার রীতিমতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ সংস্কার আমাদের দেশেও কিন্তু বহাল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ডিম খাওয়া কি শুভ? এমন প্রশ্ন সবার মনেই দেখা দেয়। অনেকেই মনে করেন, ডিমের মতো একটা জিনিস খেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে পরীক্ষায় গোল্লা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূল কথা হচ্ছে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ডিম খেলে পেটে গুড়গুড় শব্দ হতে পারে। মাথা ঝিমঝিম করতে পারে। তখন মনে এমনিতেই ভয় চলে আসে। কারণ ডিম খেয়ে হজম করা সবার জন্য হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু পশ্চিমা সংস্কার বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। পশ্চিমা সংস্কৃতি বলছে— ডিম প্রজননের প্রতীক। তার মধ্যে রয়েছে পুনরুত্থান বা নবজন্মের ব্যঞ্জনা। ইংল্যান্ডে ধবধবে সাদা ডিম অত
মুক্তিযুদ্ধের আলোয় যুদ্ধদলিল

মুক্তিযুদ্ধের আলোয় যুদ্ধদলিল

উদ্যোগের নাম—যুদ্ধদলিল। মূলত একটি ওয়েবসাইট। তাতে ১৫ খণ্ডের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ নামক সংকলনটি সবার পড়ার সুবিধার্থে ইউনিকোডে রূপান্তর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন চাইলেই কেউ বইগুলোর প্রয়োজনীয় অংশ পড়তে পারবেন ওয়েবসাইটে। শুধু তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে গ্রাফিক নভেল, কমিকস এবং জেলাভিত্তিক গণহত্যার পুস্তিকা। এগুলো নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রচ্ছদে রইল যুদ্ধদলিল নামে তরুণদের সে উদ্যোগের কথা। নিজেদের সম্পর্কে তাঁরা বলেন, তাঁদের আলাদা পরিচয় নেই। মুক্তিযুদ্ধই তাঁদের পরিচয়। এ যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবগাথা ছড়িয়ে দিতে এই তরুণদের উদ্যোগের নামটি অতি সাদামাটা—যুদ্ধদলিল। ২১ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘরের পাকা চাতাল বা প্লাজার এক কোনায় দাঁড়িয়ে এই তরুণদের গল্প শুনছিলাম। তাঁদের গল্প
স্কুবি ও সিমবাদের নিয়ে নাদিয়ার পথচলা

স্কুবি ও সিমবাদের নিয়ে নাদিয়ার পথচলা

ঢাকায় অনেকেই এখন কুকুর পোষেন। কিন্তু এই কুকুরগুলোর সঙ্গে আপনার খুব একটা দেখা হবে না। কারণ ওরা বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর বন্দী থাকে।’ নাদিয়া শিকদার যখন এই কথা বলছেন, তখন আমরা বসে আছি হাতিরঝিলে। রাস্তার পাশে, একটা বেঞ্চে বসে তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও ছোটবেলা থেকে এই তরুণীর একটা বড় সময় কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলা ভাষাটা এখনো খুব ভালো রপ্ত করতে পারেননি। নাদিয়ার সঙ্গে কথোপকথন তাই ইংরেজিতেই হলো।  ‘হাতিরঝিল ডগ ওয়াকার্স ক্লাব’ নামে ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেছেন নাদিয়া। তাঁর বক্তব্য; যাঁরা কুকুর পোষেন, তাঁদের নিয়মিতই কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া উচিত। এতে করে কুকুরের শরীর-মন দুটোই ভালো থাকে। ঘরের ভেতর আটকে থাকলে কুকুরগুলোর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়, যেটা ঠিক নয়। এই হন্টন যে কুকুর পালকের জন্যও উপকারী, সে কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি, ‘হ
ফুটপাতে হলুদ টালি কেন, জানেন কি?

ফুটপাতে হলুদ টালি কেন, জানেন কি?

ফিচার
ঢাকার বেশির ভাগ ফুটপাত এখন নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। আর এই ফুটপাথে বসানো হচ্ছে হলুদ লাল টালি। কখনো কি ভেবেছেন ফুটপাথের মাঝামাঝি এই হলুদ টালি কেন দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এক কথায় বলবেন সৌন্দর্যের জন্য, আসলে তা নয়। এ ফুটপাথ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীবান্ধব। একটু খেয়াল করলে দেখবেন এই হলুদ টাইলসে সোজা স্ট্রাইপ আছে। একটু উঁচু। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সহজেই পা ফেলে সোজা বরাবর হেঁটে যেতে পারবে। আবার ফুটপাথ যেখানে ঢালু হয়েছে, সেখানে একটা টাইলসে ছয়টি গোলাকার বৃত্ত। পা ফেললে সহজেই বোঝা যায় এখানে ফুটপাথ নেমে গেছে। ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্য শহরের ফুটপাথগুলো হোক এমন প্রতিবন্ধীবান্ধব। জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই প্রত্যাশা করব। কারণ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সারাদেশেই আছেন। দেশের মোট প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তত ২০ শতাংশই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। সেই হিসেবে দেশে কমপক্ষে ৩০ লাখ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এ স
চাইলেই স্বামীর পদবি নয়

চাইলেই স্বামীর পদবি নয়

নারীরা বিয়ের পর চাইলেই জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সংশোধন করে স্বামীর নামের অংশ বা পদবি যুক্ত করতে পারবেন না। শিক্ষাসনদ অনুযায়ী যে নাম, সেটাই জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকবে। বিশেষ প্রয়োজনে কেউ স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। কমিশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেবে। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। কারণ, হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীদের বিয়ের পর স্বামীর গোত্রের পদবি ব্যবহার করার রীতি আছে। জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সনদে যে নাম ছিল, সে নামে পরিচয়পত্র করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁদের সনদ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে মা-বাবা যে নাম রেখেছেন, সেটি হবে। প্রয়োজনে কেউ স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে ইসিতে দরখাস্ত করতে হবে। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে
স্বাধীনতার পোশাকে সেজেছে রঙ বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পোশাকে সেজেছে রঙ বাংলাদেশ

ফিচার
পরাধীনতা কারো কাম্য নয়। বাঙালিও তাই মুক্তির সংগ্রামে নিশ্চিত করেছে স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে আমাদের কাছে এই স্বাধীনতার অর্থ বহুামাত্রিক আর গভীর। এমনকি স্বাধীনতার উদযাপনও বহু মাত্রায় উজ্জ্বল। স্বাধীনতাকে আমরা নানাভাবে উদযাপন করে থাকি। পোশাক সেই উদযাপনে সবসময়ে বিশেষ অনুঘটক হয়। এই ধারা চলে আসছে আমাদের দেশে। স্বাধীনতা ও এর অনুষঙ্গ পোশাকে তুলে আনছেন ডিজাইনাররা। রঙ বাংলাদেশ ও অতীতের ধারা অব্যাহত রেখে পোশাক সৃজনে উদযাপন করছে স্বাধীনতা। এই সংগ্রহে থাকছে তাঁতের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ-দোপাট্টা, সিঙ্গল কামিজ, সিঙ্গল ওড়না, কাপল ড্রেস বাচ্চাদের পোশাকসহ উপহার সামগ্রী। ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্ট আর মেশিন ও হ্যান্ড এম্ব্রয়ডারিতে নকশা বিন্যাস করা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রহে রঙ অবশ্যই লাল ও সবুজ আর এই দুয়ের বিভিন্ন শেড। মহিলাদের পোশাক ৫০০-২৫০০ টাকা, পুরুষদের পোশাক ৮০০-২০০০ টাকা আর বাচ্চাদের
বাউ-চিয়ায় কমবে হৃদরোগ!

বাউ-চিয়ায় কমবে হৃদরোগ!

দিনদিন দেশে বেড়েই চলছে হৃদরোগীর সংখ্যা। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ গোশতে থাকা অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরল হৃদরোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হৃদরোগের ঝুকি কমাতে প্রয়োজন ওমেগা-৩ ফ্যাটি। এটি মানব শরীরের জন্য একটি অত্যাবশকীয় ফ্যাটি এসিড। যা মানবদেহ থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক দ্রব্য বের করে দিয়ে হৃদরোগের ঝুকি কমায়। কেবল কিছু সামুদ্রিক এককোষী শৈবাল এবং সামুদ্রিক মাছ থেকেই উচ্চমানের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। তাই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের বিকল্প উৎস খুঁজতে গিয়ে সাত বছর ধরে গবেষণা চালান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল। তুলসী পরিবারভুক্ত চিয়া শস্যের উপর গবেষণা করে এতে উল্লেখযোগ্য পরিমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পেয়েছেন গবেষণা দলটি। এটি হৃদরোগ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে বলে মত দিয়েছেন তারা। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. আলমগীর
পাহাড়ের হাসি পাহাড়ের কান্না

পাহাড়ের হাসি পাহাড়ের কান্না

শীতের সকাল। কুয়াশা তখনো কাটেনি। বান্দরবানের গহিন থানচির এক সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে দেখি, ছোট-বড় অনেক পাথর। পাহাড়ে জন্মেছি বলে এটুকু জ্ঞান আমাদের আছে, ‘যেখানে পাথর আছে, সেখানে পানি আছে।’ তাই নিশ্চিত হলাম, পানির জন্য আমাদের এই অভিযান বিফল হবে না। আমরা পানির উৎস খুঁজে পাবই। পাহাড়ের ওপরে উঠতে উঠতে অনেক বড় বড় পাথরের সন্ধান পেলাম। পাথর যেমন বড় বড়, আশপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় বৃক্ষও দেখতে পেলাম। বড় বড় গাছের সঙ্গে ঝোলানো একধরনের বড় বড় লতা দেখলাম। যে লতা ধরে ‘টারজান’ এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে চলে যেত! জঙ্গলি একধরনের পামগাছও দেখা গেল। এর সঙ্গে বড় বড় বেতগাছ। কিন্তু লোকজনের দেখা নেই। পাহাড়ের ওপরে উঠতে উঠতে পানির শব্দ আরও স্পষ্ট শুনতে পেলাম। আমাদের তিনজনের মুখের হাসিটা ক্রমেই বড় হতে লাগল। সত্যিই পানির দেখা মিলল। পেয়ে গেছি পানি!—চিৎকার করেই দেখতে পেলাম, পানির মধ্যে কাঁকড়া, শামুক আর মাছদের মুক্ত খে