অধিক ফলন ধানের নাম খেজুর ছড়া

প্রকাশিত:বুধবার, ৩০ ডিসে ২০২০ ০২:১২

অধিক ফলন ধানের নাম খেজুর ছড়া

 

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অধিক উচ্চ ফলনশীল ধান বীজের সন্ধান পেয়েছেন এক কৃষক। এই বীজ প্রচলিত উচ্চ ফলনশীল জাতের সাথে জিন ক্রসিংএ আরও অধিক ফলনের জাত উদ্ভাবন হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে এই বীজের জাত নির্ণয়সহ জিন সংযোজনে অধিক ফলনের সম্ভাবনা সৃষ্টিতে গবেষণা শুরু হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলার কাঁঠালডাঙ্গী গ্রামের সাদেক প্রামানিকের ছেলে কৃষি শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাক এলঙ্গী গ্রামের গৃহস্থ নজরুল ইসলামের জমিতে স্থায়ী কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দুই বছর পূর্বে ব্রি-৫১ জাতের ধান ক্ষেতের মধ্যে দুইটি ভিন্ন জাতের ধান দেখতে পেয়ে সেটা আলাদা বীজ হিসেবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে পরের বছর সেই বীজ থেকে চারা রোপণ করেন। বীজের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করেন। তৃতীয় বারের মতো এবছর আমন মৌসুমে ১৮ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। ধান কাটার পর সেখান থেকে ধান পেয়েছেন ১৫ মনের (৬০০কেজি) কিছু বেশি। যা প্রচলিত উচ্চ ফলনশীল জাতের তুলনায় বিঘাপ্রতি ৪-৫ মন বেশি বলে দাবি করেন এই কৃষি শ্রমিক। জাতটির শীষ খেজুর ছড়ার মতো দেখতে তাই তিনি নাম রেখেছেন খেজুর ছড়া বা খেজুর ঝুটি।
জমির মালিক গৃহস্থ নজরুল ইসলাম দাবি করেন, অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল জাতের তুলনায় সংগৃহীত ও সংরক্ষিত খেজুর ছড়া বীজ থেকে একই খরচে বিঘাপ্রতি ৪-৫মন বেশি ধান পাওয়া সম্ভব। কৃষক ভাইয়েরা একই খরচে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৪/৫মন ধান বেশি পেলে তাদের জন্য অনেকটা উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করে এই জাতটির বিস্তার লাভে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আবেদন করেন।
স্থানীয় চাষি মাহাবুব বলেন, আমরা আলাদা ধরনের এই জাতটির ফলন চাক্ষুষ দেখেছি, সেজন্য আমি এবং আরও কয়েকজন চাষি এদের কাছ থেকে নতুন এই অধিক উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সংগ্রহ করেছি লাগাবো বলে। আসন্ন বোরো মৌসুমে এই জাতটি রোপণ করে দেখি কি ফলাফল হয়। তিনি দাবি করেন, জাতটি বছরের দুইটি মৌসুমেই লাগানো যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস জানান, জাতটির মূল পার্থক্য হলো সাধারণত অন্যান্য সকল উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের শীষে প্রতি বোটায় একটি করে ধান হয়, সেখানে সংগৃহীত এই জাতটির শীষে প্রতি একটি বোটার সাথে ৩-৫টি করে ধান হতে দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জাতটির নমুনা বীজ সংগ্রহ করে ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। তারা গবেষণা করে এর গ্রহণযোগ্যতার ফলাফল জানালে কৃষি বিভাগ সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ পরিচালক কৃষিবিদ শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, সংগৃহীত এই বীজের সাথে বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যে সকল উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রয়েছে সেগুলির জিন সংযোজন করা সম্ভব হলে দেশে উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনে আরও একটি মাইল ফলক সৃষ্টি হবে।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জাতটি ইতোমধ্যে গবেষণার জন্য পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেছি। আমাদের বীজ ব্যাংকে বিদ্যমান ও প্রচলিত উচ্চ ফলনশীল জাতের সাথে জিন সংযোজন করে আরও বেশি ফলন করা যায় কিনা তা দেখা হবে। ফল পেলে অবশ্যই এই জাতটি আরও একটি উচ্চ ফলনের দ্বার খুলে দেবে।

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •