অবশেষে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি

প্রকাশিত:বুধবার, ০৯ ডিসে ২০২০ ০৭:১২

অবশেষে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি

শেষ পর্যন্ত আদালত অবমাননার রুল থেকে বাঁচতে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামীকাল ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দাম নির্ধারণের জন্য এলপিজি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি গণশুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি’র একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজই আমরা আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। তিনি জানান, এই আদেশ পাওয়ার পরপরই এলপিজি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ জানুয়ারি থেকে গণশুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপর ১৪, ১৭ ও ১৮  জানুয়ারি এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি করবে কমিশন। শুনানির পর ২৪ জানুয়ারি লাইসেন্সি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের সাথে শুনানি পরবর্তীতে লিখিত মতামত প্রদান করা যাবে।

সূত্র জানায়, দাম নির্ধারণে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কোনও কোম্পানিকে যেহেতু দামের প্রস্তাব দিতে হয় সেহেতু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর অধীনে যে কোম্পানি এলপিজি বিক্রি করে তাদের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। তারা প্রস্তাব দিলে প্রথমে মূল্যায়ন কমিটি করবে কমিশন। এরপর গণশুনানির আয়োজন করা হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এতদিন এই দাম নির্ধারণের চেষ্টা করে আসছিলাম। কিন্তু নানা কারণে তা করা যাচ্ছিল না। এখন আমাদের আদালত আদেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতের নির্দেশে কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোকে দামের বিষয়ে অবহিত করার জন্য চিঠি দিয়েছি। তিনি জানান, দাম নির্ধারণের প্রস্তাব পেলে আমরা মূল্যায়ন কমিটি করবো। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে গণশুনানি করা হবে।

এদিকে কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আমরা একটা শিডিউলও করেছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি আমরা। তিনি জানান, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা চাইলে সব করতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের মতামতের প্রয়োজন হয়। এখন আদালত যে রুল জারি করেছে তার জবাব দিতেই হবে। এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করতে আমরা আসলে এখন বাধ্য।

সরকারি এলপিজি বিপণন কোম্পানি এলপিজি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, আজ রবিবার তারা বিইআরসির চিঠি পেয়েছেন। বিইআরসি আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই প্রস্তাব জমা দিতে বলছে। তারা কালকের মধ্যেই প্রস্তাবটি জমা দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ক্যাব-এর দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৫ আগস্ট বিইআরসিকে গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আদেশটি প্রতিপালনে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি তারা আদালত প্রতিবেদন দাখিল করেনি।

দেশে এখন রান্নার কাজে প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ না দেওয়ায় এখন ঢাকা শহরেও এলপিজি ব্যবহার করছে অনেকে। সরকার পাইপ লাইনের মাধ্যমে নতুন কোন গ্রাহককে আর গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এখন এলপিজির ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এত বছরেও এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন উদ্যোগ নিতে চাইলেও অদৃশ্য হস্তক্ষেপে বারবার তা থেমে গেছে।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্যই ভালো হয়েছে। এখন আমরা আদালতের আদেশ মানতে বাধ্য।

এলপিজি শুধু রান্নার জন্যই নয়, পরিবহন এবং শিল্পর জ্বালানি হিসেবেও জনপ্রিয় হচ্ছে। যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস নেই সেখানে এলপিজি দিয়ে শিল্পের গ্যাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আর পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে এরমধ্যেই এলপিজি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পেট্রোল অকটেনের চেয়ে অর্ধেক দামে এলপিজি পাওয়া সম্ভব।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •