আজ কি ব্যাখ্যা দেবেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ এপ্রি ২০২১ ০১:০৪

আজ কি ব্যাখ্যা দেবেন মির্জা আব্বাস

নিউজ ডেস্কঃ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ইস্যুতে দলের বিরুদ্ধে দেওয়া মির্জা আব্বাসের বিস্ফোরক বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ বিএনপি। দলের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ অবিশ্বাস। স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা নিজেই এসবের সমাপ্তি টানবেন নাকি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করবেন তা পরিস্কার হবে আজ সোমাবার (২৬ এপ্রিল)। তার ওই ব্যাখ্যার ওপরই নির্ভর করছে দলের সম্মান ও তার ‘ভবিষ্যৎ।

বক্তব্যের ব্যাখ্যার বিষয়ে কি ভাবছেন? জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, যেখানে আমি আমার বক্তব্যোর ব্যাখ্যা সংবাদ সম্মেলন করে দিয়েছিলাম এর পরেও নতুন করে ব্যাখ্যার কারন জানিনা। আমি একটু অবাক হয়েছি। দলের পক্ষ থেকে কোন ড্রাফট দেয়া হয়েছিলো যেটা আপনাকে পড়তে বলা হলেও পড়েননি এমন পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের নেতারা মনে করছে সরকারকে ‘দায়মুক্ত’ হওয়ার সুযোগ দিতেই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, মির্জা আব্বাস দলের বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেললেন, যার বড় ধরনের মাশুল গুনতে হবে দলকে। তাইতো তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা কতোটা সন্তো সন্তোষজনক হবে তার উপর নির্ভর করবে দল তার বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যাবস্থা নেবে।

সূত্র জানায়, চিঠিতে তিন কার্যদিবস পরে অর্থাৎ আজ সোমবার ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আব্বাসকে জবাব দিতে হবে। এরমধ্যে ৩দিন কেটে গেলেও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না আব্বাস। গণমাধ্যমকেও এড়িয়ে চলছেন। এমনকি নিজের ঘনিষ্ঠজনদেও সঙ্গেও এসব নিয়ে কথা বলছেন না। তবে তার ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলছেন, মির্জা আব্বাস এক কথার মানুষ তিনি যা বলেছেন বুঝেশুনেই বরেছেন। তিনি একবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এ বিষয়ে দলের যতোই চাপ আসুক তিনি আর কথা বলবেন বলে মনে হয় না।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, ভেতরে ভেতরে ফুঁসলেও সরাসরি মির্জা আব্বাসের ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি নন তারা। তবে সবার বক্তব্য একটাই- ‘এটা সেধে অস্ত্র তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা হলো’। নেতারা বলেন, মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুরো বিএনপিই বিপদে পড়েছে। দলকে বিপদে ফেলার পরও দলের নেতৃত্ব তাকে অসম্মান করেনি। দলের চিঠি পর্যন্ত বাইরে বের হয়নি তার প্রতি সম্মান রেখে। তার উচিত সহনশীলতার মধ্য দিয়েই এ পরিস্থিতি থেকে বেরুনো এবং দলের মর্যাদা রক্ষা করা।

নেতারা জানান, ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি দলের ভাপপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাই ডিল করছেন। আব্বাসের বক্তব্যের বিষয়ে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। যেকোনো মূল্যে দলের ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে চাইছেন। তিনি বলছেন, আব্বাসের ওই বক্তব্যের বিষয়ে ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দলের বিরুদ্ধে কথা বলার আরও সুযোগ তৈরি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র নেতা বলেন, ঘটনা যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তিনি সরকারকে দায় মুক্ত করতেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ, মির্জা আব্বাস সরকারের সঙ্গে লিয়াজু করে মস্ত এক ব্যাংকের মালিকানা চালাচ্ছেন। এছাড়াও তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বানিজ্য রয়েছে। তার নামে তেমন কোনো মামলা নেই। সরকারের সঙ্গে লিয়াজু মেনটেইন না করে চললে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন রাজার হালে থাকা কিভাবে সম্ভব! অবশেষে আক্ষেপ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট টু আন্ডারস্ট্যান্ড’ এরা দলটা একেবারে শেষ করে দিলো।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিষয়টা এখন সবাই জানে। এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। এটা আব্বাসের একান্তই নিজস্ব বক্তব্য। এটা বিএনপির বক্তব্য নয়। তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এ বিষয়ে যা বলার ইনি নিজেই বলবেন। আমার কিছু বলার নেই।

ঘটনার দিন সন্ধায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বলেছিলেন ‘আব্বাস সাহেব কোন ভিত্তিতে এমন বক্তব্য দিয়েছে সেটা ক্লিয়ার করতে বলবেন’। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করতে তারেক নিজে তিন পৃষ্টার একটি করার জন্য একটি লিখিত বক্তব্য তৈরি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আব্বাসকে তা পাঠ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেটি বিবেচনায় না নিয়ে ১৮ এপ্রিল শাহজাহানপুরের নিজ বাসায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং উল্টো তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে দোষারোপ করেন। ফলে ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আব্বাসের বক্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানোর নির্দেশনা দেন।

এদিকে গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো কথা তোলেননি নেতারা। বৈঠক সূত্র জানায়, আব্বাসের বিষয়ে সিনিয়র এক নেতা কথা তুলতে গেলে তারেক রহমান থামিয়ে দিয়ে বলেন- কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দলের অনেকেই হয়তো মতামত দিতে পারেন। কিন্তু কমিটির সদস্য হিসেবে বলতে পারি বিষয়টি নিয়ে প্রায় সব সদস্যই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি যা ভালো মনে করেন, তা-ই করবেন। তবে যতদূর বুঝি দলের মহাসচিব ছাড়া অন্য কোনো নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহীও না।

সূত্র জানায়, এক-এগারোর পর থেকে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু আব্বাসের বক্তব্যে সেখানে প্রতিমূহর্তে ব্রিবতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাকে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইলিয়াস আলী নিখোঁজ প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে তারেক রহমানের কাছে। এমনকি এই ইস্যুটিতে দলের কারা জড়িত সেটা বের করতে কূটনৈতিক দেশ গুলোও চাপ দিচ্ছে। যারা এতোদিন ইলিয়াস ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতো।

সূত্র জানায়, দলের সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি থাকাকালেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বর সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। যে কারণে তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে, এমনকি দল থেকেও। সেই ঘটনার ১৯ বছর পর আবারও বিএনপিতে শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতার সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হবে কি-না, এ বিষয়টি লক্ষণীয়। তবে সূত্রের পর্যবেক্ষণ, সৃষ্ট বিতর্ক থেকে বেরুনো সম্ভব মির্জা আব্বাসের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই। তিনি পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, এর ওপর নির্ভর করছে ঘটনার পরবর্তী বিচ্ছুরণ ঘটবে কোন দিকে।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজের নবম বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চূয়াল আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, যারা আজকে ইলিয়াসকে গুম করেছে, আমি জানি, আওয়ামী লীগ সরকার গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে আমি জানতে চাই। এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ