আধুনিকায়ন হচ্ছে বাংলাদেশ বেতার সিলেটঃ একনেকের সংশোধনী প্রকল্পে ৮৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা অনুমোদন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রু ২০২১ ০৫:০২

আধুনিকায়ন হচ্ছে বাংলাদেশ বেতার সিলেটঃ একনেকের সংশোধনী প্রকল্পে ৮৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিকায়ন হচ্ছে বাংলাদেশ বেতারের সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্র। সিলেটের আঞ্চলিক কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করতে এবং ডিজিটাল সম্প্রচার সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দিয়ে একনেকে একটি সংশোধনী প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল সম্প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই বেতার কেন্দ্রে। ফলে উচ্চ কারিগরি মানসম্পন্ন বেতার অনুষ্ঠান শুনতে পারবে সিলেটবাসী। সেই সঙ্গে হাওর ও চা বাগান এলাকার অনগ্রসর মানুষের দোরগোড়ায় বেতারকে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসিতে সভায় অংশ নেন।

প্রথমে এ কাজের আওতায় খরচ ধরা হয়েছিলো ৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। তা সংশোধনীতে ৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে ৮৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দুই বছর বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

সংশোধনী প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ বাড়িয়ে এত বড় একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তারিক বাংলা নিউজ ইউএস্কে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে একটি অডিটোরিয়াম না থাকায় এখানে আমরা একটি বৃহৎ পরিসরে অনুষ্টান আয়োজন করতে পারি না। এর বাইরেও অনেক কিছুই এখন আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সময়ের প্রয়োজনে ডিজিটাল সম্প্রচার প্রয়োজন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের অভাবগুলো পূরণ হবে। তিনি বলেন শিল্প সংস্কৃতির চারণভূমি এই সিলেট অঞ্চলের বেতার অডিটোরিয়াম একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা আরো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিল্প সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যের বিকাশে বদ্ধ পরিকর।

এদিকে একই সভায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পেরও অনুমোদন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা খরচ ধরে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকার দেবে ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ৯০ লাখ এবং এডিবি ঋণ দেবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেক সভা শেষে দুপুরে এনইসিতে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এ সভায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা প্রায় ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা খরচে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৬ হাজার ৫৯৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। প্রকল্প ৯ টির মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প তিনটি এবং নতুন প্রকল্প ছয়টি।

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সংশোধনীতে ৫৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদও বেড়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, এখন সময় বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম জেলাধীন হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলায় হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙ্গন থেকে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ২১২ কোটি ৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এর খরচ বেড়েছে ১০৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়ালো মোট ৩৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

অনুমোদন দেয়া হয়েছে নতুন অনুমোদিত ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘বিটিসিএলের ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের। এতে খরচ হবে ৯৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৩৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা খরচে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এ মন্ত্রণালয়ের ‘ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলাধীন দৌলতখান পৌরসভা ও চকিঘাট এবং অন্যান্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষা’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে খরচ করা হবে ৫২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্পটি ৪৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এই সংবাদটি 1,238 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ