• ২১ জানুয়ারি, ২০২২ , ৭ মাঘ, ১৪২৮ , ১৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

আমদানির চাপে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ৯, ২০২১
আমদানির চাপে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ

অর্থনীতি ডেস্কঃ 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। হঠাৎ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নিম্নগতি রিজার্ভে প্রভাব ফেলেছে।

 

 

বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪৮০ কোটি) ডলারে নেমে আসে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। টাকার অঙ্কে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। অথচ দুই-আড়াই মাস আগেও ১০ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

উল্লেখ্য, করোনাকালে দেশের আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় রিজার্ভে টান পড়েনি। বরং অস্বাভাবিক রেমিট্যান্স আসায় দেশের রিজার্ভ একের পর এক রেকর্ড গড়ে। গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্বাভাবিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাসে ৭০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এ হিসেবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ফলে মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও আমদানি খরচ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানিতে রিজার্ভ থেকে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা এক মাসের হিসেবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ৮৭২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। তবে রপ্তানিও বেড়েছে। এই চার মাসে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •