আমরা আবার ফিরে যাবো আমাদের আগের পৃথীবিতে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২১ জানু ২০২১ ০৫:০১

আমরা আবার ফিরে যাবো আমাদের আগের পৃথীবিতে

রিয়াদ আহাদ :আসলে করোনা মহামারীর শেষ কোথায় ; কখন ; কিভাবে ; আমি ঠিক মিলাতে পারছি না। বিশ্বের অন্যান্য স্থান সহ ব্রিটেনেও প্রতিনিয়তই অসংখ্য মানব সন্তান করোনার কাছে অসহায় হয়ে মারা পড়ছেন। গতকাল বুধবারেই ব্রিটেনে রেকর্ড সংখ্যাক ১৮২০ জন করোনায় মারা পড়েছেন। এরমধ্যে প্রায় প্রতিদিনই প্রিয়জনদের আক্রান্তের কথা শুনে আৎকে উঠি। এখন বিছানায় চলেই গিয়েছিলাম,অভ্যেস মাফিক শেষ মুহুর্তের মোবাইল বাটনে টিপছিলাম। এরমাঝে এটিএন বাংলা ইউকের জয়নাল ইসলামের টেকট মেসেজ। আমাদের অতি প্রিয় একজন মানুষ চ্যানেল আইয়ের যুক্তরাজ্য ও বাংলা কাগজের ব্লাক কাউন্ট্রি প্রতিনিধি,একটু অন্যরকম গ্রুপের অন্যতম নীতি নির্ধারক সিনিয়র গণমাধ্যমকমী আব্দুল আহাদ সুমন প্রায় দশদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত ; করোনার নানা প্রতিক্রিয়ার প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে বার্মিংহামের পার্শ্ববর্তী শহর ওয়েষ্ট ব্রমসউচের বাসায় সেলফ আইসোলেশনে আছেন তিনি। খবরটি জেনে আর নিজেকে বিছানায় রাখতে পারলাম না। নাহ- রাত অনেক হলেও আব্দুল আহাদ সুমনকে ফোন করবোই। উনাকে ফোন করতেই ওপাশ থেকে অনেক কষ্ট করে সুমন ভাই কথা বললেন। এতোদিন ধরে অসুস্থ তারপরও ইচ্ছে করেই তিনি কাউকে জানাননি উল্লেখ করে বললেন গতকাল রাতে মৌলভীবাজার জেলা জনকল্যাণ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বাবলুর কাছে করোনাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকা বার্মিংহামের আরেক গনমাধ্যমকর্মী টিভি ওয়ানের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম বেলালের খবর জানার জন্য ফোন করতে গিয়ে তিনি তার কথাটিও বলেছেন।

আসলে জানলেই বা আমরা কি করতাম অথবা কি করার আছে। এমন এক ভীতিময় অসুখ এসেছে যে লকডাউনের কারণে অসুস্থ কাউকে গিয়ে দেখা কিংবা বসে গিয়ে গল্প করে সান্তনা দেওয়ারও সুযোগ নেই। শুধু দোয়া ছাড়া তো কিছুই করার নেই। দারুন অসুস্থ আব্দুল আহাদ সুমন ভালোভাবে কথাও বলতেও পারছিলেন না। এরই মাঝে বাংলা কাগজ পরিবারসহ সকলের কাছে দোয়া চাইলেন। তাঁর ভগ্ন কন্ঠ শুনে খুবই খারাপ লাগলো। তার সাথে আমার অনেক কিছুই আছে। আব্দুল আহাদ সুমন আমার খুব কাছের একজন মানুষ। বিশেষ করে স্পেন থেকে যুক্তারাজ্যের বার্মিংহামে পাড়ি জমিয়ে যখন অনেকটা বন্ধুহীন অবস্থায় ছিলাম ; তখন একজন বড় ভাই এবং বন্ধু হয়ে তিনি আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। বছর দশেক আগে বার্মিংাহামে চ্যানেল এসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করার সময় এখনকার অধিকাংশ গনমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিলো না ; ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ায় কাজ করা অনেকেই ছিলেন না তখন। সেই সময়ে বার্মিংহামে বাঙালী কমিউনিটির প্রায় প্রতিটি অনুষ্টানে আব্দুল আহাদ সুমনকেই পেতাম। বার্মিংহামে আমার স্থায়ীভাবে আসার পুর্ব থেকেই তিনি বাংলা কাগজ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ব্লাক কাউন্ট্রি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন। বলতে গেলে বাংলা কাগজের বদৌলতেই তাঁর সাথে পরিচয় হওয়ায় তিনি কমিউনিটির অনেকের সাথেও আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ায় তাঁর র্পুবাভিজ্ঞতা থাকায় অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। এখনো সুযোগ পেলে নিউজ সংক্রান্ত অনেক কিছুই তার কাছ থেকে শিখি। উনার নিউজ সেন্স খুবই ভালো। নিরহংকারী আব্দুল আহাদ সুমন চ্যানেল আইয়ের মতো একটি বড় মিডিয়ার যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি হয়েও কখনো কোনো বাহাদুরী দেখান না। বরং এখনো একেবারে সাধারণের মতো ক্যামেরা হাতে ছুটে বেড়ান র্নিদ্ধিধায়।

বার্মিংহামের প্রথম বাংলা ম্যাগাজিন অনুষ্টান একটু অন্যরকম কিংবা বার্মিংহামের অন্যতম বৃহৎ বাংলা মেলা থেকে শুরু করে বার্মিংহাম পিঠা মেলা অথবা একটু অন্যরকমের বিশাল ডে ট্রিপের সকল কিছুতেই আব্দুল আহাদ সুমনের অনবদ্য ভূমিকা আছে। আমাদের গ্রুপের বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে কখনো কোনো মতভেদ দেখা দিলে আমি সুযোগ পেলেই তার টেকওয়েতে গিয়ে পরামর্শ নিতাম। তিনি খুবই বিচক্ষনতার সাথে সব কিছুরই সুরাহা করতেন,সে ক্ষমতাও আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। স্পেন,ফ্রান্স,মরক্কো,ইতালী যেখানেই হোউক বাংলা কাগজের কমিউনিটি এওয়ার্ডের সবকটি অনুষ্টানে নেপথ্যে নানা কাজ করাসহ স্বশরীরে,স্ব-পরিবারে তিনি থাকতেনই। তার এলাকায় মসজিদ নির্মাণসহ নানা সামাজিক কর্মকান্ডে তার অগ্রনী ভূমিকা রয়েছে। আজ তিনি অসুস্থ্য ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না। বিধাতার কাছে তাঁর জন্য কায়মনে প্রার্থনা করছি যেনো তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠেনই।

আমার আরেকজন প্রিয় মানুষ লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ক্বারী লাইফ এওয়ার্ড ও ম্যাগাজিনের প্রধান এবং বিলেতের বাংলা গণমাধ্যমের অন্যতম পুরোধা সৈয়দ নাহাস পাশাও করোনাক্রান্ত হয়ে সেলফ আইসোলেশনে আছেন। গত সপ্তাহে ফেইসবুকে বার্মিংহামের স্বনামধন্য গণমাধ্যমকর্মী আতিকুর রহমান যখন সৈয়দ নাহাস পাশার করোনাক্রান্ত হওয়ার সংবাদটি দিয়েছিলেন তখনই আৎকে উঠেছিলাম। ক‘দিন থেকে সৈয়দ নাহাস পাশাকে ফোন করবো করবো ভেবেও করা হয়নি। আর ঐ সংবাদটি শুনেই উনাকে ফোন করে আর পাইনি। সম্ভবতঃ অসুস্থতার কারণে তিনি ফোন ধরেননি। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিলো। আমাকে প্রচন্ড স্নেহ করা সৈয়দ নাহাস পাশা করোনার বৈশ্বিক মহামারী শুরু হওয়ার প্রথম দিকে দু‘দফা ফোন করে আমিসহ আমাদের অন্যান্য সহকর্মীদের খোজ খবর নিয়েছেন,সাবধানে থাকতে বলেছেন। তখন বলেছিলেন ‘‘ভাই আমার অনেক স্বাস্থ্যগত ইস্যু আছে,তবুও বেশীদিন ঘরে বসে থাকা মুস্কিল,আমার জন্য দোয়া করো‘‘। অথচ তিনিই এখন ঐ রোগে আক্রান্ত হয়ে আছেন। হ্যা নাহাস ভাই,আপনার জন্য আমরা অনেকেই দোয়া করছি,আপনি সুস্থ্য হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ। লন্ডনের অনেক সিনিয়র গনমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আমাকে প্রচন্ড স্নেহ করাদের অন্যতম একজন হলেন সৈয়দ নাহাস পাশা। যতো কাজই থাকুক যতো ব্যস্তই থাকুন না কেনো – আমার আমন্ত্রণ কখনো ফিরিয়ে দেননি। সেটা ফ্রান্সের প্যরিস হোউক কিংবা ইতালীর ভেনিস অথবা বিলেতের মধ্যভূমি বার্মিংহামই হোউক। আর তার ক্বারী লাইফ এওয়ার্ডের আমন্ত্রণপত্র আর কেউ পাক কিংবা না পাক আমার জন্য দুটি আমন্ত্রণপত্র বরাদ্দ থাকে সবসময়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্বারী শিল্পের উন্নয়নে কাজ করা সৈয়দ নাহাস পাশা তার ভারত সফর বাতিল করে ২০১৯ সালে ইতালীর ভেনিসে অনুষ্টিত হওয়া বাংলা কাগজের কমিউনিটি এওয়ার্ডে যোগ দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম ইতালীর ভেনিসে ভাবীকেও নিয়ে যেতে,তিনি ভাবীকেও সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্যারিসেও তিনি ছিলেন বাংলা কাগজ কমিউনিটি এওয়ার্ডে। আপনার সাথে কথা না হলেও আপনি ভালো থাকবেন নাহাস ভাই ভালো মানুষরা ভালো থাকেই।

একেবারে ক্লাস ওয়ান থেকে স্নাতক পর্যন্ত,কুলাউড়া শহরের বশিরুল হক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নবীন চন্দ্র হাইস্কুল,পরে কুলাউড়া কলেজ ; সবস্থানে একসাথে লেখাপড়া,খেলাধুলা,ক্লাবের নাটক করা সবকিছুরই সঙ্গী থাকা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সোয়ানসী শহরে বসবাস করা আমার বন্ধু খয়রুল ইসলামও স্বপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় সেলফ আইসোলেশনে আছে। সপ্তাহে নুন্যতম হলে তার সাথে একবার কথা বলা খয়রু কাল আমাকে সাবধান করার জন্য ফোন করে জানালো,তাঁর স্বপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা। কথা বলতে পারছিলো না ; ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে এটুকুই বলছিলো যে গায়ে প্রচন্ড জ্বর আর সঙ্গে অসহ্য ব্যাথা,অনেকটা কেউ যেনো হাতুড়ে দিয়ে সারা শরীরে আঘাত করে গেছে সেরকম অনুভুতি হচ্ছিলো তার।

ছেলেবেলার অনেক বন্ধু-বান্ধবদের ব্যস্ততসহ সাথে নানা কারনে অনেক সময় যোগাযোগহীন হয়ে যাওয়া হয়। কিন্তুু খয়রুর সঙ্গে কখনোই যোগাযোগহীন হওয়া হয়নি। আমার স্পেন থেকে ২০০৩ এর প্রথমদিকে বিলেতে এসে আমার আকদ-বিয়ে সবকিছুতেই খয়রু সেই সোয়ানসী থেকে ছুটে আসতো। বেশ বড় ব্যবসায়ী এবং ব্যস্ততার কারণে সে বার্মিংাহাম না আসলেও প্রায় প্রতি বছরই আমি স্ব-পরিবারে সোয়ানসী যাই। সে,আমি এবং বাংলা কাগজের চীফ এডিটর মিসেস সুফিয়া আলম এবং ডাইরেক্টর রুহুল আমিন চৌধুরী মামুনসহ কুলাউড়া নিয়ে আমাদের একটি পরিকল্পনাও আছে। মিসেস সুফিয়া আলম, ও আহবাব হোসে খান বাপ্পি এবং আমি আগামী মার্চে একসাথে দেশে যাওয়ার কথা ছিলো খয়রুর সঙ্গে। এই তো কিছুদিন আগে ইতালী ও স্পেনে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটের বিষয়ে ইতালীর মান্না সরদার ও স্পেনের তরুণ ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মী এটিএনবাংলা ইউকের বনি হায়দার মান্নার সাথে আসলে খয়রুই সবচেয়ে ভূমিকা রেখেছে। তার বড়ভাই বিমানের সদ্য বিদায় নেওয়া এমডি মোকাদ্দির হোসেনের সাথে সকল যোগাযোগের মাধ্যমই ছিলো খয়রু। প্রচারবিমূখ থেকে জন্মভুমি কুলাউড়ার অসহায় দরিদ্র মানুষদের জান্য নানাভাবে কাজ করে সে ; আমাদের অনেক বন্ধু বান্ধবের বিপদ আপদে লুকিয়ে সাহায্য করা খয়রু সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ। বিশেষ করে মসজিদ মাদ্রাসায় তার দানগুলো অনেকেই জানেন না। বাংলা কাগজের সঙ্গেও তার সম্পর্ক সেই জন্ম থেকেই। উপদেষ্টা হিসেবে র্দীর্ঘদিন কাজ করেছে আর্থিকভাবেও অনেক সহযোগিতা আছে তার। খয়রুও আজ করোনাক্রান্ত স্বপরিবারে। আল্লাহ যেনো তাকে সুস্থ করে দেন এই কামনাই।

চ্যানেল এসের হেড অফ প্রোডাকশন্স ফারহান মাসুদ খানও করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেলফ আইসোলেশনে আছেন। গত সপ্তাহে একটি অনুষ্টান নিয়ে যখন তার সাথে কথা হয় তখন বলেছিলেন ‘‘ভাই মনে হয় আমিও আক্রান্ত হয়ে পড়ছি। দোয়া করবেন যেনো সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারি এবং যেনো সেভাবে কাবু না হই।‘‘ কিন্তুু ফারহান মাসুদ খানও করোনাক্রান্তই হয়ে গেলেন। এই মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে চ্যানেল এসে লাইভ অনুষ্টানের মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই এবিষয়ে নানা আপডেট দেওয়া মানুষদের সচেতন করা ফারহান মাসুদ খান কমিউনিটির জন্য নানাভাবে কাজ করছেন। বেশ কটি চ্যারিটি প্রতিষ্টানের সাথে জড়িত থেকে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া ফরাহান মাসুদ খানের জন্য অনেকেই দোয়া করছেন -আমরাও দোয়া করছি তিনি যেনো সুস্থ্য হয়ে উঠেন।
ফারহান মাসুদ খানের উপস্থাপনাকে আমি পছন্দ করা ছাড়াও বেশ ফলো করি। অনেক প্রতিভার অধিকারী তার বাচনভঙ্গি এবং শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের বিষয়টি অনেকের মাঝেই নেই। একজন সহকর্মী ছাড়াও নানাভাবে তার কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছি। বার্মিংহামের বাংলা মেলা আয়োজনের আগের দিন হঠাৎ করে স্পেন থেকে আসার কথা সহউপস্থাপিকা আসতে না পারার কথা জানালে ফারহান মাসুদ খানের স্মরনাপন্ন হলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে লন্ডনের জনপ্রিয় এক উপস্থাপিকাকে ম্যানেজ করে দেন। নানা অনুষ্ঠানের ফাকে বাংলা কাগজ কমিউনিটি এওয়ার্ডের প্রচারনার বিষয়েও তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন। বার্মিংহামে সুন্দর করে বাংলা লিখি আর চ্যানেল এসে ভিশন টুয়েন্টি থার্টি অনুষ্টান করার সময়ও তার অনেক সহযোগিতা ছিলো। লন্ডনের কোথাও দেখা হলে চ্যানেল এসের প্রতিনিধি না বলে সহকর্মী হিসেবে সম্বোধন করা ফারহান মাসুদ খানের বড় একটা গুন। এই মানুষটিও করোনায় আক্রান্ত। আল্লাহর কাছে তাঁর জন্যও প্রার্থনা করছি। সবশেষে বলবো –খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমরা আবার ফিরে যেতে চাই আমাদের আগের পৃথীবিতে। করোনা তুমি থামো,করোনা তুমি সমুলে বিনাশ হও।

বার্মিংহাম ২১ জানুয়ারী ২০২১

এই সংবাদটি 1,257 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •