আম নিয়ে বিপাকে আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর চাষীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলা ২০২১ ০৮:০৭

আম নিয়ে বিপাকে আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর চাষীরা
  এম এম হারুন আল রশীদ হীরা ;নওগাঁ:
আম নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর  আম চাষীরা। গত কয়েক বছর থেকে নওগাঁ জেলায়  আমের উৎপাদন  ব্যাপক বেড়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা জমি আম বাগানে রুপান্তরিত করা হচ্ছে। ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকায় ধান উৎপাদনের চেয়ে আম উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে আমের বাগান। আমের উৎপাদন, গুনগতমান আর বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে নওগাঁ বিশেষ করে নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা অঘোষিত আমের রাজধানী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের মধ্যে নওগাঁ জেলার উৎপাদিত আম গুনেমানে ও স্বাদে অনন্য হওয়ায় তা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তান্তি হচ্ছে। আমকে কেন্দ্র করে পরিবর্তন ঘটেছে এখানকার মানুষের জীবণ ও জীবিকার। তবে এ বছর বৈশ্বিক মহামারি  কোভিড-১৯ পরিস্থিতি জনিত চলমান নানা সমস্যা সহজ চলমান লকডাউনের কারণে আমের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার আম চাষীরা। বর্তমান বাজার দরে আম বিক্রয় করে তাঁরা খরচ ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।
সরেজমিনে নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও পত্মীতলা উপজেলার কয়েকটি আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে বারি-৪, রুপালি, ফজলি, গৌড়মতি ও আশ্বিনা জাতের আম। এখানকার চাষী ও বাগানিরা বাগান থেকে আম কাটা, পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারিদিকে যতদূর দেখা যায় শুধু আম আর আমের বাগান। সাপাহার উপজেলার পিছলডাঙ্গা গ্রামে বাগান থেকে আম কাটার সময় কথা হয় আম চাষী দেলোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি জানান, তিনি ৫০ বিঘা জমিতে রুপালি ও বারি-৪ জাতের আম চাষ করেছেন। এ বছর ২৫বিঘার বাগানে আম নিয়েছেন। যা তিনি বর্তমানে বাজারজাত করছেন। বাজারে প্রতিমণ রুপালি আম মানভেদে ১হাজার ৪শত টাকা হতে ২হাজার ২শত টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। গত বছর এই আমের বাজার দর ছিল মণপ্রতি ৩হাজার ৬শত থেকে ৪হাজার টাকা। এছাড়াও বাজারে ল্যাংড়া আম মণপ্রতি ৮শত টাকা হতে ২হাজার ২শত টাকায় এবং আশ্বিনা আম মণপ্রতি ৬শত হতে ৮শত টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।  চলতি বছর করোনার প্রভাবে ক্রেতারা এলাকায় আসতে না পারায় আমের এই দরপতন। বর্তমান আমের বাজার অব্যাহত থাকলে তাকে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলেও জানান এই চাষী। এদিকে বাজারে দাম না থাকায় চাষীরা বাগান থেকে আম কেটে তা সময়মতো বিক্রয় করতে না পারায় পরিপক্ক আম ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ফেটে যাওয়া আমের কোন ক্রেতা বাজারে নেই। যা তাদের আরো লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
পোরশার আম চাষী নুরুল হক জানান, করোনার কারণে আমের বাগান ভালো দামে কোন আম ব্যবসায়ী কিনতে চায় না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই খুব কম দামেই তাকে বাগান বিক্রি করতে হয়েছে।
                                                                 এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছর নওগাঁ জেলায় ২৫ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশ জমিতেই রুপালি জাতের আম চাষ হয়েছে। আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৩লাখ মেট্রিকটন। বাগানে শতকরা ৬৫-৭০ ভাগ আম বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সাপাহার উপজেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা  হয়েছে। লকডাউনের কারণে বাজারে আমের দাম কিছুটা কম ছিল। বর্তমান আমের দাম বাড়তির দিকে। আমরা আশা করছি গত কয়েক দিনের মধ্যে আমের বাজার স্বভাবিক হয়ে যাবে।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •