আলোকিত মানুষ চাই - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৪:০৬, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

আলোকিত মানুষ চাই

banglanewsus.com
প্রকাশিত জানুয়ারি ৫, ২০২৪
আলোকিত মানুষ চাই

ফিচার ডেস্ক

বর্তমান পৃথিবীর সব দেশের মানুষ এমন কি না আমি জানি না। একসময় রাজনীতি করা মানুষ সমাজে সম্মানিত ছিলেন। রাজনীতিকরা ছিলেন সাধারণ মানুষের কাছে আরাধ্য ভরসার স্থল। কিন্তু সময় পালটে গেছে। রাজনীতির নীতিআদর্শও এখন ধোঁয়াটে। এখন অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলসংশ্লিষ্ট মানুষদের অভিব্যক্তি দেখে বিস্মিত বিমর্ষ হতে হয়।

 

কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হলে শুধু নেতা নন, কর্মীসমর্থকরাও মুক্তচিন্তাবিবর্জিত হয়ে যান। নিজ দলের ভুল সাধারণত চোখে পড়ে না। পড়লেও তা অন্যদের কাছে প্রকাশ করতে চান না। কেউ তার দলের ভুল দেখিয়ে দিলে, গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দুঃখ পান, ক্ষুব্ধ হন। সমালোচকের কথায় যতই যুক্তি থাকুক, তারা সাধারণত এসব সুবচনকে আস্তাকুঁড়ে ফেলেন এবং সমালোচকদের প্রতিপক্ষ দলের অনুসারী বিবেচনায় মানসিকভাবে বয়কট করেন।

 

আওয়ামী লীগ যত কথাই বলুক, তারাও জানেন, ভোটাররাও জানেন, আর প্রতি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা তো জানেনই ২০১৮ সালে নির্বাচনকে কীভাবে গড়াপেটা করা হয়েছিল। বিএনপির নেতৃত্ব রাজনীতির দুর্বলতায় জাতীয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই নির্বাচন আওয়ামী লীগ একরকম বৈধ করে ফেলতে পেরেছিল। চ্যালেঞ্জমুক্ত থাকলে এভাবে বিজয়ীরই শেষে জিত হয়। বিজয়ীকেই বেশির ভাগ মানুষ জিন্দাবাদ দেয়। এখন সেই নির্বাচনের অন্যায় সম্পর্কে লিখে একজন মুক্তচিন্তার মানুষ সরকারি দলের রোষানলে পড়বেন; আর এমন বিবেচনা হতে থাকবে যে, ভদ্রলোক বিএনপিজামায়াত সমর্থক। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি হয়তো আদর্শিক কারণে বিএনপি জামায়াতের ছায়া থেকে যোজন যোজন দূরে থাকেন। আবার একই মানুষই যখন বিএনপির জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, জিয়াউর রহমান কেন রাজাকার শাহ আজিজকে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী বানালেন, গোপন বিচারে কেন মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের হত্যা করলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে একাত্তরের ঘাতক পাকিস্তানি হানাদার সৈন্যদের সহচর বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের দেশের মন্ত্রী বানালেন, সব জেনেবুঝে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার জন্য জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার করতে থাকলেন। কেন জাতির শোকাবহ দিন ১৫ আগস্ট সব মানবিকবোধ বিসর্জন দিয়ে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ঘোষণা করতে হয়েছিল? আবার এমন দিনেই সহচর পরিবেষ্টিত হয়ে সহাস্য বদনে কেক কাটছিলেন বিএনপি নেত্রী। আর কেক কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন বিএনপি রাজনীতিসংশ্লিষ্ট নেতা, কর্মী, স্বল্পশিক্ষিত, শিক্ষিত সবাই।

 

একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি রাজনীতি করা শিক্ষক দলের এক স্নেহভাজন অধ্যাপককে বলেছিলাম, ১৫ আগস্টের মতো দিনেফেকজন্মদিনের উৎসব করতে তোমার বিবেক সায় দেয়? তিনি অধোবদন হয়ে বলেছিলেন, ‘কী করব স্যার, যেহেতু রাজনীতি করি, তাই উৎসবে শামিল না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে!’ বুঝলাম রাজনীতির আফিম এবং চাওয়াপাওয়ার হিসাবে বিবেক নির্বাসিত হয়ে যায়। স্বস্তির বিষয়, কয়েক বছর হয় কেকউৎসব থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বিএনপি। এখন এসব কথা মুক্তচিন্তার কোনো সচেতন মানুষ লিখলে তৎক্ষণাৎ তিনি আওয়ামী লীগের লোক হয়ে যাবেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীর চোখে নিন্দিত হবেন।

 

আওয়ামী লীগ কি জন্মলগ্নের আদর্শ ধারণ করা অবস্থায় এখন আছে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলা আওয়ামী লীগকে কি এখন খুঁজে পাওয়া যাবে? মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা কি নিজ দলের ভেতর বর্ণচোরা জামায়াতবিএনপি মতাদর্শীদের জায়গা করে দেননি? গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসেননি? এখন এসব বললে তো মুহূর্তেবিএনপিহয়ে যেতে হবে।

 

আওয়ামী লীগের টানা চৌদ্দ বছরের শাসনামলে অসহনীয় দুর্নীতি সমাজকে অনেক বেশি কলুষিত করেছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় দেখা গেল, এমপিমন্ত্রীদের অনেকেই পাঁচ বছরে অগাধ অর্থশালী হয়েছেন। তারাই আবার অধিকারী হয়েছেন নির্বাচন করার। কিন্তু নিয়ে কোনো প্রশ্ন রাখার সুযোগ নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।