আসছে ভয়ংকর বিপদ : মানুষের ঢল ঠেকাতে ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত:শনিবার, ০৮ মে ২০২১ ০৯:০৫

আসছে ভয়ংকর বিপদ : মানুষের ঢল ঠেকাতে ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

নিউজ ডেস্কঃ

যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ভয় ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটে গেল। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামলানো গেল না। গত বছর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টানতে ঈদের ছুটি কমিয়ে, দূরপাল্লার পরিবহন বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মানুষের গ্রামে যাওয়া আটকে দেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পথে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ছুটছেন। পাশাপাশি ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শপিংমল ও বিপণিবিতানে দেখা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়।

এর মধ্যেই গতকাল শনিবার দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্তের খবর এসেছে। যে ধরনটিতে ভারত এখন প্রায় বিধ্বস্ত। মৃত্যু ও সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে চলেছে। ভারতের এই ভয়ংকর বিপদ বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বাড়ি ফেরা মানুষের সঙ্গে দেশব্যাপী ভারতীয় ধরনটি ছড়িয়ে পড়লে তা হবে ভয়াবহ; আসবে ভয়ংকর বিপদ।

আগামী দু-তিন দিনে ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল আটজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী জুন মাসে তৃতীয় ধাপের সংক্রমণ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আগামী জুনে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে পারে। তিনি বলেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লে আবার সরকারকে দোষারোপ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন দেশেও শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির সংক্রমণ ও মৃত্যুর অবস্থা আমরা অবগত। তেমন অবস্থা সৃষ্টি হলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় সতর্ক করে আসছিলাম; কিন্তু মানুষ তা আমলে নেয়নি। রাজধানীর প্রতিটি শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়। কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখলে তা খুলে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করা হয়। খুলে দেওয়ার পর সংক্রমণ বাড়লে তখন আবার সরকারের সমালোচনা করা হয়। ঈদে বাড়ি না ফিরে যার যার স্থানে থাকতে বলা হলেও কেউ শুনছে না। ফেরি আটকানো হলো; কিন্তু আন্দোলন করে ফেরি চালু করা হলো।

এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল ঠেকাতে ফেরিঘাটে আজ রবিবার (৯ মে) থেকে মাঠে নামছে বিজিবি। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি  নিশ্চিত করেন।এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের জেলা প্রসাশক এস এম ফেরদৌস বিজিবি মাঠে নামার বিষয়টি জানান।

তিনি আরো জানান, বিজিবির ৩ টি টিমের মধ্যে একটি টিম মানিকগঞ্জের প্রবেশ মুখ ধল্লা, দ্বিতীয় টিম বারবারিয়া ও একটি টিম পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থান করবে।

মাওয়া এবং পাটুরিয়ার ফেরিঘাটে শুক্র এবং শনিবার হাজার-হাজার মানুষ ভিড় করলে এক পর্যায়ে ফেরি দিয়ে লোকজনকে নদী পার করে দিতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার যাতে এই পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য বিজিবি কড়া অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে।

 

 

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত এবং পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ফেরী বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তি এই বিষয়ে  জেলা প্রশাসক বলেন, গতরাতের নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আজ ভোর ৬টা থেকে সবধরণের ফেরী চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধু জরুরি প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স পারাপার হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি। রবিবার থেকে ঈদ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবিও জেলার তিনটি বর্ডার পয়েন্ট (বারবাড়িয়া, ধল্লা, পাটুরিয়) মোতায়েন থাকবে। এতে করে আমরা আরো সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।

এদিকে মানুষের বাড়ি ফেরা ঠেকাতে সরকারি পদক্ষেপ যথাযথ ছিল না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, সরকারি পদক্ষেপ একটি অন্যটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রেখে আন্তঃজেলা গণপরিবহন চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার অন্যান্য পরিবহনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এতে করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ মিলছে। আন্তঃজেলা পরিবহন চালু থাকায় অনেকে ভেঙে ভেঙে ওই গণপরিবহনে করে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এতে করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনস্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ মানা হয়নি। অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা থেকে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তাতে সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •