ইইউর চেয়ে বেশি দামে টিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ এপ্রি ২০২১ ০৩:০৪

ইইউর চেয়ে বেশি দামে টিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ  অভাবনীয় কম সময়ে কোভিডের টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয়তার সঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যুক্ত হলে কী ঘটতে পারে। তবে এই টিকা সমানভাবে সব দেশ না পেলে শেষ পর্যন্ত করোনার নির্মূল নাগালের বাইরেই থেকে যাবে। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দা ইকোনোমিস্ট-এর এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এখন প্রধানত উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা টিকা পাচ্ছে। অনেকটা কাজও হচ্ছে। তবে গরিব দেশগুলো এই টিকা না পেলে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ অরক্ষিত থেকে যাবে। তাতে এই মহামারি আরও প্রলম্বিত হবে। এর মধ্যে আবার করোনার ভাইরাসের নতুন ধরন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে টিকাদানে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, ততটুকু আবার হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সমাধান হচ্ছে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবদেশের সব মানুষের জন্য টিকা নিয়ে আসা যা সবাই পাবে এবং সবার নাগালের মধ্যে থাকবে। বর্তমানে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে বৈষম্য বা একধরনের জাতিবিদ্বেষ তৈরি হচ্ছে। এর সমাধান দিতে পারে এই জনগণের টিকা। টিকার স্বল্পতা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, মেধা সম্পদের দাবি না থাকলে সারা বিশ্ব এই টিকা তৈরি করতে পারত। তাতে চলতি বছরেই বিশ্বের ৬০ ভাগ মানুষ এবং ২০২২ সালের মধ্যে যারা চায় তাদের সবাইকে এই টিকা দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু ধনী দেশগুলো টিকা এবং ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি মজুত করে রেখেছে। এর পরিণতি, টিকার এই স্বল্পতা। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কানাডার মতো দেশের অনেক কোম্পানি এই টিকা বানাতে আগ্রহী।
উৎপাদন সূত্রের অভাবে তারা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও টিকা উৎপাদন করতে পারছে না। তারা টিকা বানাতে পারলে আরও অনেক মানুষ টিকা পেত এবং ধনী দেশগুলোর ওপর গরিবদের নির্ভরশীলতা হ্রাস পেত।

ওষুধ কোম্পানিগুলো অবশ্য বলছে, তারা নিজেরাই উৎপাদন বাড়াতে পারবে। কিন্তু তাদের এই প্রতিশ্রুতির কথার ফানুসে পরিণত হয়েছে। ধনী দেশগুলোতেই তারা কথামতো সরবরাহ দিতে পারছে না। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসন উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং ইউরোপে ও উত্তর আমেরিকায় তারা টিকার চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফাইজার ও মডার্না মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকা দিচ্ছে, অন্যরা পাচ্ছে অতি সামান্য। এখানেই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের বিতর্ক চলে আসে। পেটেন্টের কারণে টিকার উৎপাদন বাড়ছে না। ওষুধ কোম্পানিগুলো টিকার সূত্র কিনে রেখেছে। উৎপাদনের ওপর তাদের একচেটিয়া অধিকার। যারা আবার তাদের কাছে থেকে লাইসেন্স কিনেছে, তারা উৎপাদন করতে পারবে, অন্যরা নয়। ফলে টিকার উৎপাদন ও বণ্টন মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ, উগান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়ে বেশি দামে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনছে।

টিকার পাশাপাশি চিকিৎসাসামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য জানিয়ে নিবন্ধে মেধা সম্পদের শর্ত শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়, এই জ্ঞান তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সরকার এত টাকা বিনিয়োগ করল, অথচ তা বেসরকারি খাতের হাতে থেকে গেল। ব্যাপারটা অনৈতিক। এই টাকা তো জনগণের কর থেকে এসেছে। এই জ্ঞানের ওপর জনগণের অবশ্যই কর্তৃত্ব থাকা উচিত।

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •