কমলগঞ্জে উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও ভরাটের কাজে : হুমকির মুখে কৃষি জমি!

প্রকাশিত:বুধবার, ০৩ ফেব্রু ২০২১ ০৬:০২

কমলগঞ্জে উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও ভরাটের কাজে : হুমকির মুখে কৃষি জমি!

আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটা ও মাটি দিয়ে ভিটা ভরাটের জন্য। কৃষি উৎপাদনে জমির উর্বর মাটি চাষাবাদের জন্য খুবই উপকারী। তবে দু’ফসলি জমি থেকে উর্বর মাটি চলে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মাধবপুর,আদমপুর, মুন্সীবাজার, রাজদীঘিরপাড়সহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকহারে জমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকযোগে ইটভাটা ও ভিটা তৈরীর জন্য নেয়া হচ্ছে। স্তর বাঁধা কৃষিজমির মাঝখানে দেড় থেকে দুই ফুট পরিমাণ উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা । মুন্সীবাজারের রামপুর এলাকায় রাস্তার ধারে চর্তুদিকে কৃষিজমির মাঝ থেকেই এসকেবেলটর লাগিয়ে উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। অর্থাভাবে এসব কৃষক ইটভাটা মালিকদের কাছে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে তোলনামূলক কম দামে মাটি কিনে ভাটায় স্তুপীকৃত করছেন। ফলে আবাদি এসব জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। কৃষির উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ছে। পরিবেশেরও ক্ষতি বয়ে আনছে।
পতনঊষারের কৃষক জিয়াউল হক, কয়সর মিয়া, এনামুল হক বলেন, গরিব কৃষকদের বেলায় ধানের চারা রোপনের পর দোকান থেকে সার-কীটনাশক বাকিতে আনতে হয়। এরপর শ্রমিকের খরচসহ আনুষঙ্গিক অনেক খরচ লাগে। তখন বাধ্য হয়েই কমদামে ধান বিক্রি ছাড়া কোন উপায় থাকে না। কৃষকরা আরও বলেন, এ সময়ে লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হয়। আবার মহাজনরা যখন ধান কিনে নেন তখন ধানের দাম বেড়ে যায়। লাভ হয় মহাজনী ব্যবসায়ীদের। তাই অনেক সময় ইচ্ছের বিরুদ্ধেও জমির উর্বর মাটি বিক্রি করতে হয়।
তবে জমির উপরের উর্বর মাটি কৃষির জন্য খুবই উপকারী বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। উপজেলার মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল দেব বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি খুবই জটিল বিষয়। উর্বর মাটির ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের বছর সমুহে ভালো ফলন হয় না। প্রচুর গোবর-সার দিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়। জমিতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম সার লাগে। পুণরায় মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হতে কমপক্ষে দশ থেকে পণের বছর সময় লেগে যায়। এটি কৃষিজমির জন্য খুবই ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক এড. শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কৃষিজমির উপরের ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি উর্বর। এই মাটি চলে গেলে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে এবং পরিবেশেরও ক্ষতির সৃষ্টি হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, এই বিষয়টি আমাদেরও দেখার দায়িত্বে রয়েছে। তবে কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,236 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •