করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ তথা বিশ্ব : লকডাউনের বিকল্প ভাবা যায় কি ?

প্রকাশিত:শনিবার, ২৪ এপ্রি ২০২১ ১২:০৪

করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ তথা বিশ্ব : লকডাউনের বিকল্প ভাবা যায় কি ?
মাহফুজ আদনান : 
করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত অর্থনীতি । বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে সবাই ব্যস্ত । এরইমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে করোনাভাইরাসের প্রভাব দেখা দিয়েছে ভয়াবহ আকারে।
এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার লকডাউন দিয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ যাবত । এতে সাধারন মানুষের কি যে ক্ষতি হয়েছে । ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বস নেমে যাওয়ায় গোটা বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাজেহাল অবস্থা । যারা দিন আনে দিন খান তাদের অবস্থা একটু চিন্তা করুন । খেটে খাওয়া মানুষের জন্য রমজানের এই সময়ে লকডাউন কতটা যুক্তি সংগত । সরকারের অবশ্যই তা মাথায় রাখতে হবে । গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিসভা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৫ এপ্রিল থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দোকানপাট শপিংমল খোলা রাখা যাবে । করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে তো হবে তাই বলে পুরোপুরি লকডাউন কারো কাম্য নয় । এতে দেশের ক্ষতি । ৭ ঘন্টা দিনে দোকানপাট শপিংমল খোলা রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই । এটা ভালো কিন্তু খেটে খাওয়া দরিদ্রপীরিত মানুষের কথা ভাবতে হবে । এই লকডাউন এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে,অনেকেই মনে প্রস্ন –  এই লকডাউন কি বাংলাদেশের জন্য উত্তম? নাকি বিকল্প হিসাবে কোন কিছু ভাবা যায়  কি? অনেকে চিন্তা করছেন অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে জনজীবনকে  ঝুঁকিমুক্ত করতে অন্যভাবে কি কিছু করা যায়? দেশের মানুষের অবস্থা মাথায় রেখে এবং দেশের মানুষের  জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এখনি কি সময় নয় লকডাউন এর বিকল্প কিছু ভাবার?
এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। নানা বিধিনিষেধে বন্দি মানুষ। মহাসংকটে অনেকের জীবিকা।সবচাইতে দুঃসময় পালন করছে দিন আনে দিন খায় মানুষের, এই লকডাউনে  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা রাস্তার ধারে ফুটপাতে ব্যবসা করে তাদের অবস্থা বেহাল, চায়ের দোকানদার রিস্কা চালক,  নিম্নআয়ের মানুষের অবস্থা এতই করুন যে গেছে হয়ে গেছে, এখন বিপদের দিনে ইনকাম করতে পারছে না পেট কে রক্ষা করার জন্য, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এর কাছ থেকে ঋন নিচ্ছে, তারা জানে তাদের এটা পরিশোধ করার কোন ক্ষমতা নাই যদি না তারা তাদের প্রতিদিনের কাজ কর্ম পরিচালনা করতে না পারে, তারপরেও নিজেদের পরিবার রক্ষায় এসব কাজ করে যেতে হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো এদের দেখার কোন মানুষ নাই। এখন কিন্তু এদের কেউ কোন আগের মত কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে  না। এতিমখানার শিশুরা উপলব্ধি করছে তাদের এই লকডাউন যে কতই অস্বস্তিদায়ক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্ব পালনকারি এতিমখানার শিক্ষক এর সাথে আলাপকালে বলেন-
” করোনাভাইরাসের কারনে এই সময়ে সংকটে এতিমখানার শিশুরাও। করোনার কারণে এমনিতে ঘরবন্দি মানুষ। তারপর আবার টানা লকডাউন। এসব কারণে মানুষের দান এবং সদকায় চলে এমন এতিমখানাগুলোর শিশুদের জন্য সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর রমজানে তাদের মুখে হাসি ফুটলেও এবার দেখা যাচ্ছে কষ্টের ছাপ। এতিমখানার দায়িত্বরতদের পোহাতে হচ্ছে বেগ। কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে এসব দুস্থ এতিম শিশুদের। প্রথম দিকে অল্প কিছুসংখ্যক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না তাদের।
এইত চিত্র ভেসে উঠেছে, কিন্তু সমাজের বাকীটা অংশে যে এর কতই প্রভাব পরছে তা কাছে থেকে না দেখলে উপলব্ধি করা দুষ্কর। তাই লকডাউন বিকল্প এখন সময়ের উওম দাবী।
লেখক : মাহফুজ আদনান, চীফ নিউজ এডিটর ও সিইও, বাংলানিউজইউএসডটকম । 

এই সংবাদটি 1,270 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •