করোনায় তরুণ প্রজন্ম: কী হতে চায়, প্রস্তুতি কেমন 

প্রকাশিত:বুধবার, ২৪ নভে ২০২১ ০৫:১১

করোনায় তরুণ প্রজন্ম: কী হতে চায়, প্রস্তুতি কেমন 

নিউজ ডেস্কঃ 

বিশ্বব্যাপী করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এর বাইরে নয়। অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই করোনাকে পেছনে ফেলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখ পড়তে হচ্ছে তাদের। সরকারি চাকরি, রিসার্চ, ফিল্যান্সিং ও বিদেশে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকা অনেকেরই ক্যারিয়ার নির্ধারণে পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজকের তরুণ প্রজন্ম কী হতে চায়? তাদের প্রস্তুতিই বা কেমন?

দেশে করোনা মহামারি শনাক্ত হওয়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নিজের পার্ট টাইম বিভিন্ন কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তরুণরা। এরই মধ্যে শুরু হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস।

এদিকে  সরকারি চাকরির পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ,বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যেসব তরুণ কাজ করতেন, তাদের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন।  হতাশায় নিমজ্জিত অনেকেরই আত্মহত্যার মতো ভয়াল খবরও গণমাধ্যমে এসেছিল।

দীর্ঘ ১৮ মাস তরুণ প্রজন্ম অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। তবে, গত ১২ অক্টোবর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তবে তরুণদের- মধ্যে চিন্তাভাবনার অনেক পরিবর্তন দেখা গেছে।

দেশের তরুণ ও তরুণীরা কী হতে চায়, এমন প্রশ্নের জবাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রিন্টমেকিং বিভাগের স্নাতক শেষ সেমিস্টারের ছাত্র আরাফাত আমান বলেন, ‘যেহেতু চারুকলায় পড়ি, তাই চারুকলাকেন্দ্রিক বেসরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ অনেকটা বেড়েছে। সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করছি।’ তবে সরকারি চাকরিতে একটা নিরাপত্তা আছে, সেজন্য আগ্রহটা বেশি বলেও জানান তিনি।

ক্যারিয়ার হিসেবে ফিল্যান্সিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক-পড়ুয়া আব্দুল্লাহ হাজারী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করছি। এটাই পেশা হিসেব বেছে নিতে চাই। স্নাতক শেষ হলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য যেতে চাই। সেই হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারে স্নাতকে পড়ছেন সাদেকুল আরেফিন সাইফ। রিসার্চ ওরিয়েন্টেড চাকরির প্রতি তার আগ্রহ বেশি। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে থিসিস করছি। রিসার্চ ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে চাই।  এটাই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাই।

জানতে চাইলে  বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী  নূরে আলম জাকারিয়া বলেন, ‘ব্যাংকার হওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যে পড়াশোনা করেছি। তবে করোনাকালে দেখেছি বেশ কয়েকটি ব্যাংকে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। স্বল্প পুঁজিতে কৃষিকাজ কিংবা কারিগরি কোনো ফার্ম গড়ে তোলার কথা ভাবছি।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো চাকরি প্রতি আগ্রহ নেই এমনটিই জানালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়ুয়া তৌসিফ কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে পড়াশোনার যেতে চাই।

তবে দেশে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির সুযোগ আছে, সেক্ষেত্রে দেশের বাইরে চলে যেতে চান কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে  তৌসিফ  বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুতি নেওয়ারও একটা বিষয় থাকে। এজন্য আমি দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন তানান আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন তিনি। তবে করোনা পরিস্থিতি তাকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে এমনটিই জানালেন তিনি। করোনায় প্রায় দুই বছর সময় নষ্ট হওয়ার কারণে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে যেতে পারেননি। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া ইচ্ছা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি পিছিয়ে দিয়েছে। এজন্য বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। সেই রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আয়েশা আক্তার ইতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। তবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি তাকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে ইউনিসেফ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করতে চান তিনি। এই তরুণ বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রায় দুই বছর পিছিয়ে দিয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার জন্য উচ্চ শিক্ষা শেষ করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকে। ইতোমধ্যে দুই বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ না করতে পারলে আবেদন করা কঠিন হয়ে যাবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ থেকে সদ্য বিবিএ শেষ করে উবার বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন জুনায়েদ নাইমুল ইসলাম। বেসরকারি চাকরিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ নেই। বেসরকারি ভালো প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে চাই।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •