কালিগঞ্জে রিভার ড্রাইভ ইকো পার্ক ও চন্দ্র ভবন পিকনিক স্পট শ্রীঘ্রই শুরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টো ২০২০ ১০:১০

কালিগঞ্জে রিভার ড্রাইভ ইকো পার্ক ও চন্দ্র ভবন পিকনিক স্পট শ্রীঘ্রই শুরু

মীর জাহাঙ্গীর কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) :
কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী বসন্তপুরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নদী ইছামতি,কাঁকশিয়ালী ও কালিন্দী ত্রি-মোহনায় বসন্তপুর রিভার ড্রাইভ ইকো পার্ক ও পিকনিক স্পট চন্দ্রভবনের যাত্রা খুব শ্রীঘ্রই শুরু হবে এমনটি জানিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল। ইতি মধ্যে পার্কের সীমানা নির্ধারণ করে পিলিয়ার ও লাল পতাকা টানানো হয়েছে। তিনি জানান বসন্তপুরের পার্কের নামকরণ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস,এম মোস্তফা কামাল, তিনি আগামী সপ্তায় বসন্তপুরের পার্কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করচেবন। যে ভাবে বসন্তপুর ও চন্দ্রভবন হলো এ বিষয়ে একটি তথ্য সূত্রে বিশিষ্ট সাহিত্যিক গাজী আজিজুর রহমান জানান খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতকে সুন্দরবনের যমুনার তীরে বঙ্গে অন্যতম স্বাধীন রাজ্য বিক্রম আদিত্ব-প্রতাপ আদিত্ব ও রাজা বসন্ত রায় এখানে গড়ে তোলেন এক যশোরাদ্য দেশ। বিক্রম শ্যামনগরে এবং তার খুড়তুতো ভাই বসন্ত রায় কালিগঞ্জের যমুনার পশ্চিম তীরে ও ইছা মতি কালিন্দি নদীর পূর্ব তীর জুড়ে বন কেটে বসতি স্থাপন করেন। তার আতœীয় পরিজন সহ নানা ধর্ম বর্ণের লোকদের নিয়ে বর্তমান শীতলপুর, বসন্তপুর, প্রবাজপুর, মুকুন্দপুর ছিল বসন্ত রায়ের সমৃদ্ধ রাজ্য ও নগর। তার নিবার্সটিই বসন্তপুর নামে খ্যাত। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল বসন্তের রাজত্বকাল। তিনি তার পুত্র কচু রায়ের মৃত্যুর পর একই শতকে শেষ দিকে একটা মন্বন্তর (দূভিক্ষ) ও একটি ভুমিকম্পে অঞ্চলটি হলোটপালট হয়ে যায়। উনিশ শতকের দিকে বসন্ত রায় এক কুলীন প্রজা মাখন লাল চন্দ্র গড়ে তোলে বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই চন্দ্র ভবনটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চন্দ্ররা ভবন ও সম্পত্তি ফেলে ভারতে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। সেই থেকে এটি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড ভুক্ত সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি। উল্লেখ্য যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল জাতির পিতার ভ্রাতা শেখ নাসের ও তাদের পরিবারের অনেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই এলাকা দিয়ে ভারতে গমনাগমন করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখে কালিগঞ্জ শিল্প কলা একাডেমীর শিল্পী ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক চন্দ্র ভবনে একটি পিকনিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই সময় কালিগঞ্জ শিল্প কলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু বসন্তপুুের পুরাতন কাষ্টম ভবন ও চন্দ্র ভবন সরকারের এই খাস জায়গায় একটি বিনোদন কেন্দ্র পার্ক ও পিকনিক স্পটের দাবী তুলে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সিফাত উদ্দীন সহ অন্যান্য সকল কে দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং বসন্তপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে সাংবাদিকরা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একাধিক লেখার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বসন্তপুরের ঐতিহ্যবাহী স্থানটি গুরুত্ব তুলে ধরেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস,এম,মোস্তফা কামালের কাছে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয় সেখানে একটি পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মানের সম্মতি প্রদান করেন। সর্বশেষ জেলা প্রশাসক বসন্তপুর রিভার ইকো পার্ক ও চন্দ্র ভবন পিকনিক স্পটের নাম করণ করেছে। খুব শ্রীঘ্রই তার বাস্তবায়ন ভিত্তি প্রস্তরের মাধ্যমে উদ্বোধণ করা হবে। পার্কটি নির্মান হলে সীমান্ত নদী এলাকায় মানুষের বিনোদন নির্ভর একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান গড়ে উঠবে। আলোকিত হবে এলাকার পরিবেশ। এখানে বেড়াতে আসবে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিরা। পর্যটকদের পদ চারনায় মুখোরিত ও মিলন মেলায় পরিনত হোক এই প্রত্যাশা রাখে এলাকার সচেতন মহল।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •