কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন ॥ হাসিমুখে আছে চাষীরা

প্রকাশিত:সোমবার, ০৫ এপ্রি ২০২১ ০৬:০৪

কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন ॥ হাসিমুখে আছে চাষীরা

 

নাদিয়া ইসলাম মিম, কুষ্টিয়া ॥
পেঁয়াজ বীজে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উচ্চফলনশীল লাল তীর কিং জাতের পেঁয়াজ বীজের চাষ। এ বীজ সংগ্রহ ও বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার মধ্যে সব কয়টি উপজেলায় কিছু কিছু এলাকায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করলেও কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক মাত্র ২টি উপজেলায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। উপজেলা ২টি মধ্যে রয়েছে কুমারখালী উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমি এবং খোকসা উপজেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে বীজ আবাদ হয়েছে। মোট ৯৮ হেক্টর জমিতে বীজ আবাদের তালিকা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে অন্যান্য উপজেলাতেও বীজ আবাদ হলেও তা কৃষি অফিসের তালিকায় নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায় কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বীজ চাষীরা পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করে পারিবারিকভাবে সচ্ছলতা আনতে পারবে। যে হারে বীজ উৎপাদন হয়েছে তাতে করে জেলায় বীজের সংকট থাকবেনা। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ মেঃটন পেঁয়াজ বীজ। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, উচ্চফলনশীল লাল তীর কিং জাতটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে তাহেরপুরি নামে পরিচিত। এ জাতের ১ কেজি বীজে প্রায় ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা যায়। যা স্থানীয় জাতের বীজের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
কৃষি অফিস সূত্রের বাহিরে কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী মাঠেও পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে। পেঁয়াজ বীজের কদম ফুলে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। এই মাঠে কয়েক হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জনৈক এক কর্মকর্তাকে বাড়াদী মাঠ সম্পর্কে বলা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন তাদের তালিকায় এই মাঠের হিসেব নেই। এ ভাবেই আরো ৪টি উপজেলার মাঠে প্রান্তে যে সব পেঁয়াজ বীজ আবাদ হচ্ছে তার কোন সংবাদই তাদের কাছে নেই। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সঠিকভাবে মাঠে জাননা বা চাষিদের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ না করায় তারা ঘরে বসে তথ্য প্রদান করার কারনেই মাঠের সঠিত তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাচ্ছেন না বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।
বাড়াদী গ্রামের পেঁয়াজ বিজ আবাদকারী কৃষক হাসান আলী জানান, তিনি তার প্রায় ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। ন্যায়্য মুল্য পেলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবে। ফলন ভালো হওয়ায় যে বীজ ঘরে উঠবে তাতে সে খুবিই খুশি। অপর এক বীজ আবাদকারী কৃষক নওশের আলী তিনি বলেন, তিনিও দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছে। বীজ খুবিই ভালো হয়েছে। বীজের সঠিক দাম পেলে ভালো লাভোবান হবেন। তিনি বলেন এ বছর ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা কেজী দরে বীজ বিক্রি হয়েছে। কুষ্টিয়ার চাষিরা বাহিরের জেলা থেকে পেঁয়াজের বীজ আমদানী করে পেঁয়াজের চারা রোপন করতে হয়েছে। বীজের যে বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে তাতে করে আগামীতে বাহিরের জেলা থেকে কুষ্টিয়া বীজ আনা লাগবে না। তবে এই বীজ তৈরীতে খুবিই ঝুকি। ঝড় বৃষ্টি হলে সব দানা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমরা পেঁয়াজের বীজ নিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে পড়ে আছি।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ^াস জানান, এ বছর আবহওয়া অনুকুলে থাকায় পেঁয়াজের দানা ভালো হয়েছে। আশা করি চাষিরা ভালো দাম পাবে।

 

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •