কুয়াকাটায় চিংড়ি রেণু আটক নিয়ে   নাটকীয়তার অভিযোগ 

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৪ আগ ২০২১ ০৪:০৮

কুয়াকাটায় চিংড়ি রেণু আটক নিয়ে   নাটকীয়তার অভিযোগ 
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি\
কুয়াকাটার আলীপুরে দুই লাখ চিংড়ি রেণুসহ চারজনকে আটকের ঘটনায় নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে। সোমবার প্রায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ায় কোস্টগার্ড, থানা পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের রশি টানাটানি। একটি বেসরকারী সংস্থার মাঠকর্মীরা চিংড়ি রেনু জব্দের বিষয় পুলিশ ও মৎস্য অফিসারকে তথ্য দিয়ে বেকায়দায় পড়েন। শেষ পর্যন্ত উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ ও বাজারজাত করার অভিযোগে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করে নাটকীয়তার অবসান ঘটান।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের ইকোফিশ-২ পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি জানান, কুয়াকাটা সৈকতে অবৈধ উপায়ে চিংড়ি রেণু শিকারের পর সেখান থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করছিল একটি চক্র। এই চিংড়ি রেণু কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এ বিষয়টি নজরে রেখে মজুদ করার স্থানটি সনাক্ত করেন তারা। এ তথ্য থানা পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য অফিসারকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তার উপস্থিতিতে রেণু জব্দ না হওয়ার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার
চেষ্টা চালাতে থাকেন। এরই মধ্যে আরও কয়েক হাজার চিংড়ি রেণু পরিবহন করে একই স্থানে নিয়ে আসার পথে কোস্টগার্ডের হাতে আটক হন তিনজন। এরপর কে মামলার বাদী হবেন এবং জব্দ তালিকা কে করবেন, এনিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহম্মদ শহীদুল হকের হস্তক্ষেপে
বিষয়টির সমাধান হয়। উপজেলার নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিজেন কমান্ডার হরি প্রসাদ সিংহ জানান, অবৈধ চিংড়ি রেণু সরবরাহের সময় তারা আইউব আলী (৫০), জলিল (৪৬) ও দেলোয়ার (৫০) নামে তিনজনকে আটক করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেছেন। মহিপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে অবৈধ চিংড়ি রেণু মজুদ রাখার অপরাধে ছগির (৪৫) নামে একজনকে আটক করেছি। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রথমে দায়িত্ব নিতে না চাওয়ায় আইনী প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে সময় লেগেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে চিংড়ি রেণু জব্দ এবং মজুদদারকে আটক করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া এ বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দিতে পারিনা। পরে আদালতের মৌখিক নির্দেশে আমি এখানে এসেছি। মৎস্য কর্মকর্তা চারজনকে আসামী করে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে আরও বলেন, জব্দকৃত দুই লাখ চিংড়ি রেণু শিববাড়িয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। মহিপুর থানার ওসি
মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ চিংড়ি রেণু পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত কারার অভিযোগে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •