খুশি তামিম দলকে জেতাতে পেরে

প্রকাশিত:সোমবার, ০৭ ডিসে ২০২০ ০৮:১২

খুশি তামিম দলকে জেতাতে পেরে

নিউজ ডেস্ক,নিউ ইয়র্ক: প্রথম ম্যাচেই জয় পেতে পারত বরিশাল। হয়নি। মিরাজের করা শেষ ওভারে চার ছক্কা মেরে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন খুলনার আরিফুল। তবে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশাল ঠিকই জিতেছে। হারিয়েছে টানা দুই জয়ে উড়তে থাকা মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে। গত শনিবারের ম্যাচে বরিশালের জয়ের নায়ক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৫ রান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বরূপে ফেরেন তিনি। ৬১ বলে খেলেন ৭৭ রানের জ্বলজ্বলে ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও তিনটি ছক্কার মার। ফলে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনিই। দলকে জেতাতে পেরে খুশি তামিম ইকবাল। একটা বড় ইনিংস খেলা খুব দরকার ছিল, আর সেটা তিনি করতে পেরেছেন। যা সামনের ম্যাচগুলোতে তামিমকে উদ্দীপ্ত করবে।
ম্যাচের পর তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমার বড় একটা ইনিংস খেলা খুবই দরকার ছিল। শেষের কয়েকটি ম্যাচে যদি দেখেন আমি শুরুটা ভালো করছিলাম, কিন্তু ইনিংস বড় হচ্ছিল না। আমি খুশি যে বড় একটা ইনিংস খেলতে পেরেছি, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি। আমি খুশি।’
টুর্নামেন্টে অনেক সিনিয়র প্লেয়ার আছেন, যারা নামের সুবিচার করতে পারছে না। সাকিব, রিয়াদ, মুশফিকসহ অনেকেই আছেন এই তালিকায়। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘কয়েকটি ম্যাচ গেছে। আশা করি সিনিয়ররা রানে ফিরবে। অভিজ্ঞতার একটা ব্যাপার আছে।’
এক দলের সামনে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার হাতছানি, আরেক দল খুঁজছে আসরে নিজেদের প্রথম জয়। এ দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল দ্বিতীয় পক্ষই। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর অধিনায়ক তামিম ইকবালের অনবদ্য ফিফটিতে শীর্ষস্থানের খোঁজে থাকা মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে হারিয়েছে ফরচুন বরিশাল। আগে ব্যাট করে রাজশাহীর ইনিংস থেমেছিল ৯ উইকেটে ১৩২ রানে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য মামুলি এই সংগ্রহ টপকে যেতে কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা ছিল না বরিশালের। তবে শেষদিকে কিছুটা উত্তেজনা ছড়াল ম্যাচ। যে উত্তেজনা থামিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ তামিম টানা দুই ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে।
অধিনায়ক তামিমের ফিফটির সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ও তৌহিদ হৃদয়দের কার্যকরী ইনিংসের সুবাদে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বরিশাল। টুর্নামেন্টে এটি তাদের প্রথম জয়। রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য মনের মতো ছিল না বরিশালের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ৫ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মেহেদি হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে চাপে পড়তে দেননি তামিম ও পারভেজ ইমন। দুজন মিলে ৪৫ বলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। ইনিংসের নবম ওভারে ৩ চার ও ১ ছয়ের ১৭ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান পারভেজ ইমন। পরে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তৌহিদকে নিয়ে এগিয়ে যান তামিম, ৪৫ বলে তুলে নেন আসরে নিজের প্রথম ফিফটি। আরেক প্রান্ত ধরে রাখা তৌহিদ আউট হন দলীয় ১১২ রানের সময়। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে করেন ১৭ রান, যেখানে ছিল একটি ছয়ের মার। তৌহিদ আউট হওয়ার পর খানিক চাপ আসে বরিশালের ওপর, রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান আফিফ, ইরফান শুক্কুর রানআউট হন ১ রান করে।
তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকা তামিম ১৮ ও ১৯তম ওভারে দুইটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। শেষপর্যন্ত ১ ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে বরিশাল। অপরাজিত ইনিংসে ৬১ বলে ৭৭ রান করেন তামিম। ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি সাজান ১০ চার ও ২ ছয়ের মারে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই রানের জন্য হাঁসফাঁশ করতে থাকেন রাজশাহীর দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত এবং আনিসুল ইসলাম ইমন। আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা শান্ত এদিন ১৯ বল খেলে করতে পেরেছেন ২৪ রান। পাওয়ার প্লে শেষে সপ্তম ওভারের প্রথম বলে সাজঘরে ফিরে যান রাজশাহীর অধিনায়ক।
তিন নম্বরে নেমে বেশি কিছু করতে পারেননি রনি তালুকদার। মেহেদি মিরাজের বোলিংয়ের সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ৮ বলে করেন ৬ রান। অপরপ্রান্তে আরেক ওপেনার আনিসুল ইমন রানের জন্য খাবি খেতে থাকেন। তার ওপর চাপ আরও বাড়ে চার নম্বরে নামা মোহাম্মদ আশরাফুল রানআউট হয়ে ফিরে গেলে।
ইনিংসের দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিসফিল্ড থেকে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ৬ রান করা আশরাফুল। এর আগে দারুণ এক ফ্লিক শটে মিডউইকেট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকান এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। সেই ওভারেই তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান আনিসুল ইমন। প্রথম ম্যাচে ঝড়ো ব্যাটিং করলেও এদিন ৩ চারের মারে ২৭ বলে ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি ইমন। দশ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারানো রাজশাহীর চাপ আরও বাড়ে পরের ওভারে নুরুল হাসান সোহান রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে গেলে। এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন মেহেদি হাসান ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি। হাত খুলে খেলতে থাকেন মেহেদি, একপ্রান্ত আগলে রাখেন ফজলে রাব্বি। দুজনের জুটিতে ৫০ বলে ৬৫ রান পায় রাজশাহী। ইনিংসের ১৯তম ওভারে ৩২ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ফজলে রাব্বি। শেষ ওভারে কামরুল রাব্বির ইয়র্কার লেন্থের ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান মেহেদি। আউট হওয়ার আগে ৩টি ছয়ের মারে ২৩ বলে ৩৪ রান করেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। শেষপর্যন্ত ১৩২ রানে থামে রাজশাহীর ইনিংস।
বরিশালের পক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। এছাড়া আগের ম্যাচের শেষ ওভারে বেধড়ক পিটুনি খাওয়া মেহেদি মিরাজ আজ ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় নিয়েছেন ২টি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহির ঝুলিতে গেছে ১টি করে উইকেট।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ