খোকা ফিরবে/ খোকা ফিরবে কি না ?

প্রকাশিত:রবিবার, ০৩ নভে ২০১৯ ১২:১১

খোকা ফিরবে/ খোকা ফিরবে কি না ?

আয় খোকা আয়। স্বদেশ ডাকছে তাকে। খোকা ফিরবে কী ফিরবে না এ প্রশ্ন দেশের কোটি মানুষের। খোকাদের‌ কোন বয়স থাকতে নেই। আদর, স্নেহ, বাতসল্য ভরা একটি শব্দ খোকা। তাই হয়তোবা ষাট বছর বয়সী সন্তানকে অনেক বাবা-মা খোকা বলে ডাকেন। আমি এমন একজন খোকার কথা বলছি তিনি শুধু বাবা-মা নন। গোটা বাংলাদেশের খোকা। তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনের‌ বীর‌ মুক্তিযুদ্ধা  সাদেক হোসেন খোকা। আমাদের প্রিয় খোকা ভাই। অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর সাবেক মেয়র। বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। গনতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অগ্রদূত। যার রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে বার বার।‌ এমন একজন জনমানুষের নেতা আজ চিকিৎসার্থে দেশ ছেড়ে লাখো যোজন দূরে। নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান‌ ক্যাটারিং হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায়। প্রহর গুনছেন বিধাতার অমোঘ বিধান মৃত্যুর।

প্রচন্ড কষ্ট তার শ্বাস প্রশ্বাসে। ফুসফুসের ক্যানসার এখন কাল হয়েছে। প্রতিদিনি‌ তাকে দেখতে যাচ্ছি। যখনি যাই পাশে বসতে বলেন। দল মত নির্বিশেষে অনেক মানুষ ভীড় করছেন হাসপাতালে।

যতক্ষণ পর্যন্ত তার কথায় স্পষ্টতা ছিল ততোক্ষণ তিনি দেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ব‌্যকুলতা প্রকাশ করেন দেশে ফিরতে না পারার। মানুষের জীবন একটাই। এ জীবনের খানিকটা আকাশ শূন্যতার পরিবৃতে সীমিত রয়েছে প্রত্যেকের। খোকা ভাইর জীবনের এ শূন্যতা ও অপূর্ণতা দেশে না ফিরতে পারার। নবায়নের জন্য ২০১৭ সালে জমা দেয়া তার পাসপোর্ট আটকে দেয় সরকার। ফলে বন্ধ হয়ে যায় তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ। তার স্ত্রীর পাসপোর্ট‌ও নবায়ন করা হয়নি। নিজ দেশ ও মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার অধিকার জন্মগত। দিন শেষে বনের পাখিরাও নীড়ে ফিরে।

তিনি কেন বঞ্চিত হবেন এ অধিকার থেকে।, ফিরতে পারবেন না দেশে। খোকা ভাইয়ের অন্তিম ইচ্ছা দেশের মাটি যেন হয় শেষ শয্যা। দেশপ্রেম সাদেক হোসেন খোকার জীবনের অবিভাজ্য অনুসঙ্গ। দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। দেশের প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার

পর্বত প্রমাণ। সীমাহীন ভালোবাসা মানুষের প্রতি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে তার রয়েছে ঈর্ষনীয় সখ্যতা। এটা তার রাজনৈতিক জীবনের জীবনের চমৎকার একটা বৈশিষ্ট্য।

দু’দশক ধরে দেখে আসছি খোকা ভাইকে। অনেক সুবর্ন মুহূর্ত কেটেছে তার সান্নিধ্যে। একটি কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়াবার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। ক্যান্সারের  বিরুদ্ধে তার‌ চলমান যুদ্ধ প্রত্যখ করেছি অনেকবার। স্লোয়ান ক্যাটারিং হাসপাতালে ইন্ট্রাভেনাস কেমোথেরাপি চলাকালে আমরা গল্প করেছি ঘন্টার পর ঘন্টা। ঝুলন্ত ব্যাগ থেকে  পড়ন্ত ঔষধের ফোঁটা দেখে মনে হতো ছত্রী সেনারা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আকাশ থেকে নেমে আসছে তার দেহে। প্রবল আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্যের অধিকারী খোকা ভাই জীবন যুদ্ধে আজ বড় বেশি ক্লান্ত। বইতে পারছেন না জীবনের ভাড়। বাংলাদেশের  রাজনৈতিক আকাশে মেঘ জমে উঠছে। দূরদর্শিতা থেকে একথা তিনি বলেছেন অনেকদিন। আকাশের সব মেঘে বৃষ্টি নেই সত্য। কিন্তু বৃষ্টি ভরা মেঘ দেখলেই চেনা যায়।  খোকার অন্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখা এ মেঘ বাংলাদেশের জমিনে বৃষ্টি ঝড়াবেই।

হয়তোবা সেই বৃষ্টিতে ভিজবে না তার দেহ, তার মন। তারপরও খোকা ফিরবেন। খোকাকে ফিরতেই হবে স্বদেশে। মৃত্যুকে জয় করে যেভাবে ফিরেছেন একাত্তরে।

 

লিখেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ খান ।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •