গাছ যখন ক্যানভাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৮ নভে ২০২১ ০৯:১১

গাছ যখন ক্যানভাস

নিউজ ডেস্কঃ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গাছে এই ছবিগুলো এঁকেছেন চারুকলার শিক্ষার্থী সোহাগ কুমার মিশ্র

সবুজে ঘেরা পিচঢালা রাস্তা দিয়ে আপনমনে হাঁটছেন, হঠাৎ সামনে দেখলেন স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাজির। কিন্তু একটু এগোতেই ভ্রম ভাঙবে আপনার—যাকে আপনি কবিগুরু বলে ধারণা করেছিলেন, সেটি আসলে একটা ছবি মাত্র! রাস্তার পাশের গাছে ছবিটাকে এমনভাবে আঁকা হয়েছে যেন নির্দিষ্ট এক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে মনে হবে যেন গাছ ফুঁড়ে জীবন্ত মানুষটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

এমনটাই দেখা যাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায়। শুধু কবিগুরু নন, জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর এক কাল্পনিক অপ্সরারও ঠাঁই হয়েছে সেখানে।

এধরনের ছবি আঁকাকে ‘ত্রিমাত্রিক অঙ্কন’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছে এই ছবিগুলো এঁকেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগ কুমার মিশ্র। তিনি বর্তমানে চারুকলা বিভাগে অধ্যয়নরত।

‘করোনার দীর্ঘ ঘরবন্দী সময়ে ইচ্ছা হয়েছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। সেই থেকেই এই ভাবনা মাথায় আসে’—জানান সোহাগ। আর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতেই তিনি রঙতুলি কিনে নিয়ে নেমে পড়েন সে ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে। বহু বছরের পুরনো কিছু রঙচটা গাছ যেন রঙ ফিরে পেয়েছে সোহাগের তুলির ছোঁয়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটাকে একটা বিশাল গ্যালারি হিসেবে দেখেন তিনি,  যেখানে গাছগুলোই হয়ে উঠেছে তার ক্যানভাস।  তেমনটা ভেবেই তিনি এঁকেছেন তিনটি ত্রিমাত্রিক চিত্র। এর মধ্যে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেনসিং (পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন) এর সামনে ও অন্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের গাছে।

প্রকৃতি আর শিল্পের মেলবন্ধনে দারুণ কিছু হবে ধারণা করেছিলেন তিনি। হয়েছেও তাই। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা দর্শনার্থী, সবাই প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে মুগ্ধতা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু ফেসবুক পেজেও সমাদৃত হয়েছে সোহাগের শিল্পকর্ম।

পরবর্তীতে এমন কাজ আরও করার ইচ্ছা রাখেন সোহাগ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটিকে তিনি রঙিন করে তুলতে চান রঙতুলির ছোঁয়ায়।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •