ঘুর্ণিঝড় ইয়াস তান্ডবে শ্রীহীন কুয়াকাটা সৈকত

প্রকাশিত:বুধবার, ৩০ জুন ২০২১ ০২:০৬

ঘুর্ণিঝড় ইয়াস তান্ডবে শ্রীহীন কুয়াকাটা সৈকত

আনোয়ার হোসেন আনু,কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥
ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্ণিমার জো- এর প্রভাবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৈকতের প্রায় ৫০-৬০ ফুট ভূ-ভাগের মাটি ঢেউয়ের তোরে ক্ষয় হয়েছে। স্থানীয়দের মতে সমুদ্রের শ্রোতের তোড়ে সৈকতের বালু ধুয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। এতে দুই থেকে তিন ফুট নিচু হয়ে গেছে সৈকত এলাকা। প্রচন্ড ঢেউয়ের তান্ডবে সৈকত সংলগ্ন আবাসিক হোটেল কিংস, ঝিুনুক মার্কেট, শুটকী মার্কেট, স্টুডিও মার্কেট, ফিস ফ্রাইয়ের দোকান, সরদার মার্কেটসহ সৈকতের প্রায় ৩ শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কিছু কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে পারলেও বেশিরভাগ দোকানপাট সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ্য এসব পর্যটনমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটের মধ্যেও পুনরায় ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিডরের পর জোয়ারের পানিতে নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে রেকর্ড সৃস্টি করেছে ঘুর্ণিঝড় ইয়াস। শ্রীহীন হয়ে পরেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা। উপকুলীয় এলাকার কোথাও কোথাও বেরিবাধেঁর উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। আবার কোন কোন এলাকায় ভাঙ্গা বেরীবাধঁ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে লোকালয়। স্থানীয়দের দাবী সৈকত রক্ষায় অস্থায়ী প্রকল্প আর নয়। প্রয়োজন স্থায়ী প্রকল্প। টেকসই বাধঁ ও প্রকল্পই পারে সৈকতকে রক্ষা করতে।
ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ নং পোল্ডারের বেরীবাধেঁর বাহিরে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড, লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউনিয়নের ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও কাউয়ার চরসহ সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকা তলিয়ে গিয়ে পানি বন্দি হয়ে পরে কয়েক শত পরিবার। ইয়াসের তান্ডব না থাকলেও বুদ্ধ পুর্ণিমার জো-এর প্রভাবে এখনও এসব এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে সৈকত সুরক্ষা প্রকল্পের ১৫’শ মিটার জিও টিউবের অনেকাংশই বালুর মধ্যে দেবে গিয়ে বিশাল আকৃতির গর্তের সৃস্টি হয়েছে। ঢেউয়ের ঝাপটায় ওভেন ও নন ওভেন জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে গেছে। এতে হুমকীর মুখে পরেছে সৈকত সুরক্ষায় অস্থায়ী এ প্রকল্প। অপরদিকে ঢেউয়ের তান্ডবে সমুদ্রের করাল গ্রাসে চলে গেছে সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শত শত গাছ। এতে করে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা। আম্ফানের পর ইয়াস তান্ডবে বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুরণ হবার নয় এমনটাই জানিয়েছে পটুয়াখালী বনবিভাগ।
সৈকতের ফটোগ্রাফার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস শেখ বলেন, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেকের দোকানপাট ভেঙ্গে সমুদ্র গর্ভে চলে গেছে। ফিস ফ্রাই মার্কেটের দোকানদার মাসুদ বলেন, ফিস ফ্রাইয়ের ৩০-৩৫টি দোকান জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন, শুটকী মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
সৈকত লাগোয়া কিংস হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক মোঃ কলিম মাহমুদ বলেন, আম্ফানে তার হোটেলের আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই আবার ইয়াস তান্ডবে কিংস হোটেলটির বেশির ভাগ অংশই ভেঙ্গে গেছে। এতে হোটেল কর্তৃপক্ষের ব্যাপক লোকসান হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ঝড় বন্যায় কুয়াকাটা সৈকতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাউবো কর্তৃপক্ষ সৈকত সুরক্ষায় জিও টিউব দিয়ে অস্থায়ী ভাবে সৈকত রক্ষার ব্যার্থ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও তেমন একটা কাজে আসছে না। তিনি বলেন, কুয়াকাটাকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন যুগোপোযোগী স্থায়ী প্রকল্প। যে প্রকল্প সৈকতকে রক্ষা করবে। অন্যথায় অচিরেই কুয়াকাটা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
এবিষয়ে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হালিম সালেহী জানান, সৈকত সুরক্ষায় জিও টিউব প্রকল্প একটি অস্থায়ী গভেষনা মুলক প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে সৈকত রক্ষায় তারা কিছুটা হলেও সফল হয়েছেন। তিনি আরও জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমুদ্র গভেষনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গভেষনা রিপোর্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,256 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •